সর্বশেষ :
কেনিয়ায় ভয়াবহ বৃষ্টি-বন্যা, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪২ যশোরে যান্ত্রিক ত্রুটি, প্রশিক্ষণ বিমানের জরুরি অবতরণ লেবাননে হামলায় সাদা ফসফরাস ব্যবহারের প্রমাণ: এইচআরডব্লিউ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যানের সৌজন্য সাক্ষাৎ নিরাপত্তা ও সামরিক দক্ষতায় মোজতবা খামেনি ইরানের নতুন নেতা সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় টাঙ্গাইলের মোশাররফ নিহত ঈদে নতুন নোট নেই, খোলা বাজারে দাম দাড়িয়েছে আকাশছোঁয়া মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বিদ্যুৎ-জ্বালানি বাজারে প্রভাব ছড়াচ্ছে হাদি হত্যার আসল খুনি নিয়ে প্রকাশ্যে সালাহউদ্দিন আম্মার মত আজ থেকে বন্ধ দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের উদ্যোগে

নানামুখী সংকটেও দেশে গাড়ি আমদানি বেড়েছে

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২৬
  • ৩২ বার
দেশে গাড়ি আমদানি

প্রকাশ: ০৮ মার্চ  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশে নানামুখী অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও গাড়ি আমদানি বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ৮ হাজার ৭১২টি গাড়ি ডেলিভারি হয়েছে, যা পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ে ডেলিভারির তুলনায় উল্লেখযোগ্য। ২০২৫ সালের পুরো বছরে দেশে ৩১টি জাহাজে ১৪ হাজার ১৬৪টি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের গাড়ি এসেছে। তবে ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, বিক্রি এখনও তুলনামূলক কম হওয়ায় শোরুমগুলোতে গাড়ি জমে আছে এবং অতিরিক্ত খরচে তাদের চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে চট্টগ্রাম বন্দরে চারটি বিশেষায়িত জাহাজে ১ হাজার ৬৭১টি গাড়ি খালাস করা হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামীম জানান, বর্তমানে ৪০৯ ইউনিট গাড়ি ৩০ দিনের কম সময় ধরে কারশেডে অবস্থান করছে, আর ৪১১ ইউনিট গাড়ি ৩০ দিনের বেশি সময় ধরে বন্দরে রয়েছে। কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই কাস্টমসকে চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানাচ্ছে, যাতে দ্রুত ডেলিভারি নিশ্চিত করা যায়।

চলতি অর্থবছরের আট মাসে ৮ হাজার ৭১২টি গাড়ি আমদানির বিপরীতে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১ হাজার ৪৪৮ কোটি টাকা। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে ২ হাজার ৩৬৫টি গাড়ি ডেলিভারির মাধ্যমে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজ ৩৫২ কোটি ৯৩ লাখ টাকা রাজস্ব সংগ্রহ করেছে। পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ের তুলনায় ডেলিভারি হয়েছে ১ হাজার ২০টি গাড়ি বেশি এবং রাজস্ব আদায় বেড়েছে ৯০ কোটি টাকা।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের সহকারী কমিশনার শরীফ মো. আল আমিন জানিয়েছেন, গাড়ি আমদানির সংখ্যা বাড়ার পেছনে মানুষের আয়ের পরিধি বৃদ্ধি এবং ভোগের প্রবণতার বৃদ্ধিও গুরুত্বপূর্ণ কারণ। এটি দেশের অর্থনীতির উন্নয়নের ইঙ্গিত বহন করে। তবে ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, বিক্রি না হলেও বন্দরের অতিরিক্ত মাশুলের কারণে দ্রুত খালাস নেওয়া বাধ্যতামূলক হচ্ছে, যা তাদের জন্য অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।

চট্টগ্রামের ম্যাক্সিম কার সেন্টারের পরিচালক রোকন উদ্দিন জানান, ‘আমরা কঠিন সময় পার করছি। অতিরিক্ত ওয়ারফেসের কারণে গাড়িগুলো শোরুম বা গোডাউনে রাখার জন্য দ্রুত খালাস নিচ্ছি। সরকার অগ্রাধিকার দিলে বিক্রি বাড়বে। বর্তমান সরকারের পদক্ষেপ আমরা ইতিবাচক মনে করছি।’ তবে নির্বাচনের আগে এবং ঈদকে সামনে রেখে চাহিদা বাড়ার আশায় গাড়ি আমদানি করা হলেও অনেক ব্যবসায়ী এখন ক্ষতির মুখে পড়ছেন। সাবেক সহসভাপতি হাবিবুর রহমান বলেন, ‘বেচা-কেনা খুব খারাপ। মানুষের কাছে টাকা নেই। শোরুমের ভাড়াও দিতে পারছি না, তাই গাড়ি বের করে শোরুমে রাখার চেষ্টা করছি, তাতেও কাজ হচ্ছে না।’

চট্টগ্রাম বন্দরের পাশাপাশি মোংলা বন্দরে বড় পরিমাণ গাড়ি খালাস হচ্ছে। বাংলাদেশে গাড়ি আমদানিতে সিসি কোড অনুযায়ী ৮০০ থেকে সাড়ে ৮০০ শতাংশ শুল্ক ধার্য করা হয়েছে। এই উচ্চ শুল্ক এবং অতিরিক্ত মাশুল ব্যবসায়ীদের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আমদানিকৃত গাড়ি দ্রুত বিক্রির জন্য সরকারিভাবে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করলে বাজারে স্থিতিশীলতা আসবে এবং ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়বেন না।

এদিকে বন্দরের গাড়ি জট কমলেও তিনটি কারশেডে এখনও ৮২০টি গাড়ি অবস্থান করছে, যার মধ্যে ৪০০টি নিলামের জন্য প্রস্তুত। এটি ব্যবসায়ীদের জন্য একটি চাপের বিষয়। তবে সরকারি নজরদারি এবং আমদানির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেয়ার মাধ্যমে বাজারে সঙ্কট কিছুটা শিথিল হতে পারে।

চলতি অর্থবছরে গাড়ি আমদানির বৃদ্ধির প্রভাব দেশের অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মানুষের আয়ের পরিধি বৃদ্ধি, ভোগের প্রবণতা ও আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের চাহিদার বৃদ্ধি এসব আমদানি বৃদ্ধির পেছনে প্রভাব ফেলেছে। তবে ব্যবসায়ীরা আশ্বস্ত করতে চান যে, সরকারের সহযোগিতা ও নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিক্রির হার বৃদ্ধি পেতে পারে এবং ব্যবসায়ীরা দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি এড়াতে সক্ষম হবেন।

বাংলাদেশে গাড়ি আমদানির এই চিত্র প্রতিফলিত করছে, যে দেশের অর্থনীতি নানামুখী চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও মানুষ ক্রয় ক্ষমতা ও চাহিদা বৃদ্ধির কারণে বাণিজ্যিক লেনদেন চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও বিক্রির তুলনায় আমদানি বেশি হওয়ার কারণে কিছুটা চাপ দেখা দিয়েছে, তবুও বাজারের স্থিতিশীলতা ও সরকারের পদক্ষেপে ভবিষ্যতে এই পরিস্থিতি আরও নিয়ন্ত্রিত হতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত