প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার ছায়া এবার আর রক্ষা করতে পারল না সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীকে। প্রায় ৪০০ কোটি টাকার সম্পত্তি ক্রোক করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। নানা অভিযোগে দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর গত ৮ জুলাই আদালতের নির্দেশে এ সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ কার্যকর করা হয় বলে বুধবার সিআইডির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজী বহুবছর ধরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত। তবে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগও কম নয়। সিআইডি জানিয়েছে, জোরপূর্বক জমি দখল, কমিশন বাণিজ্য, জালিয়াতি, প্রতারণা, হুন্ডি চক্রের মাধ্যমে অর্থপাচার, আন্ডার-ওভার ইনভয়েসসহ নানা অপরাধের মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁর স্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
সিআইডির তথ্যমতে, গোলাম দস্তগীর গাজীর নামে মোট ৪ হাজার ৮৮০ শতাংশ জমি ক্রোক করা হয়েছে, যার দলিল মূল্যই ১৬ কোটি ৫২ লাখ ৮৪ হাজার টাকা। তবে এ জমির ওপর গড়ে ওঠা অবকাঠামো, শিল্পপ্রতিষ্ঠান—বিশেষ করে আলোচিত গাজী টায়ারসহ অন্যান্য স্থাপনাগুলোর বাজারমূল্য মিলিয়ে এর আর্থিক পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার মতো।
অনুসন্ধানকারীরা জানিয়েছেন, এ বিপুল সম্পদ ২০১৫ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে অর্জিত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পাওয়া গেছে। শুধু দেশেই নয়, গোলাম দস্তগীর গাজীর বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থপাচারের বিষয়েও অনুসন্ধান চলছে। সিআইডির বক্তব্য অনুযায়ী, মানি লন্ডারিং আইন লঙ্ঘন ও সংঘবদ্ধ অর্থনৈতিক অপরাধের জটিল জাল ভেদ করে এই সম্পদের প্রকৃত উৎস ও লেনদেনের ইতিহাস খুঁজে বের করতে আরও বিস্তৃত তদন্ত অব্যাহত থাকবে।
বছরের পর বছর ধরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের প্রভাবশালী এই নেতার বিরুদ্ধে জমি দখল ও অবৈধ সম্পদ গঠনের অভিযোগ নতুন নয়। তবে এ নিয়ে আইনি পদক্ষেপ কখনোই এতদূর এগোয়নি। চলমান অনুসন্ধান প্রমাণ করে, দেশে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালীরা আর পুরোপুরি দায়মুক্ত নন—এই বার্তাও বহন করছে সিআইডির সাম্প্রতিক পদক্ষেপ।
এদিকে সিআইডি তাদের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানিয়েছে, এ ঘটনায় গোলাম দস্তগীর গাজী ছাড়াও তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্য ও ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়িক অংশীদারদেরও নজরদারিতে রাখা হয়েছে। তাঁদের সম্পদের উৎস ও বিদেশে অর্থপাচারের লেনদেন যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে।
গোলাম দস্তগীর গাজী বা তাঁর পরিবার এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো গণমাধ্যমে দেয়নি। তবে স্থানীয় ও রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আলোচনা তুঙ্গে। অনেকের মতে, রাজনৈতিক প্রভাবশালী কোনো ব্যক্তির বিপক্ষে এমন বড়সড় পদক্ষেপ ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক অপরাধ দমনে সাহস যোগাবে তদন্ত সংস্থাগুলোকে।
একই সঙ্গে এই অনুসন্ধান ও সম্পত্তি ক্রোকের ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনায় এসেছে দুর্নীতি দমন ও জবাবদিহিতার বিষয়টি। জনগণও এখন অপেক্ষায়, তদন্ত কতদূর এগোয় এবং বিদেশে অর্থপাচারের তথ্য কতটুকু প্রকাশ্যে আসে।
দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় এটি নিঃসন্দেহে একটি বড় নজির হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন অনেকে।
একটি বাংলাদেশ অনলাইন