সর্বশেষ :
কেনিয়ায় ভয়াবহ বৃষ্টি-বন্যা, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪২ যশোরে যান্ত্রিক ত্রুটি, প্রশিক্ষণ বিমানের জরুরি অবতরণ লেবাননে হামলায় সাদা ফসফরাস ব্যবহারের প্রমাণ: এইচআরডব্লিউ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যানের সৌজন্য সাক্ষাৎ নিরাপত্তা ও সামরিক দক্ষতায় মোজতবা খামেনি ইরানের নতুন নেতা সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় টাঙ্গাইলের মোশাররফ নিহত ঈদে নতুন নোট নেই, খোলা বাজারে দাম দাড়িয়েছে আকাশছোঁয়া মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বিদ্যুৎ-জ্বালানি বাজারে প্রভাব ছড়াচ্ছে হাদি হত্যার আসল খুনি নিয়ে প্রকাশ্যে সালাহউদ্দিন আম্মার মত আজ থেকে বন্ধ দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের উদ্যোগে

বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার বৃদ্ধি ও প্রবাসী প্রবাহ‑বাণিজ্য‑মুদ্রা লেনদেনে নতুন চাপ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬
  • ১৪ বার
মুদ্রার বিনিময় হার

প্রকাশ: ০৯ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের সার্বিক অর্থনীতিতে বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় হার প্রতিদিনই একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রতি সপ্তাহের শুরুতে ব্যাংকিং ও বাজার খোলা ঠিকঠাক হয়ে উঠলে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, রেমিট্যান্স প্রবাহ ও আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী মুদ্রার ক্রয় ও বিক্রয় মূল্য ওঠানামা করতে থাকে। সোমবারও সেই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশি টাকা ও আন্তর্জাতিক মুদ্রার বিনিময় হার আপডেট করা হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতিতে প্রভাব বিস্তার করছে। বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্য-সম্পর্ক, রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক বাজারে ডলারের ওঠানামা দেশের মুদ্রাবাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলছে।

বাংলাদেশে কর্মরত প্রবাসীরা যে সুযোগ-সুবিধা ও অর্জনের ফলে দেশে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন, তা আমাদের অর্থনীতিকে গতিশীল রাখছে। বিভিন্ন দেশে বাস করেন এক কোটিরও বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিক ও পেশাজীবী, যারা তাদের পরিবার, স্বজন ও ব্যবসায়িক আয় দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে পাঠাচ্ছেন। এই ব্যাপক পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহ দেশের জিডিপি, বিনিয়োগ ও মুদ্রা জোগান বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।

আজ সোমবারের মুদ্রা বিনিময় হার অনুযায়ী, ইউএস ডলারের ক্রয় হচ্ছে ১২১.৯০ টাকা এবং বিক্রয় হচ্ছে ১২২.৯০ টাকা। অর্থাৎ একটি ডলার কিনতে হলে ব্যাংক বা বিনিময় কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশি টাকা হিসেবে খরচ করতে হবে ১২২.৯০ টাকা। ইউরোপীয় ইউনিয়োর সাধারণ মুদ্রা ইউরোর ক্ষেত্রে ক্রয় নির্ধারিত হয়েছে ১৩৮.৪১ টাকা এবং বিক্রয় হয়েছে ১৪৩.২৮ টাকা। এর মানে এক ইউরো কিনতে হলে বাংলাদেশি ক্রেতাকে প্রায় এক বছর আগের তুলনায় বেশি টাকা খরচ করতে হবে, কারণ ইউরোর মূল্যতে উঠতি ধারা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের পাউন্ড স্টার্লিং এর ক্রয় মূল্য রয়েছে ১৬০.০৪ টাকা এবং বিক্রয় মূল্য ১৬৫.১৩ টাকা। ইউকে পাউন্ডের তুলনায় বাংলাদেশি টাকার মান কিছুটা কম হলেও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও রেমিট্যান্সের কারণে এর চাহিদা রয়েছে। জাপানি ইয়েনের ক্ষেত্রেও ক্রয় নির্ধারিত হয়েছে ০.৭৬ টাকা এবং বিক্রয় হয়েছে ০.৭৮ টাকা প্রতি ইয়েন হিসেবে, যা মূলত ছোট মুদ্রার জন্য স্বল্প মূল্যের বিনিময় হার নির্দেশ করে।

এছাড়া সিঙ্গাপুর ডলারের ক্রয় মূল্য দাঁড়িয়েছে ৯৪.৪৯ টাকা এবং বিক্রয় মূল্য ৯৬.০২ টাকা। এটি পূর্বের তুলনায় একটু বেশি স্থিতিশীল মনে হলেও বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে ডলারের তুলনায় সিঙ্গাপুর ডলারের ওঠানামা কম লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আমিরাতি দিরহামের ক্রয় ও বিক্রয় মূল্য যথাক্রমে ৩৩.১৩ টাকা ও ৩৩.৪১ টাকা নির্ধারিত হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে কর্মী প্রেরণ, বাণিজ্য ও রেমিট্যান্সের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে দিরহামের মুদ্রা বিনিময় মূল্য বাংলাদেশে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

অস্ট্রেলিয়ান ডলারের ক্ষেত্রেও ক্রয় হয়েছে ৮৪.৫৩ টাকা এবং বিক্রয় হয়েছে ৮৬.৫০ টাকা, যা প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য অস্ট্রেলিয়াতে পাঠানো অর্থ ও পণ্য বানিজ্যে সহায়ক। সুইস ফ্রাঙ্কের (Swiss Franc) ক্ষেত্রে ক্রয় মূল্যে দাঁড়িয়েছে ১৫৪.৪০ টাকা এবং বিক্রয় মূল্যে ১৫৮.৬১ টাকা, যা শক্তিশালী মুদ্রার হিসেবে আন্তর্জাতিক বাজারে পরিচিত এবং বাংলাদেশে বিনিয়োগ-ব্যবসা সম্পর্কে প্রভাব ফেলছে।

সৌদি রিয়েল ও চাইনিজ ইউয়ান এবং ইন্ডিয়ান রুপি সহ অন্যান্য দেশের মুদ্রা বিনিময় হারও আপডেট করা হয়েছে। সৌদি রিয়েলের ক্ষেত্রেও ক্রয় মূল্য ৩২.৪১ টাকা এবং বিক্রয় মূল্য ৩২.৭১ টাকা রাখা হয়েছে। চীনের অফিসিয়াল মুদ্রা ইউয়ানের ক্রয় মূল্য ১৭.৪৮ টাকা এবং বিক্রয় মূল্য ১৭.৮৩ টাকা আছে, যা চীন-বাংলাদেশ বাণিজ্য ও বিনিয়োগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি, প্রতিবেশী দেশের প্রাণকেন্দ্র ভারতের রুপির ক্রয় মূল্য ১.৩১ টাকা এবং বিক্রয় মূল্য ১.৩৪ টাকা নির্ধারিত হয়েছে, যা রিয়েল-টাইম বাজারের চাহিদা ও সরবরাহ অনুযায়ী ওঠানামা করছে।

এই মুদ্রা বিনিময় হারের ওঠানামা বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ, ব্যবসা-বাণিজ্য, আন্তর্জাতিক মুদ্রা বাজার ও আন্তর্জাতিক নীতির সঙ্গে যুক্ত। বিশেষ করে রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো প্রতিদিনই বিভিন্ন খাতে বৈদেশিক মুদ্রার আগমন ও বহির্গমন পর্যবেক্ষণ করে থাকে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, আমদানি-রপ্তানি, বৈদেশিক বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক সঞ্চয়ের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক রেখে মুদ্রা বিনিময় হার নির্ধারণ করা হয়। স্থানীয় বাজারে বিনিয়োগকারীরা ও ব্যবসায়ীরা এই হার অনুসারে তাদের সিদ্ধান্ত নেন যে কোন মুদ্রা কিনবেন বা বিক্রয় করবেন।

বাংলাদেশি অর্থনীতিতে রেমিট্যান্সের ভূমিকা অপরিসীম। প্রবাসী বাংলাদেশীদের পাঠানো প্রতিটি ডলার, ইউরো বা অন্যান্য মুদ্রা দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় প্রবেশ করে দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ বৃদ্ধি করে। এই মজুদ দেশের আমদানি খরচ, ঋণ পরিশোধ ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে একটি নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে। বাংলাদেশি টাকার স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এই বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে।

অন্যদিকে, বৈদেশিক মুদ্রা শেয়ার বাজারও বাংলাদেশের মুদ্রা বিনিময় হারের ভূমিকা বৃদ্ধি ও ব্যতিক্রম লক্ষ্য করছে। শেয়ার বাজারে বিনিয়োগকারীরা প্রায়শই আন্তর্জাতিক মুদ্রার ওঠানামার ওপর নির্ভর করে তাদের পজিশন পরিবর্তন করেন। এতে দেশীয় বিনিয়োগকেও কিছুটা ওঠানামা দেখা যায়। মুদ্রানীতির নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন সময়ে বৈদেশিক মুদ্রার স্ট্র্যাটেজি নিয়ে থাকে এবং বাজারে অতিরিক্ত ওঠানামা কমাতে বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

মুদ্রা বিনিময় হারের এমন পরিবর্তন দেশের সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের জীবনযাত্রার ওপরও প্রভাব ফেলে। বিশেষত, যারা বিদেশে শিক্ষা, চিকিৎসা বা কাজের জন্য যাত্রা করেন তারা এই বিনিময় হার অনুসারে তাদের খরচ পরিকল্পনা করেন। বাংলাদেশী মুদ্রার তুলনায় আন্তর্জাতিক মুদ্রা শক্তিশালী থাকলে বিদেশে যাওয়ার ব্যয় বৃদ্ধি পায় এবং দেশে পাঠানো অর্থের মানও কমে যায়। এর ফলে পরিবারগুলোও তাদের ব্যয় পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হয়।

সমস্ত দিক বিচার করলে বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে যে সকল পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে তার পেছনে রয়েছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, রেমিট্যান্স প্রবাহ, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও দেশের মুদ্রানীতি। সোমবারের এই মুদ্রা বিনিময় হার সেই প্রেক্ষাপটেই দাঁড়িয়ে আছে এবং দেশের অর্থনীতিকে একটি নতুন দিক থেকে বিশ্লেষণ করার সুযোগ তৈরি করছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত