প্রকাশ: ৯ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ঈদকে সামনে রেখে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ নতুন নোট পাওয়ার প্রত্যাশায় থাকলেও এবার তা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে পাওয়া যাবে না। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, নতুন নোট ছাড়ার জন্য আর কোনো উৎসব বা বিশেষ উপলক্ষের প্রয়োজন নেই। ব্যাংক বলছে, নতুন নোট বছরের বিভিন্ন সময়ে নিয়মিতভাবে বাজারে ছাড়বে। তবে এই ঘোষণার মধ্যেও খোলা বাজারে নতুন নোটের জন্য চড়া দামে লেনদেন চলছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় খোলা বাজারে দেখা গেছে, ঈদকে সামনে রেখে ১০, ২০, ৫০ এবং ১০০০ টাকার নোটের বান্ডেল চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। সাধারণ ক্রেতাদের অভিযোগ, এক হাজার টাকার বান্ডেলের জন্য অতিরিক্ত ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে অনেকেই নতুন নোট কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন। রায়হান কবির, একজন ক্রেতা, বলেন, “আমি ১০ টাকার নোটের একটি বান্ডেল বৃদ্ধাশ্রমের মানুষের জন্য কিনতে চেয়েছিলাম, কিন্তু যে দাম চাচ্ছে, তাতে কেনার সাহস হচ্ছে না।”
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, “একটি নোট ডিজাইন থেকে বাজারে ছাড়তে প্রায় দেড় বছর সময় লাগে। পূর্বে একসঙ্গে ৯ ধরনের নোট ছাড়ার কারণে বড় চাপ তৈরি হয়েছিল। তাই আমরা এখন থেকে নিয়মিতভাবে বছরজুড়ে নতুন নোট সরবরাহের পরিকল্পনা নিয়েছি।” তিনি আরও বলেন, বাজারে ব্যবহারের অযোগ্য নোটগুলো ধীরে ধীরে নতুন নোট দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হবে।
নতুন নোট না পাওয়ায় গ্রামে ঈদ উদযাপন করতে যাওয়া মানুষদের মধ্যে দুঃখ দেখা দিয়েছে। চুয়াডাঙায় গ্রামের বাড়িতে যাকাত, ফিতরা, সালামি এবং স্বজনদের হাতে নতুন নোট দিতে চান রনি আহমেদ। তিনি বলেন, “গ্রামে সবাইকে নতুন নোট দিলে ঈদের আনন্দ অনেক গুণ বেড়ে যায়। ঢাকায় হয়তো সহজে পাওয়া যায়, কিন্তু গ্রামে নতুন টাকা পাওয়া কঠিন।” নতুন নোটের ছোট্ট কাগজ হলেও এটি ঈদের আনন্দকে আরও উজ্জ্বল করে তোলে, যা বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে উৎসবের আবহ তৈরি করে।
একই সঙ্গে ক্রেতা মাসুদ বলেন, “ঈদের দিন ছোটদের সালামি দিতে আমরা নতুন টাকা দেই। ফিতরার সঙ্গে নতুন টাকা দিলে একটু বাড়তি আনন্দ হয়, উৎসবের আমেজ তৈরি হয়।” তবে ব্যাংক থেকে সরাসরি নতুন নোট না পাওয়ায় অনেক মানুষ বাধ্য হয়ে খোলা বাজারের দিকে ঝুঁকছেন। এখানে চড়া দামে নতুন নোট কিনতে গিয়ে তাদের উপার্জনের তুলনায় অনেক বেশি ব্যয় হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানায়, গত বছর একসঙ্গে ৯ ধরনের নোট ছাপানো হয়েছিল। নতুন নোট ছাপানোর জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহকারী কোম্পানিগুলোর সীমিত সক্ষমতার কারণে চাপ তৈরি হয়েছিল। এ কারণে ব্যাংক সিদ্ধান্ত নিয়েছে, নতুন নোট ছাপার কাজ উৎসব কেন্দ্রিক না রেখে বছরের বিভিন্ন সময়ে ছড়িয়ে দিতে হবে। এছাড়া, খোলা বাজারে নতুন নোট বিক্রির সঙ্গে যদি ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তা বা ব্যক্তি জড়িত থাকে, তাদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়মিত তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর প্রধান দুই উৎসবের সময় বাজারে নতুন নোটের চাহিদা প্রায় ১৪ থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা হয়। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কিছু ব্যবসায়ী নতুন নোটকে অতিরিক্ত দামে বিক্রি করছেন। যদিও ব্যাংক সরাসরি উৎসব উপলক্ষে নতুন নোট ছাড়বে না, তারা বলছে, সাধারণ নোট বাজারে স্বাভাবিকভাবে প্রতিস্থাপন হবে।
নোটের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে এই ফাঁক সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন নোট পাওয়া নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি মূলত সাপ্লাই চেইন সীমাবদ্ধতা এবং ব্যাংকের নীতি পরিবর্তনের ফল। তাছাড়া, নতুন নোট হাতে পেতে খোলা বাজারে অতিরিক্ত টাকা দেওয়ার পরও যে কোনো ক্রেতা নিরাপত্তাহীনতার শিকার হতে পারেন। এই পরিস্থিতিতে ব্যাংক সবাইকে শান্ত থাকার এবং ব্যাংকের নিয়মিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নতুন নোট পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছে।
সংক্ষেপে, এবার ঈদে নতুন নোট পাওয়া যাবে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে, তবে বাজারে তা চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। এটি সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের হতাশা ও অস্বস্তি তৈরি করেছে, বিশেষ করে যারা গ্রামের বাড়িতে ঈদ উদযাপন করতে যাচ্ছেন। নতুন নোটের এই বাজারীয় লেনদেন নিয়ন্ত্রণ ও জনসাধারণের সুবিধার্থে ব্যাংক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক রয়েছে।