প্রকাশ: ০৪ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ঢাকায় এসে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর। বুধবার সকালে রাজধানীর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, কৌশলগত সহযোগিতা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে দুইপক্ষই বর্তমান বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং উভয় দেশের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও জোরদারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে মনোযোগ দিয়েছেন।
বৈঠকের পর পল কাপুর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এরপর তার পরিকল্পনা অনুযায়ী সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির ও জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সন্ধ্যায় তিনি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন এবং সফরের সমাপনী হিসেবে নৈশভোজে অংশ নেবেন।
পল কাপুরের ঢাকা সফর দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত সম্পর্ক জোরদারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সূত্র জানায়, মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশে আসার মূল লক্ষ্য দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ায় দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্ব এবং বিভিন্ন খাতের সহযোগিতা বাড়ানো। তিনি সফরের সময় দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে সম্প্রতি আলোচনা ও সমঝোতার বিষয়গুলোকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেবেন।
ঢাকা আগমনের আগে মঙ্গলবার রাতে তিনি দেশে প্রবেশ করেন। তার সফরকে কেন্দ্র করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বৈঠক ও আলোচনা শেষে উভয় দেশ কৌশলগত অংশীদারিত্ব, বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে একমত পোষণ করেছেন।
পল কাপুর ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। তার দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। বাংলাদেশ সফরের মধ্য দিয়ে তিনি এই লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নিচ্ছেন।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বৈঠকে বলেন, “মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে আমাদের আলোচনা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে। আমরা আমাদের কৌশলগত সহযোগিতাকে আরও জোরদার করার পথ খুঁজছি।” পল কাপুরও বৈঠকের পর সাংবাদিকদের জানান, “বাংলাদেশ আমাদের আঞ্চলিক অংশীদার। আমরা এখানে সম্পর্ক আরও গভীর করার জন্য এসেছি। বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও স্থিতিশীলতার ওপর আমাদের মনোযোগ থাকবে।”
বৈঠক শেষে উভয় পক্ষ আশা প্রকাশ করেছেন যে, আগামী সময়ে শিক্ষাবিদ, ব্যবসায়ী এবং বাণিজ্যিক অংশীদারদের সঙ্গে আরও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। এছাড়া, বাংলাদেশে বিনিয়োগ, জ্বালানি ও প্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে মার্কিন সহযোগিতা বাড়ানোর কথাও আলোচনায় এসেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পল কাপুরের ঢাকা সফর দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দেবে। এটি শুধুমাত্র রাজনীতিগত নয়, অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। ফলে বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যৌথ উদ্যোগ ও সহযোগিতা আরও দৃঢ় হবে।
উভয় দেশ ইতিমধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, নিরাপত্তা ও শিক্ষাক্ষেত্রে বিভিন্ন চুক্তি কার্যকর করছে। পল কাপুরের সফর এই সম্পর্ককে আরও গতিশীল করবে। বিশেষত মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনা করা হবে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, পল কাপুরের সঙ্গে আলোচনা দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও জোরদার করবে। বৈঠকের মাধ্যমে অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক এবং কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করা সম্ভব হবে। এছাড়া, বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন মাত্রায় উন্নীত করার প্রক্রিয়া শুরু হবে।