সর্বশেষ :
কেনিয়ায় ভয়াবহ বৃষ্টি-বন্যা, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪২ যশোরে যান্ত্রিক ত্রুটি, প্রশিক্ষণ বিমানের জরুরি অবতরণ লেবাননে হামলায় সাদা ফসফরাস ব্যবহারের প্রমাণ: এইচআরডব্লিউ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যানের সৌজন্য সাক্ষাৎ নিরাপত্তা ও সামরিক দক্ষতায় মোজতবা খামেনি ইরানের নতুন নেতা সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় টাঙ্গাইলের মোশাররফ নিহত ঈদে নতুন নোট নেই, খোলা বাজারে দাম দাড়িয়েছে আকাশছোঁয়া মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বিদ্যুৎ-জ্বালানি বাজারে প্রভাব ছড়াচ্ছে হাদি হত্যার আসল খুনি নিয়ে প্রকাশ্যে সালাহউদ্দিন আম্মার মত আজ থেকে বন্ধ দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের উদ্যোগে

বেঞ্চ থেকে বিশ্বজয়ের নায়ক সাঞ্জু স্যামসন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬
  • ৩৮ বার
স্যামসন বিশ্বকাপ নায়ক ভারত

প্রকাশ: ০৯ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের জন্য সাঞ্জু স্যামসন হয়ে উঠেছেন একেবারে স্বপ্নের নায়ক। শুরুটা ছিল অনিশ্চয়তায় ভরা। টুর্নামেন্টের প্রথম কয়েক ম্যাচে স্যামসন একাদশে জায়গা পাননি। সুযোগ পেয়েছিলেন মাত্র একটি ম্যাচে, এরপর টানা চার ম্যাচ তাকে বেঞ্চে বসতে হয়েছে। অনেকেই তখন মনে করেছিলেন, হয়তো তিনি আর সুযোগ পাবেন না।

কিন্তু পরিস্থিতি হঠাৎ বদলে যায়। সতীর্থ রিংকু সিং পারিবারিক কারণে দল থেকে বাইরে চলে গেলে একাদশে পরিবর্তন আনতে হয়, এবং সেই সুযোগেই ফিরে আসেন স্যামসন। সুযোগ পেয়ে তিনি তা দক্ষতার সঙ্গে কাজে লাগান। অভিজ্ঞ উইকেটকিপার-ব্যাটার হিসেবে তিনি শুধু নিজের পারফরম্যান্সই উজ্জ্বল করেননি, বরং দলকে বিশ্বকাপ জয়ের পথে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেন বিধ্বংসী ইনিংস। মাত্র ৪৬ বলে ৮৯ রান করে দলের জয় নিশ্চিত করেন। এই ইনিংসই ভারতের বিশ্বকাপ জয়ের পথ সুগম করে। এর আগে সুপার এইটের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ৫০ বলে অপরাজিত ৯৭ রান করে দলকে জিতিয়েছিলেন। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৪২ বলে ৮৯ রান করে দলের সংগ্রহকে শক্তিশালী করে দেন। এই দুটি ম্যাচেই ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন।

স্যামসনের ধারাবাহিকতা নজর কেড়েছে। টানা তিন ম্যাচে ৮০-এর বেশি রান করে তিনি বিরল কীর্তি স্থাপন করেছেন। পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র পাঁচ ম্যাচে ১৯৯.৩৭ স্ট্রাইক রেট ও ৮০.২৫ গড়ে ৩২১ রান করেন। এই পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে দেওয়া হয়েছে টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার। ভারতের ইতিহাসে এই সম্মান অর্জন করা মাত্র তৃতীয় ক্রিকেটার তিনি। এর আগে এই কীর্তি গড়েছিলেন বিরাট কোহলি (২০১৪ ও ২০১৬) এবং জসপ্রিত বুমরাহ (২০২৪)।

বিশ্বকাপে স্যামসন ২৪টি ছক্কা হাঁকিয়ে নতুন রেকর্ড স্থাপন করেছেন। এটি এক আসরে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড। এছাড়া, সেমিফাইনাল ও ফাইনাল—দুই ম্যাচেই ফিফটি করা বিশ্বের তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে তার নাম লেখা হয়েছে। এর আগে এই কীর্তি গড়েছিলেন শহীদ আফ্রিদি (২০০৯) ও বিরাট কোহলি (২০১৪)।

বেঞ্চে বসে শুরু করা এই টুর্নামেন্টের শেষটা স্যামসনের জন্য একেবারে স্বপ্নের মতো। তিনিই ভারতের বিশ্বজয়ের সবচেয়ে বড় নায়ক। টুর্নামেন্টে তার আত্মবিশ্বাস, কৌশল এবং আত্মবিশ্লেষণের দক্ষতা দলের জয় নিশ্চিত করেছে। ভারতীয় ভক্তদের জন্য এই সাফল্য কেবল একটি খেলার জয় নয়, বরং সাহস, ধৈর্য এবং সময়মতো সুযোগ কাজে লাগানোর প্রমাণও বটে।

স্যামসনের এই অসাধারণ জয়ের কাহিনী ক্রিকেট বিশ্বে পাঠানো একটি প্রেরণামূলক বার্তা। বেঞ্চে বসে থাকা একজন খেলোয়াড়ও যদি ধৈর্য ধরে সুযোগের অপেক্ষায় থাকে এবং যখন তা আসে, দক্ষতার সঙ্গে তা কাজে লাগায়, তাহলে ফলাফল হতে পারে অভূতপূর্ব। তার পারফরম্যান্স শুধু ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসেই নয়, বিশ্ব ক্রিকেটের দর্পণেও এক আলোকিত অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে।

স্যামসনের এই জয় শুধু ব্যক্তিগত নয়, দলের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। তার ইনিংসগুলো দলকে মানসিকভাবে শক্তিশালী করেছে। ফাইনালে ৮৯ রানের ঝড়ো ইনিংস দলের আত্মবিশ্বাসকে উজ্জীবিত করেছে এবং প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলেছে। সেমিফাইনাল ও সুপার এইটের ইনিংসগুলোও দলের জেতার সম্ভাবনা বাড়িয়েছে। তিনি শুধু রান করেছেন না, সময়মতো বড় রানের জন্য দলে নেতৃত্বের উদাহরণ স্থাপন করেছেন।

বর্তমান প্রজন্মের ক্রিকেটপ্রেমীরা স্যামসনের গল্প থেকে শিখতে পারে যে ধৈর্য, পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাসই বড় সাফল্যের চাবিকাঠি। তিনি প্রমাণ করেছেন, সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিলে একজন খেলোয়াড়ের প্রভাব পুরো দলের উপর কতটা হতে পারে। এই বিশ্বকাপ জয়ে স্যামসন শুধু ব্যাটার হিসেবে নয়, মানসিক শক্তি, আত্মবিশ্বাস ও নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবেও ফুটে উঠেছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত