সর্বশেষ :
কেনিয়ায় ভয়াবহ বৃষ্টি-বন্যা, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪২ যশোরে যান্ত্রিক ত্রুটি, প্রশিক্ষণ বিমানের জরুরি অবতরণ লেবাননে হামলায় সাদা ফসফরাস ব্যবহারের প্রমাণ: এইচআরডব্লিউ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যানের সৌজন্য সাক্ষাৎ নিরাপত্তা ও সামরিক দক্ষতায় মোজতবা খামেনি ইরানের নতুন নেতা সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় টাঙ্গাইলের মোশাররফ নিহত ঈদে নতুন নোট নেই, খোলা বাজারে দাম দাড়িয়েছে আকাশছোঁয়া মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বিদ্যুৎ-জ্বালানি বাজারে প্রভাব ছড়াচ্ছে হাদি হত্যার আসল খুনি নিয়ে প্রকাশ্যে সালাহউদ্দিন আম্মার মত আজ থেকে বন্ধ দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের উদ্যোগে

মধ্যপ্রাচ্য সংকট: চট্টগ্রাম বন্দরে তেল গ্যাসের ১০ জাহাজ

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২৬
  • ৬৯ বার
চট্টগ্রাম বন্দরে তেল গ্যাসের ১০ জাহাজ

প্রকাশ: ০৮ মার্চ  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে বড় অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। ঠিক এই সময় চট্টগ্রাম বন্দরে আসতে শুরু করেছে তেল ও গ্যাস নিয়ে ১০টি জাহাজ। এই জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালির সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি শুরু হওয়ার আগে পারস্য উপসাগরের দেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে পাঠানো হয়েছে। বন্দরে আসা ও পথে থাকা এই ১০টি জাহাজে রয়েছে প্রায় পৌনে চার লাখ টন তেল ও গ্যাস। এর মধ্যে চারটি জাহাজে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), দুটি জাহাজে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) এবং বাকি চারটি জাহাজে ডিজেলসহ অন্যান্য জ্বালানি পণ্য আছে।

২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর তেহরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ার কারণে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা অস্থির হয়ে ওঠে। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক পঞ্চমাংশ এই নৌপথের ওপর নির্ভরশীল। প্রণালি ব্যাহত হলে বিশ্ববাজারে তেল ও এলএনজির সরবরাহ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

চট্টগ্রাম বন্দরে এলএনজি জাহাজের মধ্যে ‘আল জোর’ ও ‘আল জাসাসিয়া’ ইতিমধ্যে পৌঁছেছে। এছাড়া ‘লুসাইল’ এবং ‘আল গালায়েল’ নামে আরও দুটি জাহাজ সোমবার ও বুধবার বন্দরে পৌঁছাবে। এই চারটি জাহাজে মোট ২ লাখ ৪৭ হাজার টন এলএনজি আছে। কাতারের রাস লাফান বন্দর থেকে যুদ্ধ শুরুর দুই থেকে সাত দিন আগে হরমুজ প্রণালি পার হয়ে এসেছে এই জাহাজগুলো। ইউনি গ্লোবাল বিজনেস লিমিটেডের উপমহাব্যবস্থাপক মো. নুরুল আলম জানিয়েছেন, এই চারটি জাহাজ চট্টগ্রামে পৌঁছানো প্রায় নিশ্চিত, তবে ‘লিব্রেথা’ নামের আরেকটি এলএনজিবাহী জাহাজ এখনও হরমুজ প্রণালির মধ্যেই আছে।

বাংলাদেশে এলপিজি আমদানি হয় প্রধানত মধ্যপ্রাচ্যের দেশ থেকে। ‘সেভান’ নামে একটি এলপিজি জাহাজ রোববার চট্টগ্রামে পৌঁছাবে, যার বোঝাই এলপিজি ২২ হাজার ১৭২ টন। এর আগে একই বন্দর থেকে ‘জি ওয়াইএমএম’ নামের আরেকটি জাহাজ এলপিজি সরবরাহ করেছে, যা ছিল ১৯ হাজার ৩১৬ টন। দুই জাহাজের মোট এলপিজি পরিমাণ ৪১ হাজার ৪৮৮ টন। এই জাহাজগুলোর মধ্যে প্রায় ৩৫ হাজার টন এলপিজি মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের সহযোগী প্রতিষ্ঠান মেঘনা ফ্রেশ এলপিজি সরবরাহ করেছে।

তেল ও গ্যাসের অন্যান্য চারটি জাহাজে রয়েছে ডিজেল, কনডেনসেট ও ফার্নেস তেল। ‘এসপিটি থেমিস’ নামে একটি জাহাজে ৩১ হাজার টন ডিজেল আছে, যা ১২ মার্চ বন্দরে পৌঁছাবে। মালয়েশিয়া থেকে ১৪ হাজার টন কনডেনসেট নিয়ে এসেছে ‘হুয়া সুন’ নামের জাহাজ। এছাড়া সিঙ্গাপুর থেকে দুটি জাহাজে ৪০ হাজার টন ফার্নেস তেল এসেছে। মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রেক্ষাপটে এই জাহাজগুলো বন্দরে পৌঁছানো এবং খালাস করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ইতিমধ্যে খোলাবাজার থেকে দুটি এলএনজি জাহাজ বেশি দামে কিনেছে। তবে এ জাহাজগুলো এখনও বন্দরে পৌঁছায়নি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে বাংলাদেশে আমদানি করা প্রায় ৬০০ কোটি ডলারের পণ্যের মধ্যে জ্বালানি পণ্যের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। নতুন জাহাজগুলো আসার অনিশ্চয়তার কারণে তেল-গ্যাস সরবরাহ স্থিতিশীল রাখার জন্য সরকারের পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বিশাল প্রভাব ফেলতে পারে। বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে, কারণ দেশটি সম্পূর্ণভাবে আমদানি করা তেল ও গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। এই মুহূর্তে চট্টগ্রাম বন্দরে আসা জাহাজগুলো দেশের জ্বালানি সঙ্কট কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, তবে সামনের দিনগুলোতে পরিস্থিতি কতটা স্থিতিশীল থাকবে তা অনিশ্চিত।

এ ধরনের জটিল পরিস্থিতিতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের উচিত চট্টগ্রাম বন্দরের খালাস প্রক্রিয়া দ্রুত ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করা। পাশাপাশি, বিপিসি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা পর্যবেক্ষণ করতে হবে, যাতে প্রয়োজনের সময় দ্রুত প্রতিক্রিয়া নেওয়া যায়।

বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ ও শিল্পখাতের জন্য এই জাহাজগুলোর নিরাপদ আগমন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম ও গ্যাসের খরচ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা দেশীয় অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। এজন্য সরকারি নীতি, প্রস্তুতি এবং জনসচেতনতা একত্রে প্রয়োগ করা ছাড়া পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত