প্রকাশ: ০৩ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক ও জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবর–এর বিরুদ্ধে দায়ের করা মদের মামলার রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত। চার বোতল বিদেশি টাকিলা মদ লাইসেন্স ছাড়া নিজের হেফাজতে রাখার অভিযোগে করা এ মামলায় আগামী ৯ মার্চ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
মঙ্গলবার শুনানি শেষে ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আয়েশা আক্তার মৌসুমীর আদালত এ তারিখ ধার্য করেন। আদালত সূত্র জানায়, এদিন মামলায় দুইজন সাক্ষী তাদের জবানবন্দি দেন এবং আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের জেরা সম্পন্ন করেন। জেরা শেষ হওয়ায় আদালত পরবর্তী ধার্য তারিখে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন ও রায় ঘোষণার সিদ্ধান্ত দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ ওয়ালিউল ইসলাম তুষার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির উপপরিদর্শক মো. জামাল উদ্দিন এবং পুলিশ পরিদর্শক শাহিনুর ইসলাম আদালতে সাক্ষ্য দেন। তাদের জবানবন্দি ও জেরা শেষে আদালত রায়ের দিন ধার্য করেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ৬ জুন রাজধানীর তেজগাঁও থানাধীন পান্থপথ এলাকায় অবস্থিত আর্ব এন্টারটেইনমেন্টের কার্যালয় থেকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের একটি মামলায় আসিফ আকবরকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তার অফিস কক্ষে চার বোতল বিদেশি টাকিলা মদ পাওয়া যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। পরে মদগুলো পরীক্ষার জন্য মাদকদ্রব্য অধিদফতরে পাঠানো হয়।
লাইসেন্স ছাড়া বিদেশি মদ নিজের দখলে রাখার অভিযোগে ২০১৯ সালের ২৩ জুলাই সিআইডি পুলিশের সাইবার তদন্ত শাখার উপপরিদর্শক প্রশান্ত কুমার সিকদার তেজগাঁও থানায় মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে একই বছরের ১৩ অক্টোবর সিআইডির উপপরিদর্শক মো. জামাল উদ্দিন তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এরপর দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর আদালত তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।
বিচার চলাকালে মামলায় তিনজন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। আদালত পর্যবেক্ষণে রেখেছেন তদন্ত প্রক্রিয়া, আলামত জব্দ এবং পরীক্ষার প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন দিক। আসামিপক্ষ শুরু থেকেই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে এবং দাবি করছে, মামলাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট সময়ে তার বিরুদ্ধে একাধিক আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে এ মামলাটিও একটি।
আসিফ আকবর দেশের সংগীতাঙ্গনে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ। একাধিক জনপ্রিয় গান দিয়ে তিনি শ্রোতাদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে তিনি ক্রিকেট প্রশাসনের সঙ্গেও যুক্ত হয়েছেন। ফলে তার বিরুদ্ধে মামলার অগ্রগতি জনমনে কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। আদালতে প্রতিটি শুনানির দিনই গণমাধ্যমের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লাইসেন্স ছাড়া মদ সংরক্ষণ বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ। তবে আদালতে অভিযোগ প্রমাণের জন্য যথাযথ সাক্ষ্য, আলামত ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ অপরিহার্য। রায়ের দিন আদালত সাক্ষ্যপ্রমাণ ও যুক্তিতর্কের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত দেবেন।
মামলাটির দীর্ঘসূত্রতা নিয়েও আলোচনা রয়েছে। অভিযোগ দায়েরের পর থেকে তদন্ত, অভিযোগপত্র, অভিযোগ গঠন এবং সাক্ষ্যগ্রহণ—সব মিলিয়ে কয়েক বছর সময় লেগেছে। এ সময়ের মধ্যে আইনি প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করতে হয়েছে। আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, নথিপত্র ও সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ায় এখন মামলাটি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আগামী ৯ মার্চের রায় মামলার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। আদালত দোষী সাব্যস্ত করলে শাস্তি নির্ধারণ করা হবে, আর অভিযোগ প্রমাণিত না হলে তিনি খালাস পেতে পারেন। এদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তারা আইনের প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখেন এবং ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছেন।
জনপ্রিয় শিল্পী হওয়ায় এ মামলার রায় সংগীতাঙ্গন ও ক্রীড়াঙ্গন—উভয় ক্ষেত্রেই আলোচনার জন্ম দিতে পারে। তবে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যক্তিগত পরিচয় বা পেশা নয়, বরং সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই আদালত সিদ্ধান্ত দেবেন। বিচারিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা আদালতের দায়িত্ব।
সব মিলিয়ে চার বোতল টাকিলা সংরক্ষণের অভিযোগে দায়ের হওয়া এ মামলার রায় এখন সময়ের অপেক্ষা। আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছে সংশ্লিষ্ট পক্ষসহ সাধারণ মানুষও।