আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়াল

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬
  • ১৪ বার
প্রতি ব্যারেল তেলের দাম বৃদ্ধি

প্রকাশ: ০৯ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে তেলের আন্তর্জাতিক বাজারে দাম ভয়ঙ্করভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্রেন্ট অপরিশোধিত প্রতি ব্যারেল তেলের দাম শুক্রবার ১০৮ দশমিক ৭৭ ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০২০ সালের কোভিড মহামারির পর থেকে একদিনের সর্বোচ্চ বৃদ্ধি হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগে গত সপ্তাহেই তেলের দাম ২৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। এই পরিস্থিতি বিশ্ববাজারে তেলের নিরাপত্তা ও সরবরাহ নিয়ে শঙ্কা সৃষ্টি করেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের মধ্যে চলমান উত্তেজনা, হরমুজ প্রণালির জাহাজ চলাচলের সীমিততা এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি পথে বাধা বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহকে প্রভাবিত করছে। ফলে ক্রেতারা তেলের জন্য উচ্চমূল্য দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

জেপি মরগানের প্রধান অর্থনীতিবিদ ব্রুস কাসম্যান এই পরিস্থিতিকে ‘বিশ্ব অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, “বিশ্ব অর্থনীতি মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস প্রবাহের ওপর অত্যন্ত নির্ভরশীল। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকলে সরবরাহে সীমাবদ্ধতা তৈরি হবে এবং এর ফলে দাম আরও বাড়তে পারে। আমরা আশা করি, শিগগিরই প্রতি ব্যারেলের দাম ১২০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।”

অর্থনীতিবিদদের মতে, তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বিশ্বের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলবে। জ্বালানি খাতে ব্যয় বৃদ্ধির কারণে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে, পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পেতে পারে এবং দেশে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে তেলের উপর নির্ভরশীল উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এটি অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করবে।

বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে ইতিমধ্যেই কয়েকটি দেশ তেলের ভর্তুকি বৃদ্ধি ও জ্বালানি নীতি পরিবর্তনের পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। এদিকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সংস্থাগুলো সতর্ক বার্তা দিয়েছে যে, যদি মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা চলতে থাকে, তাহলে সরবরাহ ব্যবস্থা অস্থিতিশীল হতে পারে। এতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও অপ্রত্যাশিতভাবে বৃদ্ধি পাবে।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকায় এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল সীমিত থাকায় একদিকে সরবরাহ কমেছে, অন্যদিকে চাহিদা স্থিতিশীল থাকায় তেলের বাজারে দাম হঠাৎ করেই উর্ধ্বমুখী। হরমুজ প্রণালি মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পথ, যা বিশ্বের মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহন করে। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে যেকোনও জটিলতা আন্তর্জাতিক তেল বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলে।

বিশ্বের বৃহৎ অর্থনীতিগুলো এই পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিশেষত জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ইউরোপীয় দেশগুলো, যেগুলো তাদের জ্বালানি চাহিদার বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহ করে, তারা সরবরাহ ও দাম নিয়ন্ত্রণে নতুন কৌশল বিবেচনা করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়, তাহলে আন্তর্জাতিক তেল শেয়ার বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

এই পরিস্থিতিতে তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে তীব্রভাবে অনুভূত হবে। বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পরিবহন খাতে ব্যয় বৃদ্ধি পাবে। রাস্তায় ভাড়া, খাদ্যদ্রব্যের দাম এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধি অনিবার্য। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল আমদানি করা দেশগুলোতে অর্থনীতিতে চাপ আরও বাড়বে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, এই উচ্চমূল্য স্থিতিশীল না হলে, দেশের অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়বে। সুতরাং সরকার ও শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য জরুরি পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। এ পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য বিকল্প শক্তি উৎস ও স্থানীয় জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানোর উপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

অর্থনীতিবিদরা আরও বলেন, এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না হলেও, বৈশ্বিক কৌশলগত পদক্ষেপ, নতুন চুক্তি এবং রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে বাজারে স্থিতিশীলতা আনা সম্ভব। তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে দাম ক্রমাগত বৃদ্ধি পাবে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত হওয়ার কারণে তেলের বাজারে এই উর্ধ্বমুখী প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতি এবং সাধারণ মানুষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত সমাধানমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে যাতে তেলের সরবরাহ ও দাম স্থিতিশীল রাখা যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিগগিরই তেলের প্রতি ব্যারেলের দাম ১২০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এটি শুধু আন্তর্জাতিক বাজারে নয়, বাংলাদেশের মতো তেলের আমদানিকারক দেশের জন্যও বড় অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলবে। ফলে দেশীয় বাজারে জ্বালানি মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে এবং নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব পড়তে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত