প্রকাশ: ০২ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুর মুক্তাদির। সোমবার (২ মার্চ) সচিবালয়ে বাংলাদেশের নিত্যপ্রয়োজনীয় এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে মন্ত্রী এ প্রতিশ্রুতি দেন।
বৈঠকে ভারতের হাইকমিশনার দুই দেশের মধ্যে শক্তিশালী বাণিজ্যিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, নতুন সরকার বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে আরও মজবুত করতে আগ্রহী এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়ে আলাপ হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ইতিমধ্যেই প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলারের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চলছে, যার মধ্যে বাংলাদেশের আমদানি ৯.৫ বিলিয়ন ডলার এবং রপ্তানি ১.৫ বিলিয়ন ডলার।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুর মুক্তাদির বৈঠকে উল্লেখ করেন, এই বিশাল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরও এগিয়ে নিতে ডিজিটাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার ও প্রযুক্তির আদান-প্রদানের পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা হবে। বিশেষ করে বন্ধ থাকা বর্ডার হাটগুলো পুনরায় চালু করা এবং ল্যান্ড বর্ডারগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয় গুরুত্বসহকারে আলোচনা করা হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, ভারতের সাবরুমে নির্মিত নতুন ল্যান্ড পোর্ট বা বন্দর ব্যবহারের বিষয়ে ভারতের পক্ষ থেকে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়া বেনাপোলসহ অন্যান্য স্থলবন্দরগুলোর কার্যক্রম আরও গতিশীল করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এগুলো বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের মধ্যে পণ্যবাহী নৌ-চলাচল, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম এবং ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও মজবুত হবে।
এছাড়া বৈঠকে এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) থেকে উত্তরণের সময়সীমা পেছানোর বিষয়ও আলোচনার বিষয় ছিল। এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) ইতিমধ্যেই জাতিসংঘে আবেদন করেছে এবং বিষয়টি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে হরমোজ প্রণালীতে নৌ-চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, হরমোজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌ-রুট। এটি দীর্ঘমেয়াদে বন্ধ থাকলে জাহাজ ভাড়া বৃদ্ধি পাবে, যার প্রভাব পণ্যের মূল্যের ওপর পড়বে। তবে তিনি আশ্বস্ত করেন, বর্তমানে কোনো নিত্যপণ্য বা জ্বালানি আমদানিতে সরাসরি কোনো শঙ্কার কারণ নেই এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
খন্দকার আবদুর মুক্তাদির বলেন, হাইকমিশনারের সঙ্গে আজকের পরিচিতি সভা ও আলোচনা একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে ধরা হচ্ছে। এই আলোচনা দুই দেশের বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা দূর করতে এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে আরও নিত্যপণ্য, প্রযুক্তি এবং অবকাঠামোগত সহযোগিতার মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।
বৈঠকে দুই পক্ষই দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তা, কৃষি পণ্য রপ্তানি এবং প্রযুক্তি খাতের সম্প্রসারণে ভারতীয় বিনিয়োগ ও সহযোগিতা বাড়ানো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক শুধু ব্যবসায়িক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে বর্ডার হাট, স্থলবন্দর এবং লজিস্টিক সুবিধা সম্প্রসারণে নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হবে যা সাধারণ মানুষের ব্যবসা ও জীবনযাত্রাকে সহজ করবে।
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং হরমোজ প্রণালীতে সম্ভাব্য প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও বাণিজ্যমন্ত্রী আশাবাদী, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ওপর তা দীর্ঘমেয়াদে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না। তিনি জানান, সরকারের পর্যবেক্ষণ ও প্রস্তুতি থাকায় নিত্যপণ্য সরবরাহে কোনো সমস্যার আশঙ্কা নেই।
আজকের বৈঠককে বাংলাদেশের বাণিজ্য নীতি ও ভারতের বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন খন্দকার আবদুর মুক্তাদির। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের বৈঠক এবং সৌজন্য সাক্ষাৎ দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস ও সহযোগিতার ভিত্তি আরও মজবুত করবে। আমরা আশা করি, এটি দীর্ঘমেয়াদে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
উল্লেখযোগ্য যে, বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণের জন্য ভারত এক গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। বর্ডার হাট পুনরায় চালু করা, স্থলবন্দর কার্যক্রম গতিশীল করা, ডিজিটাল এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং নিত্যপণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করাই এই দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণের মূল উদ্দেশ্য।