প্রকাশ: ০৫ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনার কেন্দ্রে থাকা অভিনেত্রী ইফফাত আরা তিথি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ এক পোস্টের মাধ্যমে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। এ বিষয়ে তিনি বলেছেন, অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইবনাত খান ইকরার মৃত্যুর পর তার নাম যে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছে, তা সম্পূর্ণ ভুল ব্যাখ্যা ও অপপ্রচারের ফল। দুই দিনের নীরবতা ভেঙে বুধবার বিকেলে নিজের ফেসবুক পেজে তিথি বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন এবং ব্যক্তিগত চ্যাটের ৪০টিরও বেশি স্ক্রিনশট প্রকাশ করেছেন।
তিথি জানিয়েছেন, তিনি আগেই চেয়েছিলেন এই চ্যাটগুলো জনসমক্ষে প্রকাশ না করতে। প্রশাসনের প্রয়োজন হলে তিনি সেখানে সেগুলো উপস্থাপন করবেন। কিন্তু জনমাধ্যমে চলমান অপপ্রচারের কারণে চুপ থাকা আর সম্ভব হয়নি। স্ক্রিনশটের সঙ্গে যুক্ত একটি বার্তায় তিনি লিখেছেন, ‘ভেবেছিলাম এগুলো জনসমক্ষে প্রকাশ করব না, প্রশাসনের প্রয়োজন হলে দেব, সবার সম্মান রক্ষার্থে। কিন্তু আমাকে যেভাবে উত্ত্যক্ত করা হচ্ছে, আর চুপ থাকা গেল না।’
তিনি আরও জানিয়েছেন, আলভীর সঙ্গে তার সম্পর্ক সম্পূর্ণ বন্ধুত্বপূর্ণ ছিল এবং সদ্য প্রয়াত ইকরা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে নিয়মিত কথা বলত। তিথি বলেন, পারিবারিক অশান্তি, ব্যক্তিগত হতাশা এবং মানসিক চাপ নিয়েও ইকরা অনেকবার তার সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, ইকরাকে আত্মহত্যার জন্য কখনো তিনি উসকানি দেননি। তিথি বলেন, “কারো সংসার ভাঙার ইচ্ছা আমার ছিল না। ইকরা কয়েকবার আমাকে জানিয়েছে, সে আমেরিকা চলে যাবে। আমি বরাবরই বলেছি, ‘চাইলেও যেতে পারবে না, তুমি আলভীকে ভালোবাসো, তুমি তার কুইন।’ তাহলে আত্মহত্যার জন্য আমি কিভাবে উসকানি দেব?”
তিথি তার পোস্টে ইকরার পরিবারের প্রসঙ্গও তুলে ধরেছেন। তার দাবি, ইকরা নিজের মনের কষ্ট, পরিবার থেকে দূরত্ব এবং মানসিক চাপের বিষয়গুলো প্রাক্তন বন্ধু হিসেবে তাকে ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, “একটা মেয়ে যতই হোক, নিজের মা-বাবা নিয়ে মিথ্যা বলবে না। আমি তাদের দোষ দিচ্ছি না, কিন্তু ইকরার মনে পরিবার নিয়েও কষ্ট ছিল। ওর মনে হতো, পরিবার তাকে নিজের হালে ছেড়ে দিয়েছে।”
২০১৮ সালে ইকরার বাবা বিদেশে পাঠানোর অনুরোধ করা হলেও সমর্থন না পাওয়ার কারণে ক্ষোভ জন্মায়, যা পরে প্রকাশ পায়নি। এই বিষয়গুলো প্রকাশ করে তিথি আরও বলেন, যদি তার নিজের প্রতি কোনো হুমকি বা ঘটনা ঘটে, সংশ্লিষ্ট সংস্থা এবং কর্তৃপক্ষ যেন বিষয়টি যথাযথভাবে তদন্ত করে।
পোস্টের শেষ অংশে তিনি ইকরার আত্মার শান্তির জন্য প্রার্থনা করেন। তিনি লিখেছেন, “আল্লাহ ইকরাকে ভালো রাখুক, শান্তিতে রাখুক। ওর চিরনিদ্রা শান্তির হোক। দূর থেকেই রিজিকের জন্য এত দোয়া করুক, যাতে ওর জীবন সুন্দর হয়।”
এই পোস্ট প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে ইফফাত আরা তিথি স্পষ্ট করেছেন, তার এবং জাহের আলভীর মধ্যে কোনো অনৈতিক বা অবাঞ্ছিত সম্পর্ক ছিল না। তিনি জানিয়েছেন, ইকরার সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল সম্পূর্ণ বন্ধুত্বপূর্ণ, যা ছিল সহযোগিতা এবং সহমর্মিতা ভিত্তিক। তিথি জানিয়েছেন, তার উদ্দেশ্য কখনো কারো ব্যক্তিগত জীবন বিঘ্নিত করা ছিল না।
সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে চলমান বিতর্ক এবং বিভিন্ন মিডিয়া রিপোর্টের প্রেক্ষিতে এই পোস্টে তিনি সবার কাছে নিজেকে সমর্থন ও ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত ও মানসিক বিষয়গুলো কখনোই অন্যের হাতে অপব্যাখ্যার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। তিথি বলেন, তিনি আশা করছেন, সমাজ ও মিডিয়া তার বক্তব্য যথাযথভাবে গ্রহণ করবে এবং অপপ্রচারের প্রতিকার হবে।
এ বিষয়ে তিথির পোস্টে প্রকাশিত স্ক্রিনশটগুলো প্রমাণ হিসেবে দেখানো হয়েছে, যা ইকরার সঙ্গে তার সংলাপ ও কথোপকথনের স্বাভাবিকতা তুলে ধরে। এতে প্রকাশিত হয়েছে, ইকরা তার মানসিক চাপ ও পারিবারিক সমস্যার কথা নিয়মিত আলোচনা করেছেন এবং কোনোভাবেই তিথি তাকে আত্মহত্যার জন্য প্ররোচিত করেননি।
এই ব্যাখ্যা সামাজিক মাধ্যমে এবং গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিধ্বনি সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তিথির এ ধরনের স্পষ্ট বক্তব্যে ভুল ধারণা ও অপপ্রচারের প্রভাব কমবে। পাশাপাশি এটি জনগণ ও মিডিয়ার কাছে একটি মানবিক ও সংবেদনশীল দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেছে, যেখানে মানসিক স্বাস্থ্য এবং পারিবারিক সমস্যা মোকাবেলার গুরুত্ব ফুটে উঠেছে।