প্রকাশ: ০৩ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশের স্বর্ণবাজারে টানা ছয় দফায় দাম বেড়ে ভরি প্রতি স্বর্ণের মূল্য ২২ হাজার ৮৭০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) মঙ্গলবার (৩ মার্চ) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের দাম সামঞ্জস্যের পর নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম এখন ২ লাখ ৭৭ হাজার ৪২৮ টাকা, যা আগের মূল্যের তুলনায় ৩ হাজার ৩২৪ টাকা বেশি। ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম প্রতি ভরি ২ লাখ ৬৪ হাজার ৭৭৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ২ লাখ ২৬ হাজার ৯৮১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮৫ হাজার ৭৪৯ টাকা। এর আগে ২ মার্চ দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, তখন ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ৭৪ হাজার ১০৪ টাকা।
বাজুসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির পেছনে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য ওঠা এবং দেশীয় বাজারের সরবরাহ পরিস্থিতি বিবেচনা করা হয়েছে। চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম ৩৬ বার সমন্বয় করা হয়েছে। যেখানে দাম ২৪ দফায় বৃদ্ধি এবং ১২ দফায় কমানো হয়েছে। ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, তার মধ্যে ৬৪ বার দাম বেড়েছিল এবং ২৯ বার কমানো হয়েছিল।
স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধি হলেও রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৭ হাজার ১৭৩ টাকায়। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৬ হাজার ৮৮২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ৮৯০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৪৩২ টাকা। চলতি বছরে রুপার দাম দেশের বাজারে ২১ বার সমন্বয় করা হয়েছে, যেখানে ১৪ দফায় দাম বৃদ্ধি এবং ৭ দফায় কমানো হয়েছে। ২০২৫ সালে রুপার দাম ১৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল, তার মধ্যে ১০ বার বেড়েছিল এবং ৩ বার কমানো হয়েছিল।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে দেশীয় বাজারের চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণের কারণে স্থানীয় বাজারে মূল্য সমন্বয় প্রয়োজন। স্বর্ণের ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের জন্য দাম বাড়ানো বা কমানো প্রভাব ফেলতে পারে, তাই বাজার পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন জরুরি।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি মুদ্রাস্ফীতি ও বিনিয়োগে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে বেসরকারি ও স্বর্ণ বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। বাজুসের নিয়মিত সমন্বয়ের মাধ্যমে বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
দেশে স্বর্ণ ক্রয়-বিক্রয় মূলত ভর অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। তাই প্রতি ভরির দাম বৃদ্ধি সাধারণ ক্রেতাদের সরাসরি প্রভাবিত করে। বিশেষ করে বিবাহ, পূজা বা বিনিয়োগের জন্য স্বর্ণ কিনে থাকেন দেশীয় নাগরিকরা, তাদের জন্য এই দাম সমন্বয় একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।
মোট কথা, দেশের বাজারে স্বর্ণের টানা ছয় দফা মূল্য বৃদ্ধি চলমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামার সঙ্গে মিল রেখে করা হয়েছে। ক্রেতাদের জন্য সময়মতো তথ্য সরবরাহ এবং বাজার পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।