প্রকাশ: ০৩ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক রিয়াল অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। এসময় উভয়পক্ষ পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং দেশের সমুদ্র নিরাপত্তা, নদী উপকূলীয় অঞ্চল এবং জনসেবা সংক্রান্ত নানা বিষয় নিয়ে আলাপচারিতা করেন।
সাক্ষাতকালে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের দেশপ্রেম এবং পেশাদারিত্বে তাদের নিরলস প্রচেষ্টা বিশেষভাবে প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, সমুদ্র উপকূল এবং নদী তীরবর্তী এলাকায় শান্তি, নিরাপত্তা ও জনগণের স্বার্থে কোস্টগার্ডের অবদান অনন্য। এছাড়া দুর্যোগ মোকাবিলায় জনসেবামূলক কাজ অব্যাহত রাখার জন্য তাদের আরও কার্যক্রম বৃদ্ধির নির্দেশনা দেন। তিনি কোস্টগার্ডকে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধানমন্ত্রী এসময় কোস্টগার্ডের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবহিত হন এবং ভবিষ্যতে এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখার বিষয়ে আশ্বস্ত হন। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, সরকার কোস্টগার্ডের আধুনিকীকরণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সবধরনের সহায়তা প্রদান করবে। বিশেষ করে সমুদ্রপথের নিরাপত্তা, অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধ, পরিবেশ রক্ষা এবং বাণিজ্যিক রুটের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে কোস্টগার্ডের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এ সময় কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক রিয়াল অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক প্রধানমন্ত্রীকে দেশের নৌ ও সমুদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থার বর্তমান অবস্থা এবং বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, উদ্ধার অভিযানে কোস্টগার্ডের অংশগ্রহণের বিষয়ে বিস্তারিত অবহিত করেন। তিনি বলেন, কোস্টগার্ড প্রতিনিয়ত সারাদেশের উপকূলীয় এলাকার জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় তৎপর।
সাক্ষাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল কোস্টগার্ডের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি বিষয়ে আলোচনা। মহাপরিচালক জানান, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নজরদারি, উদ্ধার ও সশস্ত্র প্রতিরক্ষা কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করার কাজ চলছে। প্রধানমন্ত্রী এই পদক্ষেপগুলোকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি দেশের সামরিক ও নিরাপত্তা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং জনগণের আস্থা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
প্রধানমন্ত্রী এসময় সমুদ্র ও নদী নিরাপত্তার পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষা এবং কোস্টগার্ডের মানবিক কার্যক্রমের গুরুত্বেও গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, স্থানীয় জনগণকে সমুদ্র ও নদী ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সচেতন করা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় তাদের সাহায্য করা কোস্টগার্ডের মূল দায়িত্বের মধ্যে অন্যতম।
সাক্ষাতকালে উভয়পক্ষ দেশের সমুদ্রপথ নিরাপত্তা, সীমানা রক্ষা, অপরাধ দমন এবং উদ্ধার কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হন। প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, কোস্টগার্ডের সক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে সামরিক, বাণিজ্যিক এবং পরিবেশগত সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা আরও সহজ হবে।
এই সৌজন্য সাক্ষাৎ প্রধানমন্ত্রীর নীতি ও দৃষ্টিভঙ্গি প্রদর্শন করে যে, বাংলাদেশ কোস্টগার্ডকে শুধু নিরাপত্তা বাহিনী হিসেবে নয়, বরং সমুদ্র ও নদী উপকূলীয় এলাকায় জনসেবা, উদ্ধার ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার দায়িত্বশীল সংস্থা হিসেবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। সাক্ষাৎ শেষে প্রধানমন্ত্রী ও মহাপরিচালক ভবিষ্যতে সমন্বিতভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে একমত হন।