প্রকাশ: ০২ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
রাজশাহীর কাটাখালী থানার শ্যামপুর পশ্চিমপাড়া এলাকায় রোববার রাত ১১টার দিকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বিডি ফুড ও আকিজ ফুডের ডিপোতে আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ার ফলে গুদামের বিপুল পরিমাণ খাদ্যসামগ্রী সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুনের সূত্রপাত মাত্র কিছুক্ষণের মধ্যেই গুদামের ভিতরে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং মুহূর্তের মধ্যে আগুন ভয়াবহ আকার ধারণ করে।
স্থানীয়রা জানান, আগুনের তীব্রতা এতটাই ছিল যে কয়েক মিনিটের মধ্যে লাল শিখার চিমটি চারদিকে ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের তিনটি ইউনিট কাজ শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টা প্রচেষ্টার পরই আগুনকে আংশিক নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। কিন্তু আগুন নিয়ন্ত্রণে আসলেও গুদামে রাখা বিপুল খাদ্যপণ্য পুড়ে যাওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কোটি টাকারও বেশি।
ডিপোর মালিক পলাশ জানান, গুদামে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্যাকেটজাত খাদ্যপণ্য ছিল, যা আগুনে পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। তিনি বলেন, “আমাদের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, প্রায় দুই কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। শুধু ব্যবসা নয়, স্থানীয় মানুষের জন্য সরবরাহের পরিকল্পিত খাদ্যপণ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, আগুনের সময় এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ দ্রুত সরে গেছেন, কিন্তু সেই সঙ্গে কেউ কেউ নিজেরা আগুন নেভানোর চেষ্টা করেছেন। তীব্র উত্তাপ ও ধোঁয়ার কারণে অনেকেই গ্যাসমাস্ক বা পানি ব্যবহার করে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। পাশাপাশি আশেপাশের গুদাম ও বসতঘরেও আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকায় স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত রেসকিউ ব্যবস্থা নেয়।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা গেলেও তারা অগোচরিত থাকায় আগুনের সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে প্রাথমিকভাবে এটি এক দুর্ঘটনা হিসেবে ধরা হচ্ছে। কিছু প্রত্যক্ষদর্শী এবং স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, গুদামের বৈদ্যুতিক সংযোগে ত্রুটি বা অযাচিত তাপের কারণে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনও সক্রিয় হয়েছে। কাটাখালী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে জনসাধারণকে নিরাপদ স্থানে সরানোর পাশাপাশি এলাকার যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে। স্থানীয়রা বলেন, আগুন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় প্রাথমিক দমকলের ব্যবস্থা ছাড়া ক্ষতি আরো ব্যাপক হতে পারত।
এ ধরনের অগ্নিকাণ্ড শুধু ব্যবসায়িক ক্ষতি নয়, বরং স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও প্রভাব ফেলে। শ্যামপুর পশ্চিমপাড়া এলাকার মানুষ জানান, এই এলাকায় খাদ্যপণ্যের সরবরাহ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর জন্য ডিপোর উপর নির্ভরতা বেশি। অগ্নিকাণ্ডের কারণে এখন এই সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা বলেন, “বাজারে খাদ্যসামগ্রীর দাম সাময়িকভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং লোকজনের দৈনন্দিন জীবনেও সমস্যা হবে।”
রাজশাহীর কাটাখালীর এই অগ্নিকাণ্ড স্থানীয় প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও ডিপোর মালিকদের মধ্যে সমন্বয় এবং দ্রুত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার গুরুত্বও তুলে ধরেছে। বিশেষ করে খাদ্যসামগ্রী সংরক্ষণ ও গুদাম পরিচালনায় নিরাপত্তা মানদণ্ড বজায় রাখা, অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা ও নিয়মিত তদারকি অপরিহার্য।
উল্লেখ্য, কাটাখালী থানা এলাকা রাজশাহীর একটি ব্যবসায়িক ও আবাসিক অঞ্চলে সংযুক্ত। সেখানকার ডিপোগুলো স্থানীয় বাজারে সরবরাহের মূল উৎস। তাই এ ধরনের ঘটনা স্থানীয় অর্থনীতি ও মানুষের জীবনযাত্রায় সরাসরি প্রভাব ফেলে। ভবিষ্যতে এই ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজন যথাযথ প্রশিক্ষণ, অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আগুন নেভানোর সরঞ্জাম এবং নিয়মিত তদারকি।
রাজশাহী অঞ্চলে এই ধরনের আগুন লাগার ঘটনা নতুন নয়। তবে কাটাখালীতে রোববার রাতের ঘটনা আকারে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণে উল্লেখযোগ্য। ডিপোর মালিক ও স্থানীয়রা আশা করছেন, প্রশাসন দ্রুত পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে ক্ষয়ক্ষতি কমানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।