প্রকাশ: ০৮ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা এবং জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান দেশের চলমান জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় সরকারকে বিকল্প উৎস নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন। তিনি একই সঙ্গে সতর্ক করে দিয়েছেন যে, এই সংকটপূর্ণ সময়ে নতুন কোনো জ্বালানি সিন্ডিকেট গড়ে উঠতে পারে, যা জ্বালানি পাচারকে উসকে দিতে পারে। তাই অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
শফিকুর রহমান তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শনিবার রাতে দেওয়া পোস্টে উল্লেখ করেছেন, সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক যুদ্ধ পরিস্থিতি বাংলাদেশের জ্বালানিসংকটকে আরও তীব্র করেছে। এই সংকট দীর্ঘায়িত হলে দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তিনি বলেন, “সরকারকে জরুরি ভিত্তিতে বিকল্প জ্বালানি উৎস খুঁজে বের করতে হবে। একই সঙ্গে প্রতিটি পদক্ষেপ বাস্তবসম্মত ও কার্যকর হতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ এই সংকটের চাপে পড়ে না।”
বিরোধী নেতা আরও বলেছেন, জ্বালানিসংকটের সময় কোনো অনৈতিক সিন্ডিকেট গড়ে উঠলে তা দেশের অর্থনীতি ও জনগণের জীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলবে। তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন, “দুর্যোগপূর্ণ মুহূর্তে জ্বালানি পাচার যেন না হয়, সেজন্য কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে হবে।
শফিকুর রহমানের এই আহ্বান আসছে এমন সময়ে যখন মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও হরমুজ প্রণালির অনিশ্চয়তার কারণে বাংলাদেশে তেল ও গ্যাসের সরবরাহের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়ছে। চট্টগ্রাম বন্দরে বর্তমানে তেল-গ্যাস নিয়ে ১০টি জাহাজ এসেছে এবং আরও কয়েকটি জাহাজ হরমুজ প্রণালিতে আটকা রয়েছে। এর ফলে দেশে জ্বালানি মজুতের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে এবং বাজারে দাম বৃদ্ধি ও আতঙ্কজনিত কেনাকাটা দেখা দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের সংকটের সময় বিকল্প উৎস না থাকলে সাধারণ জনগণ দারুণ অসুবিধায় পড়বে। শফিকুর রহমানও এ বিষয়ে সচেতনতা জাগিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সরকারের উচিত কেবল বাজার নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং সরবরাহ চেইনকে নিরাপদ ও স্বচ্ছ রাখা। তেল-গ্যাস আমদানি, সংরক্ষণ ও বিতরণে যথাযথ নজরদারি না থাকলে সিন্ডিকেট ও পাচারের ঝুঁকি বেড়ে যাবে, যা সামগ্রিক সংকটকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, “সরকারকে এখনই সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, দেশের কোথাও কোনো জ্বালানি সংক্রান্ত অনিয়ম বা পাচার ঘটতে দেওয়া হবে না। এ জন্য প্রতিটি সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একযোগে কাজ করতে হবে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনগণকে অবগত রাখা জরুরি।”
শফিকুর রহমানের মতে, এই মুহূর্তে বিকল্প জ্বালানি উৎস নিশ্চিত করা, সিন্ডিকেট প্রতিরোধ এবং বাজারের স্বচ্ছতা বজায় রাখা দেশের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, দেশের সাধারণ মানুষ যেন কোনোভাবেই সংকটের শিকার না হন, সে লক্ষ্যে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ও জরুরি ব্যবস্থা চালু রাখা প্রয়োজন।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে জ্বালানি নিরাপত্তা সরাসরি শিল্প উৎপাদন, পরিবহন ও জনসাধারণের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে যুক্ত। হঠাৎ করে কোনো সিন্ডিকেট গড়ে উঠলে বা জ্বালানি পাচার বৃদ্ধি পেলে এর প্রভাব সরাসরি বাজারে চড়া মূল্য, সরবরাহ সংকট এবং সামাজিক অস্থিরতার রূপ নিতে পারে। শফিকুর রহমানের আহ্বান দেশের নীতি-নির্ধারকরা যদি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেন, তবে সংকটের প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।