ঢাকাসহ পাঁচ বিভাগে বৃষ্টির সম্ভাবনা আজ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬
  • ১১ বার
ঢাকাসহ পাঁচ বিভাগে বৃষ্টি

প্রকাশ: ০২ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আবহাওয়ার পরিবর্তনের আভাস দিচ্ছে সর্বশেষ পূর্বাভাস। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আজ সোমবার রাজধানী ঢাকাসহ খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু–এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে দেশের বাকি অঞ্চলগুলোতে আংশিক মেঘলা আকাশ থাকতে পারে, তবে সামগ্রিকভাবে আবহাওয়া শুষ্ক থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও রাতের দিকে সামান্য কমতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ, যা ভোরের দিকে হালকা শীতল অনুভূতি সৃষ্টি করতে পারে।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, মৌসুম পরিবর্তনের এই সময়ে এমন বিচ্ছিন্ন বৃষ্টি অস্বাভাবিক নয়। বিশেষ করে দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে আর্দ্রতা বেশি থাকায় স্থানীয়ভাবে মেঘ সঞ্চারিত হয়ে স্বল্পস্থায়ী বৃষ্টিপাত ঘটতে পারে। একই সঙ্গে বজ্রপাতের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তাই খোলা মাঠে কাজ করা কৃষক, নির্মাণশ্রমিক কিংবা যেসব মানুষ দীর্ঘ সময় বাইরে অবস্থান করেন, তাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সিনপটিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণে জানা গেছে, একটি লঘুচাপের বর্ধিতাংশ বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ রয়েছে দক্ষিণ বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে, যার বর্ধিতাংশ বিস্তৃত হয়ে গেছে উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত। এই আবহাওয়াগত বিন্যাসই মূলত আকাশে মেঘের আনাগোনা এবং বিচ্ছিন্ন বৃষ্টির পেছনে ভূমিকা রাখছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে বায়ুমণ্ডলের নিম্নস্তরে আর্দ্রতা জমে এবং তা স্থানীয়ভাবে বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি করতে সহায়তা করে।

গতকাল রবিবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে কুমারখালী এলাকায়, যেখানে পারদ উঠেছিল ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। অন্যদিকে আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে রংপুর অঞ্চলে, যেখানে তাপমাত্রা নেমে আসে ১৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এই পার্থক্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়াগত বৈচিত্র্যকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, উত্তরাঞ্চলে শুষ্ক ও তুলনামূলক ঠান্ডা বাতাস প্রবাহিত হওয়ায় সেখানে তাপমাত্রা কম থাকে, অন্যদিকে দক্ষিণাঞ্চলে সমুদ্রঘেঁষা আর্দ্র পরিবেশের কারণে তাপমাত্রা কিছুটা বেশি অনুভূত হয়।

রাজধানীর আবহাওয়ার বিশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আজ ভোর ৬টায় ঢাকায় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৮৪ শতাংশ, যা বাতাসে আর্দ্রতার উপস্থিতি নির্দেশ করে এবং দিনের মধ্যে মেঘ গঠনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে। ঢাকায় বাতাস পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৮ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে প্রবাহিত হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। এই বায়ুপ্রবাহ তাপমাত্রা স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করলেও আর্দ্রতার মাত্রা বেশি থাকলে গরম অনুভূতি কিছুটা বাড়তে পারে।

আবহাওয়া বিশ্লেষকদের মতে, মার্চ মাস সাধারণত ঋতু পরিবর্তনের সূচনাকাল হিসেবে বিবেচিত হয়। শীতের প্রভাব ধীরে ধীরে কমে আসে এবং গ্রীষ্মের পূর্বাভাস দেখা দিতে শুরু করে। এ সময় স্বল্পস্থায়ী বৃষ্টি, বজ্রপাত ও দমকা হাওয়া প্রায়ই দেখা যায়। বিশেষ করে বিকেলের দিকে মেঘ জমে হঠাৎ বৃষ্টি হওয়া এই সময়ের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। কৃষি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ধরনের বৃষ্টি বোরো ধান ও অন্যান্য ফসলের জন্য উপকারী হতে পারে, তবে বজ্রপাত হলে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কাও থাকে।

সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে আবহাওয়ার এমন পরিবর্তনের প্রভাবও কম নয়। কর্মজীবী মানুষদের যাতায়াত, শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাওয়া, এমনকি খোলা আকাশের নিচে আয়োজিত অনুষ্ঠান—সবকিছুতেই আবহাওয়ার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। হঠাৎ বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় ছাতা বা রেইনকোট সঙ্গে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা। একই সঙ্গে বজ্রপাতের সময় নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আবহাওয়ার স্বাভাবিক ধারা অনেক সময় ব্যাহত হচ্ছে। ফলে আগে যে সময়ে বৃষ্টি হতো না, এখন সে সময়েও বৃষ্টিপাত দেখা যাচ্ছে। আবার কখনো স্বাভাবিক সময়েও বৃষ্টি অনুপস্থিত থাকে। এই পরিবর্তনের ফলে কৃষি, পরিবহন এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে। তাই আবহাওয়ার পূর্বাভাস নিয়মিত অনুসরণ করা এবং সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়া এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে নতুন পূর্বাভাস প্রকাশ করা হবে। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চল ও নদীবন্দরগুলোকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে, যাতে হঠাৎ আবহাওয়ার পরিবর্তনে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে। সামগ্রিকভাবে আজকের দিনটি দেশের বেশির ভাগ অঞ্চলে স্বাভাবিক আবহাওয়ার মধ্যেই কাটবে বলে আশা করা হলেও নির্দিষ্ট কয়েকটি বিভাগে অস্থায়ী বৃষ্টির সম্ভাবনা মানুষের দৈনন্দিন পরিকল্পনায় সামান্য পরিবর্তন আনতে পারে।

পরিবেশবিদরা মনে করেন, আবহাওয়ার এমন ওঠানামা প্রকৃতির স্বাভাবিক চক্রের অংশ হলেও মানুষের সচেতনতা ও প্রস্তুতি থাকলে এর নেতিবাচক প্রভাব অনেকটাই কমানো সম্ভব। তাই আবহাওয়ার পূর্বাভাসকে কেবল তথ্য হিসেবে নয়, বরং দৈনন্দিন জীবন পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত