পাবনায় দাদি-নাতনির মরদেহ উদ্ধার, রহস্যময় হত্যাকাণ্ড

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৩ বার
পাবনায় দাদি-নাতনির মরদেহ উদ্ধার, রহস্যময় হত্যাকাণ্ড

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

পাবনার ঈশ্বরদীতে হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের ভবানিপুর উত্তরপাড়ার এক বাড়ি থেকে দাদির মরদেহ এবং পাশের সরিষাক্ষেত থেকে নাতনির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে এই দুই নিহতের দেহ উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মমিনুজ্জামান।

নিহতরা হলেন ৬৫ বছর বয়সী সুফিয়া খাতুন এবং তার ১৫ বছর বয়সী মেয়ে জামিলা আক্তার। তাদের পরিবার কেবল এই দুইজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। স্থানীয়রা জানায়, কিশোরীর বাবা ঢাকায় থাকায় দাদী ও নাতনি বাড়িতেই ছিলেন। ঘটনাস্থল সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার মধ্যরাতে বাড়ি থেকে হঠাৎ কান্নাকাটির আওয়াজ শোনা যায়। স্থানীয়রা বেরিয়ে আসলেও, কান্না থেমে যাওয়ায় তারা আবার ফিরে যান। এরপর শনিবার সকালে বাড়ির উঠানে সুফিয়া খাতুনের রক্তাক্ত দেহ পাওয়া যায়। পরে এক পরিশ্রমী খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে সরিষাক্ষেত থেকে বিবস্ত্র অবস্থায় কিশোরী জামিলার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, নাতনিকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে দাদিকে হত্যা করা হয়েছে। পরে নাতনিকে ধর্ষণ করার পর হত্যা করে সরিষাক্ষেত ফেলা হয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে পুলিশের তদন্ত শুরু হয়েছে। ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার বলেন, “এই বিষয়টি নিয়ে পুলিশ কাজ করছে। তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয়রা জানান, এলাকায় সাধারণত শান্ত পরিবেশ থাকলেও এই ঘটনায় সবাই ভীত ও উদ্বিগ্ন। গ্রামের মানুষ মনে করছেন, এমন নৃশংসতা আগে কখনো ঘটেনি। তারা জানাচ্ছেন, স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ দ্রুত ঘটনা তদন্ত করে অপরাধীদের গ্রেফতার করবে, যেন নিরাপত্তার বার্তা পুনঃস্থাপন করা যায়।

এ ঘটনায় স্থানীয় ও জেলা পর্যায়ের প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পুলিশ এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়েছে এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের খোঁজাখুঁজির পাশাপাশি সমস্ত প্রমাণ সংগ্রহে নিয়োজিত। তদন্তকারীরা বলছেন, হত্যাকাণ্ডের পেছনে ব্যক্তি কিংবা দলগত উভয় প্রেক্ষাপটের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে, দাদির হত্যার সঙ্গে সরাসরি নাতনির হত্যাকাণ্ড জড়িত থাকতে পারে।

এ ঘটনায় মানবাধিকার সংস্থাগুলোরও দৃষ্টি আকর্ষণ হয়েছে। শিশু ও কিশোরী সুরক্ষার দায়িত্বশীল সংস্থাগুলি সতর্কবার্তা দিয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। তারা স্থানীয় প্রশাসনকে আরও কার্যকর ও দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এমন ধরনের নৃশংস ঘটনা কেবল পরিবারের জন্য নয়, পুরো সমাজের জন্য গভীর ধাক্কা। শিশু ও কিশোরী সুরক্ষা, স্থানীয় নিরাপত্তা এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রশাসনের দায়ভার ও গুরুত্ব আরও বেড়ে গেছে। নিরাপত্তার অভাবে এই ধরনের নৃশংসতা ঘটতে পারে, তাই পুলিশি নজরদারি ও সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি।

নিহতদের স্বজন ও প্রতিবেশীরা শোকাহত। তারা সরকারের প্রতি দ্রুত বিচার দাবি করছেন। পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, দাদি ও নাতনিকে হত্যার ঘটনায় পুরো ইউনিয়নে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন স্থানীয় প্রশাসনের প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ সতর্ক হয়ে আরও কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তদন্তকারীরা বলছেন, হত্যা ও ধর্ষণের ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি তথ্য খুঁজে বের করা হবে। প্রমাণ সংগ্রহ, সাক্ষী জিজ্ঞাসাবাদ এবং এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধীদের শীঘ্রই গ্রেফতার করা হবে এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের দণ্ড নিশ্চিত করা হবে।

প্রাণঘাতী এই ঘটনায় পুরো এলাকার মানুষ এবং জাতীয় পর্যায়ের দর্শকরা শোকাহত। বিশেষ করে শিশু সুরক্ষার ক্ষেত্রে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মানুষ চাইছে, প্রশাসন যেন দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে পুনরায় এমন নৃশংসতা না ঘটে তা নিশ্চিত করে।

এভাবে, পাবনার ঈশ্বরদীতে দাদি ও নাতনির হত্যাকাণ্ড দেশের নৃশংসতা ও শিশু নিরাপত্তার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। পুলিশি তদন্তের পাশাপাশি সমাজ ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা ও সচেতনতা বাড়ানোর দায়িত্ব বেড়ে গেছে। এই ঘটনায় সমাজকে একটি শক্ত বার্তা দেওয়া হচ্ছে যে, অপরাধীকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত