সিলেটে দরগাহয়ে এনসিপি নেতার স্লোগান নিয়ে আলোচনা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬
  • ১৩ বার
সিলেটে দরগাহয়ে এনসিপি নেতার স্লোগান নিয়ে আলোচনা

প্রকাশ: ০৫ মার্চ  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর দরগাহকে ঘিরে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলমের স্লোগান দেওয়ার একটি ভিডিও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া এই ভিডিওতে দেখা গেছে, সারজিস আলম একের পর এক স্লোগান উচ্চারণ করছেন, যার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন হাজারো মানুষ। ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমগুলোতে দ্রুত আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। অনেকেই বলছেন, এইভাবে স্লোগান দেওয়ার মাধ্যমে দরগাহের ভাবগাম্ভীর্য এবং পবিত্রতা ক্ষুণ্ন হয়েছে। তবে কেউ কেউ এই ঘটনার পক্ষে অবস্থান নেন।

এ বিষয়ে এনসিপি সিলেট মহানগরের সদস্যসচিব কিবরিয়া সরওয়ার প্রথম আলোকে বলেন, “আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম। এটি তারাবিহ নামাজ শেষে ঘটে। সেখানে প্রচুরসংখ্যক জেনারেশন জেড উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা একের পর এক স্লোগান দিচ্ছিল। সারজিস আলমও স্লোগান দেন। কোনো ভাবগাম্ভীর্যতা নষ্ট হয়নি। সমালোচনা উদ্দেশ্যমূলক।”

প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, এনসিপির সিলেট জেলা ও মহানগরের আয়োজনে এক বিভাগীয় ইফতার মাহফিলের পর কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর দরগাহ মসজিদে তারাবিহ নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে দরগাহ থেকে বেরোনোর সময় উপস্থিত কয়েক হাজার মানুষ মুহুর্মুহু স্লোগান দিতে থাকেন। এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা বেরোনোর পরও সারজিস আলম একপর্যায়ে নারীদের ইবাদতখানার ছাদে উঠে স্লোগান ধরেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত হাজারো মানুষ কণ্ঠ মিলান।

স্লোগানের মধ্যে ছিল ‘ইনকিলাব ইনকিলাব, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’, ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবর’, ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’, ‘দালালি না রাজপথ, রাজপথ রাজপথ’, ‘আপস না সংগ্রাম, সংগ্রাম সংগ্রাম’, ‘গোলামি না আজাদি, আজাদি আজাদি’, ‘দিয়েছি তো রক্ত, আরও দেব রক্ত’, ‘রক্তের বন্যায়, ভেসে যাবে অন্যায়’, ‘যুগে যুগে লড়ে যাব, আমরা সবাই হাদি হব’, ‘তুমি কে আমি কে, হাদি হাদি’—এরকম বিভিন্ন স্লোগান।

এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ নাগরিক আন্দোলন সিলেটের সমন্বয়ক আবদুল করিম চৌধুরী (কিম) ফেসবুকে ভিডিওটি শেয়ার করে লিখেছেন, “সুলতানুল বাঙাল হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের সময় আজ পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দল মাজার এলাকায় দলীয় স্লোগান দেয়নি। মধ্যরাতে এনসিপির নেতাদের এই আচরণ সুফি দরগাহের আদবের খেলাফ। মহিলা ইবাদতখানার উপরে উঠে সারজিস আলম স্লোগান দিয়েছেন। আমি অত্যন্ত ক্ষুব্ধ।”

মাহতাব শাহ ফকির নামের এক ব্যক্তি লিখেছেন, “কোনটা দোয়ার জায়গা আর কোনটা স্লোগানের মঞ্চ, যারা পার্থক্যই বোঝে না, তারা কীভাবে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেবে? সিলেট আধ্যাত্মিকতার রাজধানী। এখানে আবেগ নয়, আদবই প্রথম শর্ত। পবিত্র স্থানের মর্যাদা রক্ষা সবার নৈতিক দায়িত্ব। আধ্যাত্মিক পরিবেশে অপ্রাসঙ্গিক কর্মকাণ্ড কখনোই মানানসই নয়। এসব কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানাই।”

সামাজিক মাধ্যমে এই ঘটনা নিয়ে দুটি মতভেদ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। একদিকে অনেকে দরগাহের পবিত্রতা রক্ষার জন্য প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি সতর্কবার্তা জারি করছেন। অন্যদিকে কিছু মানুষ বলছেন, তরুণ প্রজন্মের উচ্ছ্বাস এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণের অংশ হিসেবে এমন ঘটনাগুলোকে অতিমূল্যায়ন করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ধর্মীয় স্থান ও রাজনৈতিক কার্যক্রমের সংমিশ্রণ কখনো কখনো সামাজিক অশান্তি বা বিতর্কের সূত্রপাত করতে পারে। বিশেষত সিলেটের মতো আধ্যাত্মিক পরিবেশে যেখানে হাজার বছরের ঐতিহ্য এবং দরগাহর মর্যাদা সংরক্ষিত, সেখানে রাজনৈতিক স্লোগানের মতো ঘটনা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে।

ঘটনার প্রভাব দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে যাওয়ায় নাগরিক সমাজ, ধর্মীয় সম্প্রদায় ও রাজনৈতিক নেতাদের প্রতিক্রিয়া মিলিত হয়েছে। এনসিপি নেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, তাদের উদ্দেশ্য কেবল তরুণদের মধ্যে উদ্দীপনা তৈরি করা এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণ উৎসাহিত করা। কিন্তু দরগাহের পবিত্রতার প্রতি শ্রদ্ধার মধ্যে এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে সীমিত করা উচিত বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

এ ঘটনায় সিলেটের স্থানীয় প্রশাসনও মনোযোগ দিয়েছে। যদিও সরাসরি অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, তবে সামাজিক মাধ্যম ও জনমত থেকে যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে তা স্থানীয় রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতাদের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত