প্রকাশ: ০৩ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
রাজধানীর ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের লতিফ ছাত্রাবাসে সংঘর্ষের ঘটনায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের (ছাত্রদল) সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ছাত্রদলের ওপর যে কোনও হামলার জবাব দেওয়া হবে এবং দায়িত্বশীলদের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে রাকিব এই প্রতিক্রিয়া জানান।
রাকিব বলেন, ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে দেশীয় অস্ত্রধারী শিবিরের সন্ত্রাসীরা লতিফ ছাত্রাবাসের একটি রুমে প্রবেশ করে ছাত্রদল ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এই সংঘর্ষে ছাত্রদলের একজন সহযোদ্ধা গুরুতর আহত হন এবং আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। রাকিব এই হামলাকে ‘প্যাটার্নমেটিক ও প্রজনিত সহিংসতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন এবং জানিয়েছেন, আগামীতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রতিহত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘ছাত্রদলের রক্ত ঝরালে, রক্তের বদলা নেওয়া হবে। গত সাড়ে ১৫ বছরে ছাত্রদলের রক্ত ঝড়েছে। বিগত দেড় বছরে প্রতিটি ক্যাম্পাসে ছাত্রদল মবের শিকার হয়েছে। আজও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এ ছাত্রদলের রক্ত ঝরল, অথচ মোনাফেকরা সোশ্যাল মিডিয়ায় দায় চাপিয়েছে ছাত্রদলের ওপর। অনেক ছাড় দেওয়া হয়েছে, আর ছাড় দেওয়া হবে না।’
ঘটনার প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, একই দিন রাত ১টার দিকে লতিফ ছাত্রাবাসে ছাত্রদল ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। এতে অন্তত ছয় শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন। আহতদের দ্রুত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাদের চিকিৎসা অব্যাহত রয়েছে।
বাংলাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে এমন সহিংসতার ঘটনা নতুন নয়। তবে রাজধানীর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে সংঘটিত এই ঘটনায় বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে। ছাত্রদলের সভাপতির হুঁশিয়ারি অনুযায়ী, এ ধরনের হামলার কোনো নিশ্চয়তা গ্রহণযোগ্য নয় এবং যারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিপন্ন করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এছাড়াও রাকিব বলেছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক সহিংসতার প্রভাব শুধুমাত্র ছাত্রছাত্রীদের উপর সীমাবদ্ধ নয়, বরং পুরো শিক্ষাব্যবস্থাকে প্রভাবিত করে। লতিফ ছাত্রাবাসের এই হামলা শিক্ষার্থীদের মানসিক শান্তি, নিরাপত্তা ও পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটিয়েছে। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন যে, ছাত্রদল তাদের সহযোদ্ধাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক জীবন ফিরে পেতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।
রাজধানীর এই সংঘর্ষ বিষয়ক সংবাদ সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন পক্ষ থেকে নানামুখী প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে রাজনৈতিক সহিংসতা শিক্ষার্থীদের মানসিক ও সামাজিক নিরাপত্তা বিপন্ন করছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে সমাজের বিভিন্ন অংশ।
ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব স্পষ্ট করেছেন, হামলার পেছনে যে সংগঠনগুলোর হাত আছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং প্রতিষ্ঠানের সার্বিক শৃঙ্খলা রক্ষা করা।’ তিনি সতর্ক করেছেন যে, এ ধরনের সহিংসতা এলে ছাত্রদল কোনো ছাড় দেবে না এবং সবরকম জবাবদিহি করা হবে।
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক সংঘর্ষ নতুন নয়। তবে লতিফ ছাত্রাবাসের এই ঘটনায় শিক্ষার্থীরা গুরুতর আহত হওয়ার পাশাপাশি মানসিকভাবে আঘাত পেয়েছেন। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা সরকারের কাছে দাবি করেছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক সহিংসতা থেকে মুক্ত রাখা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের এই দৃঢ় হুঁশিয়ারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে রাজনৈতিক সংঘর্ষের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের প্রতিফলন। রাকিবুল ইসলাম রাকিবের বক্তব্য অনুযায়ী, ছাত্রদল তাদের নেতাকর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে আনার জন্য সমস্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।