ভূমধ্যসাগরে রাশিয়ার এলএনজি ট্যাঙ্কার ডুবে গেছে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬
  • ১১ বার
ভূমধ্যসাগরে রাশিয়ার এলএনজি ট্যাঙ্কার ডুবে গেছে

প্রকাশ: ৫ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ভূমধ্যসাগরে লিবিয়া ও মাল্টার মাঝামাঝি এলাকায় রাশিয়ার একটি এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) বহনকারী ট্যাঙ্কার ডুবে গেছে। মস্কো অভিযোগ করেছে, ইউক্রেন এই জাহাজে হামলা চালিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানা গেছে, লিবিয়ার বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার (৩ মার্চ) রাতে সির্তে বন্দরের উত্তরে হঠাৎ জাহাজটিতে বিস্ফোরণ ঘটে এবং তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের আগুন ছড়িয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত আগুনে পুরো জাহাজটি ধ্বংস হয়ে সমুদ্রে ডুবে যায়।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এই ঘটনায় ইউক্রেনকে দায়ী করে বলেছেন, এটি একটি ‘সন্ত্রাসী হামলা’। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এমন ধরনের হামলা পূর্বেও ঘটেছে এবং এটি আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। তবে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে এখনো এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

রাশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় জানায়, ‘আর্কটিক মেটাগাজ’ নামের এই ট্যাঙ্কার আর্কটিক অঞ্চলের মুরমানস্ক বন্দর থেকে এলএনজি পরিবহন করছিল। তাদের দাবি, লিবিয়ার উপকূল থেকে ছোড়া ইউক্রেনীয় নৌ ড্রোনের হামলায় জাহাজটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জাহাজে থাকা ৩০ জন নাবিক—সবাই রাশিয়ার নাগরিক—নিরাপদে উদ্ধার হয়েছেন। উদ্ধার কাজে সহযোগিতার জন্য রাশিয়া মাল্টার উদ্ধার সংস্থাকে ধন্যবাদ জানিয়েছে। জাহাজে প্রায় ৬২ হাজার মেট্রিক টন এলএনজি ছিল, যা মিশরের পোর্ট সাঈদ বন্দরে পৌঁছানোর পথে ছিল।

লিবিয়ার সামুদ্রিক উদ্ধার সংস্থা জানিয়েছে, আগুনের পরে জাহাজটি লিবিয়া ও মাল্টার মাঝের পানিতে ডুবে গেছে। আশপাশের জাহাজগুলোকে ওই এলাকা এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে এবং কোনো দূষণ দেখা দিলে তা জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।

এদিকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কোনো স্থিতিশীল সমাধান দেখা যাচ্ছে না। বিভিন্ন অঞ্চলে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে, যার ফলে হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বুধবার (৪ মার্চ) ইউক্রেনের মাইকোলাইভ ও স্লোভিয়ানস্ক শহরে রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটেছে। মাইকোলাইভে একটি পরিবহন অবকাঠামো ও রেলওয়ে স্টেশনে হামলায় একটি যাত্রীবাহী ট্রেনে অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে।

স্লোভিয়ানস্কে আবাসিক এলাকায় চালানো হামলায় অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, উদ্ধারকর্মীরা এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে সাধারণ মানুষকে উদ্ধার করতে আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন।

আকাশপথের হামলার পাশাপাশি স্থলভাগেও দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী লড়াই চলছে। ইউক্রেনীয় সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ জানিয়েছেন, বুধবার বিকেল পর্যন্ত রাশিয়ার সঙ্গে অন্তত ৪৮টি সরাসরি সম্মুখ যুদ্ধে তাদের সেনারা অংশ নিয়েছে। বিশেষ করে লিমান ও কুপিয়ানস্ক সেক্টরে রাশিয়ার আক্রমণ প্রতিহত করা হয়েছে। হুলিয়ায়পোল, পোক্রোভস্ক ও কোস্তিয়ান্তিনিভকা সেক্টর রণক্ষেত্রে সবচেয়ে অস্থির ও সক্রিয় এলাকা। এই অঞ্চলে রাশিয়া তাদের আক্রমণের তীব্রতা কয়েক গুণ বাড়িয়েছে, যেখানে ইউক্রেনীয় সেনারা অবস্থান ধরে রাখার জন্য লড়ছে।

রণক্ষেত্রের এই সংঘর্ষের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন নতুন অর্থনৈতিক হুমকিও দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন যদি রাশিয়ার জ্বালানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের চেষ্টা করে, তাহলে রাশিয়া ইউরোপে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দিতে পারে। পুতিনের মতে, এশিয়ার নতুন বাজারগুলোতে জ্বালানি রফতানি করা রাশিয়ার জন্য অধিক লাভজনক হবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘটনা শুধুমাত্র সামুদ্রিক দুর্ঘটনা নয়, বরং এটি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে সামরিক ও অর্থনৈতিক দুই স্তরের প্রতিক্রিয়ার প্রতিফলন। সমুদ্র, আকাশ ও স্থল—সব জায়গাতেই দ্বিপাক্ষিক লড়াই চলমান। এতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ, ভৌগোলিক নিরাপত্তা ও বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম প্রভাবিত হচ্ছে।

মোটের ওপর, ভূমধ্যসাগরে এই এলএনজি ট্যাঙ্কারের ধ্বংসের ঘটনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এখন সামরিক কর্মকাণ্ড ছাড়িয়ে অর্থনৈতিক ও জ্বালানি নিরাপত্তা বিষয়েও সরাসরি প্রভাব ফেলছে। জাহাজে থাকা নাবিকদের নিরাপদ উদ্ধার হলেও জ্বালানি ও পরিবেশগত ঝুঁকি এখনও বিদ্যমান। পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের সতর্ক করেছে যে, যেকোনো সামুদ্রিক ও স্থলভিত্তিক সংঘাত বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত