সর্বশেষ :
কেনিয়ায় ভয়াবহ বৃষ্টি-বন্যা, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪২ যশোরে যান্ত্রিক ত্রুটি, প্রশিক্ষণ বিমানের জরুরি অবতরণ লেবাননে হামলায় সাদা ফসফরাস ব্যবহারের প্রমাণ: এইচআরডব্লিউ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যানের সৌজন্য সাক্ষাৎ নিরাপত্তা ও সামরিক দক্ষতায় মোজতবা খামেনি ইরানের নতুন নেতা সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় টাঙ্গাইলের মোশাররফ নিহত ঈদে নতুন নোট নেই, খোলা বাজারে দাম দাড়িয়েছে আকাশছোঁয়া মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বিদ্যুৎ-জ্বালানি বাজারে প্রভাব ছড়াচ্ছে হাদি হত্যার আসল খুনি নিয়ে প্রকাশ্যে সালাহউদ্দিন আম্মার মত আজ থেকে বন্ধ দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের উদ্যোগে

এনসিপিসহ জুলাই শক্তির বৃহত্তর ঐক্য নিয়ে নতুন আলোচনা

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২৬
  • ৫০ বার
জুলাই শক্তির বৃহত্তর ঐক্য

প্রকাশ: ০৮ মার্চ  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’–পরবর্তী শক্তিগুলোর মধ্যে নতুন করে ঐক্যের আলোচনা শুরু হয়েছে। অভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় গড়ে ওঠা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, প্ল্যাটফর্ম ও সংগঠনগুলো দীর্ঘ সময় বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকলেও এখন তারা আবার কাছাকাছি আসার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)–কে কেন্দ্র করে জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন শক্তির মধ্যে সমন্বয়ের উদ্যোগ দৃশ্যমান হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

চব্বিশের জুলাইয়ে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনীতিতে এক নতুন ধারার সূচনা হয়েছিল। সেই আন্দোলনের পটভূমিতে একাধিক নতুন রাজনৈতিক দল, নাগরিক প্ল্যাটফর্ম ও ছাত্রভিত্তিক সংগঠন আত্মপ্রকাশ করে। সময়ের ব্যবধানে এসব শক্তির মধ্যে মতপার্থক্য এবং কৌশলগত বিভাজন তৈরি হয়। ফলে অনেক সংগঠন আলাদা আলাদা অবস্থানে চলে যায়। তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আবারও বৃহত্তর ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এসব শক্তির মধ্যে দূরত্ব খুব বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়নি। কিন্তু জাতীয় নির্বাচনের পর নতুন সরকারের বাস্তবতায় পরিস্থিতি বদলে গেছে। রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা, সংস্কার প্রশ্ন এবং বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় জুলাই শক্তিগুলো নতুন করে একত্রিত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে ভাবতে শুরু করেছে।

জানা গেছে, ইতোমধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়েছে। এসব আলোচনার মূল বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে এনসিপির সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি, দল থেকে পদত্যাগ করা বা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়া নেতাদের পুনরায় সক্রিয় করা এবং বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকা জুলাই শক্তিগুলোকে এক ছাতার নিচে আনার উদ্যোগ। পাশাপাশি কয়েকটি ছোট সংগঠনকে একীভূত করার বিষয়েও আলোচনা চলছে।

তবে ঐক্যের আলোচনার মধ্যেই নতুন কিছু বিভাজনের ঘটনাও ঘটেছে। এনসিপি থেকে বেরিয়ে যাওয়া একটি অংশ সম্প্রতি নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গঠন করেছে। এই প্ল্যাটফর্মের নেতৃত্বে রয়েছেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক ও সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। নতুন এই উদ্যোগ তরুণদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং জুলাই আন্দোলনের লক্ষ্য পূরণের কথা বললেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এটিকে জুলাই শক্তির ভেতরের বহুমাত্রিক বাস্তবতার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।

এর আগে এনসিপি থেকে বেরিয়ে যাওয়া বাম ঘরানার একটি অংশ ‘নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশন’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলে। পরে আরেকটি অংশ ‘গণবিপ্লবী উদ্যোগ’ নামে সংগঠন তৈরি করে। এসব প্ল্যাটফর্ম নিজেদের স্বাধীন রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘোষণা করলেও জুলাই আন্দোলনের আদর্শ ও লক্ষ্য বাস্তবায়নের কথা বলেছে।

এনসিপির নেতারা বলছেন, জুলাইয়ের চেতনায় বিশ্বাসী যে কোনো শক্তির জন্য তাদের দরজা খোলা রয়েছে। তাদের মতে, কেউ যদি সরাসরি এনসিপিতে যোগ না-ও দেন, তবু জুলাইয়ের লক্ষ্য বাস্তবায়নে সক্রিয় থাকলে সেই উদ্যোগকে স্বাগত জানানো হবে। দলটির নীতিনির্ধারকদের ভাষায়, জুলাই শক্তিগুলোকে ধারণ করার একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবেই এনসিপি নিজেদের ভূমিকা দেখতে চায়।

এই প্রসঙ্গে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, বিচার এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কারের প্রশ্নে ক্ষমতাসীনদের আচরণ তাদের হতাশ করেছে। তবে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণের জন্য তারা কাজ চালিয়ে যাবেন। তার মতে, যে সব রাজনৈতিক শক্তি সংস্কার এবং বিচার প্রক্রিয়ার প্রতি আন্তরিক, তাদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে এনসিপি আগ্রহী।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে জুলাই শক্তিগুলোর ঐক্যের পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ কাজ করছে। এর মধ্যে রয়েছে সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়ার অনিশ্চয়তা, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে বিতর্ক, আদালতে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আইনি চ্যালেঞ্জ এবং প্রশাসনে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ। এসব বিষয় অনেক সংগঠনকে নতুন করে ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা ভাবতে বাধ্য করছে।

এদিকে বিরোধী দলীয় নেতা ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, জনগণের দেওয়া গণরায়কে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না। তিনি সতর্ক করে বলেন, গণভোটের সিদ্ধান্ত আদালতে নিয়ে বিতর্ক তৈরি করা হলে পরিস্থিতি আবারও রাজপথের আন্দোলনের দিকে যেতে পারে।

এনসিপির নেতারা জানিয়েছেন, দলটি ইতোমধ্যে ‘সংস্কার বাস্তবায়নবিষয়ক কমিটি’ এবং ‘জুলাই গণহত্যা ও গুমের বিচার পর্যবেক্ষণবিষয়ক কমিটি’ গঠন করেছে। এই কমিটিগুলো নিয়মিতভাবে জনমত তৈরি এবং সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করার কৌশল নির্ধারণ করবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে নতুন রাজনৈতিক শক্তির জন্ম হয়েছিল, তাদের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো ঐক্য বজায় রাখা এবং বাস্তব রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় নিজেদের অবস্থান শক্ত করা। যদি তারা পারস্পরিক মতপার্থক্য দূর করে একটি বৃহত্তর প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে পারে, তবে তা দেশের রাজনীতিতে নতুন শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে।

তবে বিভক্ত অবস্থায় থাকলে এই শক্তিগুলোর প্রভাব কমে যেতে পারে বলেও সতর্ক করছেন বিশ্লেষকরা। তাই আগামী দিনে জুলাই শক্তিগুলোর মধ্যে আলোচনা এবং সমন্বয় কতটা এগোয়, সেটিই নির্ধারণ করবে তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত