প্রকাশ: ০২ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার সাম্প্রতিক সময়ে সাইপ্রাসের এক সামরিক ঘাঁটিতে হামলার বিষয়টি কঠোরভাবে সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, ইরান যেসব উপসাগরীয় দেশ এবং অন্যান্য দেশের ওপর হামলা চালিয়েছে, সেই দেশগুলো কোনোভাবেই হামলায় জড়িত ছিল না। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিবিসিকে জানান, ‘এটি ইরানি শাসন ব্যবস্থার অযাচিত ও বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের প্রকাশ, যা আন্তর্জাতিক নীতির পরিপন্থী।’ তিনি আরও স্পষ্ট করেছেন, যুক্তরাজ্য কোনোভাবেই ইরানের ওপর হামলায় জড়িত হয়নি এবং এই হামলার সঙ্গে যুক্ত হয়নি।
ইভেট কুপার এ মন্তব্য করেছেন এমন সময়, যখন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার উল্লেখ করেছেন, যুক্তরাজ্য যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহার করতে অনুমতি দিয়েছে। তবে এটি শুধুমাত্র প্রতিরক্ষামূলক হামলার জন্য, বিশেষ করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের স্থাপনাগুলোতে প্রয়োগের উদ্দেশ্যে। ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, হামলার অনুমোদন কোনো আগ্রাসী নীতি নয়, বরং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে নেওয়া হয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী কুপারকে প্রশ্ন করা হয়, আক্রোতিরি ঘাঁটিতে হামলা কোথা থেকে বা কারা করেছে। এই বিষয়ে তিনি জানান, তার কাছে সম্পূর্ণ তথ্য নেই। তবে মন্ত্রণালয় শীঘ্রই বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করবে এবং তা প্রকাশ করা হবে। তিনি আশ্বাস দেন, ব্রিটিশ সরকার পরিস্থিতি মনিটর করছে এবং ঘাঁটিসহ জোট দেশগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরান এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা কেবল আঞ্চলিক নয়, আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মঞ্চেও প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। সাইপ্রাসে হামলার ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নীতির ওপর প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে বিদেশি নাগরিক ও সামরিক ঘাঁটিগুলোর ওপর আঘাতের ঘটনা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যের স্থির অবস্থান স্পষ্ট করেছে যে, তারা কোনো আগ্রাসী কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করছে না। এই ঘোষণা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সমাধানের সম্ভাবনা ও কূটনৈতিক আলোচনার গুরুত্বকে আরও বেড়ে তুলেছে। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছে, যুক্তরাজ্য সব ধরনের আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে এবং সংঘাত এড়ানোর জন্য সব পক্ষকে আহ্বান জানাবে।
সাইপ্রাসে হামলার প্রেক্ষিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ন্যাটোসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা আশা করছে, এই ধরনের ঘটনা পুনরায় ঘটবে না এবং সব দেশ শান্তিপূর্ণভাবে সমস্যা সমাধান করবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরান যদি এ ধরনের বেপরোয়া অভিযান অব্যাহত রাখে, তবে তা কেবল আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্যও হুমকি সৃষ্টি করতে পারে।
অপরদিকে, বিশ্লেষকরা যুক্তরাজ্যের অবস্থানকে সমর্থনযোগ্য মনে করছেন, কারণ এটি শুধু প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করছে। ব্রিটিশ সরকার আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধতা রক্ষা করে এবং কেবল কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষামূলক উদ্যোগ গ্রহণ করছে।
সংক্ষেপে বলা যায়, সাইপ্রাসে হামলার ঘটনায় ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। যুক্তরাজ্য যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের পক্ষে, এবং কোনোভাবে আগ্রাসন বা হামলায় জড়িত নয়। এই অবস্থান আন্তর্জাতিক মঞ্চে শান্তি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।