ইরানে বেসামরিক নিহত এক হাজার ছাড়াল

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬
  • ৪৬ বার
ইরানে বেসামরিক নিহতের সংখ্যা ১,০০০ ছাড়াল

প্রকাশ: ০৪ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ইরানে চলমান সহিংসতায় বেসামরিক প্রাণহানির সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে গেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউমেন রাইটস অ্যাকটিভিটিস। সংস্থাটির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ধারাবাহিক হামলা ও সংঘাতে অন্তত ১ হাজার ৯৭ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু রয়েছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতাকে আরও গভীরভাবে সামনে নিয়ে এসেছে।

সংস্থাটির প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ১০ বছরের কম বয়সী শিশুর সংখ্যা ১৮১ জন। আহত হয়েছেন অন্তত ৫ হাজার ৪০২ জন, যাদের মধ্যে কমপক্ষে ১০০ জন শিশু রয়েছে। মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, এই সংখ্যা কেবল যাচাই করা তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। আরও কয়েক শ মৃত্যুর খবর এখনো যাচাই–বাছাই করা হচ্ছে। ফলে প্রকৃত প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে অন্তত ১০৪টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলায় সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি চিকিৎসাকেন্দ্র ও আবাসিক এলাকায় আঘাত হানার অভিযোগ উঠেছে। এতে বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা চরমভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। বহু পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে অন্যত্র সরে যেতে বাধ্য হয়েছে।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, চলমান সহিংসতায় আন্তর্জাতিক মানবিক নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে, যা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। বিশেষ করে শিশু ও নারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে। সংঘাতপূর্ণ এলাকায় চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ায় আহতদের যথাযথ চিকিৎসা পাওয়া কঠিন হয়ে উঠেছে।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে মানবিক সংকট আরও গভীর হতে পারে। অনেক হাসপাতাল ইতোমধ্যেই রোগী সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতি দেখা দিয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। বিদ্যুৎ ও বিশুদ্ধ পানির সরবরাহেও বিঘ্ন ঘটছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনেও ইরানের একাধিক শহরে হামলার খবর উঠে এসেছে। তবে হতাহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা নিয়ে ভিন্নতা রয়েছে। মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, সংঘাতপূর্ণ এলাকায় তথ্য যাচাই করা কঠিন হলেও যে সংখ্যাগুলো নিশ্চিত করা গেছে, তা থেকেই পরিস্থিতির গভীরতা স্পষ্ট।

বিশ্লেষকদের মতে, বেসামরিক প্রাণহানি যত বাড়বে, আন্তর্জাতিক চাপও তত বাড়বে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশ সংঘাত প্রশমনে কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তারা বলছেন, সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে মানবিক বিপর্যয় সীমান্ত পেরিয়ে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকেও প্রভাবিত করতে পারে।

ইরানের ভেতরে সাধারণ মানুষের জীবন এখন অনিশ্চয়তায় ঘেরা। বহু এলাকায় স্কুল বন্ধ রয়েছে, বাজার কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়েছে। রাতে বিস্ফোরণের শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে আবাসিক এলাকায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, অনেক মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে হতাহত হচ্ছেন। পরিবারগুলো প্রিয়জনের খোঁজে হাসপাতাল ও আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটছেন।

মানবাধিকার সংস্থা মনে করিয়ে দিচ্ছে, প্রতিটি নিহত মানুষ কেবল একটি সংখ্যা নয়; তারা কারও সন্তান, মা-বাবা কিংবা প্রিয়জন। শিশুদের উচ্চ প্রাণহানি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী সংঘাতের সময় বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক হলেও বাস্তবে তা অনেক ক্ষেত্রে উপেক্ষিত হচ্ছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থা মানবিক সহায়তা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে। তবে সহিংসতা অব্যাহত থাকলে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করাও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

সব মিলিয়ে, ইরানে চলমান সহিংসতা এখন এক গভীর মানবিক সংকটে রূপ নিয়েছে। বেসামরিক নিহতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে যাওয়া পরিস্থিতির ভয়াবহতাকে স্পষ্ট করে দিচ্ছে। সহিংসতা দ্রুত বন্ধ না হলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এখন প্রয়োজন অবিলম্বে উত্তেজনা প্রশমন, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত