ঢাবিতে ইফতারে গরুর পরিবর্তে মুরগি, শিক্ষার্থী ও শিক্ষক মহলে ক্ষোভ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬
  • ২১ বার
ঢাবি ইফতারে গরুর মাংস দাবি

প্রকাশ: ০২ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আগামী ৪ মার্চ অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ইফতার মাহফিলের নৈশভোজে গরুর মাংসের পরিবর্তে মুরগির মেনু রাখার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক মহলে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে চূড়ান্তভাবে অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রত্যাশিত হিসেবে উল্লেখ করে বাংলা‌দেশি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী ঢাবি শিক্ষকরা এবং ছাত্রসমাজ প্রশাসনের প্রতি তাদের পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছেন।

ঢাবি সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান, যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম ও অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকারের স্বাক্ষরিত চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলে আয়োজিত ইফতার মাহফিলের প্রস্তুতি গ্রহণকে তারা আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করেছেন। তবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে জানা গেছে, নৈশভোজের মেন্যু থেকে গরুর মাংস বাদ দিয়ে শুধুমাত্র মুরগি রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ঢাবির ঐতিহ্য এবং শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশার আলোকে, ইফতার ও অন্যান্য বিশেষ ভোজ অনুষ্ঠানে গরুর মাংসকে সর্বদা একটি প্রধান ও জনপ্রিয় খাবার হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। চিঠিতে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের এই ন্যায্য দাবি উপেক্ষা করা হলে তাঁদের মধ্যে অসন্তোষ, হতাশা এবং ইফতারের আনন্দ হ্রাস পেতে পারে। এছাড়া, গরুর মাংস পরিবেশনে অতিরিক্ত খরচের বিষয়টিও তেমন বড় সমস্যা নয়। তাই শিক্ষার্থীদের আবেগ ও চাহিদাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নৈশভোজের মেন্যু পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, প্রধান মেন্যুতে গরুর মাংস রাখা উচিত, আর যারা গরু খেতে চায় না তাদের জন্য মুরগির বিকল্প রাখা যেতে পারে। শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজনকৃত উৎসবমুখর পরিবেশে কোনো বৈষম্য বা অসন্তোষ সৃষ্টি না হওয়া জরুরি। বিশ্ববিদ্যালয়ের হল প্রশাসনের উচিত এই দাবিকে যথাযথভাবে গুরুত্ব দিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

শিক্ষক ও ছাত্র সমাজের এই সমন্বিত দাবির পেছনে রয়েছে একদিকে ঐতিহ্য, আরেকদিকে শিক্ষার্থীদের খাদ্যসংক্রান্ত প্রত্যাশার গুরুত্ব। বিশ্ববিদ্যালয় শৃঙ্খলা, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং অনুষ্ঠান পরিচালনার দিক বিবেচনায়, নৈশভোজের মেন্যুতে গরুর মাংস অন্তর্ভুক্ত করা শিক্ষার্থীদের উদ্দীপনা এবং অনুষ্ঠানকে সমৃদ্ধ করতে পারে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই ধরনের ক্ষোভের প্রসার শুধুমাত্র ইফতার মাহফিলের আনন্দকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে না, বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক ও শিক্ষাজীবনের মনোভাবকেও প্রভাবিত করতে পারে।

ঢাবি সাদা দলের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যেন অভিভাবকের মতো শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবিকে গুরুত্ব দেয় এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এর মধ্যে রয়েছে নৈশভোজে গরুর মাংস অন্তর্ভুক্ত করা, মুরগির বিকল্প রাখা এবং খাবারের বৈচিত্র্য বজায় রাখা। শিক্ষার্থীদের অনুভূতিকে সম্মান জানানো এবং সামাজিক ও শিক্ষামূলক পরিবেশ রক্ষা করা এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।

উল্লেখযোগ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইফতার মাহফিল শুধুমাত্র খাবারের আয়োজন নয়, এটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে সহমর্মিতা, একতা এবং সামাজিক বন্ধন গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান। তাই মেন্যু সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থীদের চাহিদা ও মানসিকতা বিবেচনায় নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। চিঠিতে শিক্ষকরা আশা প্রকাশ করেছেন, হল প্রশাসন শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি মেনে নেবে এবং ইফতার মাহফিলকে আনন্দময় ও ঐতিহ্যবাহীভাবে আয়োজন করবে।

এই ঘটনার মাধ্যমে দেখা যাচ্ছে, শিক্ষার্থীদের খাদ্যসংক্রান্ত প্রত্যাশা ও ঐতিহ্যবাহী মূল্যবোধকে প্রশাসন যেন উপেক্ষা না করে, বরং তা পূরণে উদ্যোগী হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক ও শিক্ষামূলক পরিবেশ আরও সমৃদ্ধ হবে এবং ইফতার মাহফিল শিক্ষার্থীদের জন্য আনন্দময় অভিজ্ঞতায় পরিণত হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত