সর্বশেষ :
কেনিয়ায় ভয়াবহ বৃষ্টি-বন্যা, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪২ যশোরে যান্ত্রিক ত্রুটি, প্রশিক্ষণ বিমানের জরুরি অবতরণ লেবাননে হামলায় সাদা ফসফরাস ব্যবহারের প্রমাণ: এইচআরডব্লিউ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যানের সৌজন্য সাক্ষাৎ নিরাপত্তা ও সামরিক দক্ষতায় মোজতবা খামেনি ইরানের নতুন নেতা সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় টাঙ্গাইলের মোশাররফ নিহত ঈদে নতুন নোট নেই, খোলা বাজারে দাম দাড়িয়েছে আকাশছোঁয়া মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বিদ্যুৎ-জ্বালানি বাজারে প্রভাব ছড়াচ্ছে হাদি হত্যার আসল খুনি নিয়ে প্রকাশ্যে সালাহউদ্দিন আম্মার মত আজ থেকে বন্ধ দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের উদ্যোগে

লেবাননে হামলায় সাদা ফসফরাস ব্যবহারের প্রমাণ: এইচআরডব্লিউ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬
  • ৭ বার
লেবাননে হামলায় সাদা ফসফরাস ব্যবহারের প্রমাণ: এইচআরডব্লিউ

প্রকাশ: ৯ মার্চ  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দক্ষিণ লেবাননের আবাসিক এলাকায় সাম্প্রতিক হামলার সময় সাদা ফসফরাস ব্যবহার করেছে ইসরাইল—এমন প্রমাণ পেয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা Human Rights Watch। সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি বলেছে, এই ধরনের অস্ত্র জনবহুল এলাকায় ব্যবহার আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের পরিপন্থী এবং এর ফলে বেসামরিক মানুষের ওপর ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।

নিউইয়র্কভিত্তিক এই মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের ইয়োহমোর এলাকায় ৩ মার্চের হামলার সময় সাদা ফসফরাস গোলাবারুদ ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। সংস্থাটি সাতটি ছবি যাচাই করে নিশ্চিত হয়েছে যে ওই হামলায় অন্তত দুটি আবাসিক বাড়িতে আগুন লেগেছিল। ছবিগুলো বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা দেখতে পেয়েছেন যে বিস্ফোরণের ধরন ও আগুনের বিস্তার সাদা ফসফরাস ব্যবহারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলাটি এমন একটি এলাকায় চালানো হয় যেখানে সাধারণ মানুষ বসবাস করে। ফলে ঘরবাড়ি, কৃষিজমি এবং অন্যান্য বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ঘটনাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন Ramzi Kaiss, যিনি লেবাননবিষয়ক গবেষক হিসেবে Human Rights Watch–এর সঙ্গে কাজ করছেন। তাঁর মতে, জনবহুল এলাকায় এই ধরনের অস্ত্র ব্যবহার কেবল মানবিক বিপর্যয়ই ডেকে আনে না, বরং আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবেও বিবেচিত হয়।

রামজি কাইস বলেন, আবাসিক এলাকায় সাদা ফসফরাস ব্যবহার করা হলে তা বেসামরিক মানুষের জীবনের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করে। এই রাসায়নিক পদার্থটি অক্সিজেনের সংস্পর্শে এলে দ্রুত জ্বলে ওঠে এবং আশপাশে আগুন ছড়িয়ে দেয়। ফলে মানুষ গুরুতরভাবে দগ্ধ হতে পারে, এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এই ধরনের আঘাত থেকে বেঁচে গেলেও ভুক্তভোগীদের আজীবন শারীরিক ও মানসিক কষ্ট ভোগ করতে হয়।

আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের আওতায় যুদ্ধের সময় এমন সব অস্ত্র ব্যবহার করতে নিষেধ করা হয়েছে, যা নির্বিচারে ক্ষয়ক্ষতি ঘটাতে পারে। বিশেষ করে জনবহুল এলাকায় সাদা ফসফরাসের ব্যবহারকে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্নবিদ্ধ করে আসছে। কারণ এই অস্ত্রের বিস্ফোরণ বা জ্বালাময়ী প্রভাব কেবল সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং আশপাশের সাধারণ মানুষ ও অবকাঠামোর ওপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলে।

প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, ইয়োহমোর এলাকায় হামলার ফলে বাড়িঘর ও অন্যান্য বেসামরিক সম্পত্তিতে আগুন ধরে যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে আগুন থেকে বাঁচতে দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। এই পরিস্থিতি ওই অঞ্চলের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

এইচআরডব্লিউ বলেছে, সাদা ফসফরাস গোলাবারুদ ব্যবহার আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সামরিক উদ্দেশ্যে অনুমোদিত হতে পারে। তবে জনবহুল এলাকায় এর ব্যবহার সাধারণত বেআইনি হিসেবে বিবেচিত হয়, কারণ এতে বেসামরিক মানুষের ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি থাকে। সংস্থাটি বলেছে, যুদ্ধের সময়ও বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক আইনের একটি মৌলিক নীতি।

এই পরিস্থিতিতে রামজি কাইস আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যাতে তারা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে। তাঁর মতে, যেসব দেশ ইসরাইলকে অস্ত্র সরবরাহ করে তাদের উচিত পরিস্থিতি পুনর্বিবেচনা করা এবং প্রয়োজন হলে সামরিক সহায়তা স্থগিত করা। তিনি আরও বলেন, আবাসিক এলাকায় এই ধরনের অস্ত্র ব্যবহার বন্ধ করতে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানো জরুরি।

এদিকে সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে লেবাননে মানবিক সংকট আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। ইসরাইলি বাহিনীর জারি করা বাস্তুচ্যুতির নির্দেশের পর পাঁচ লক্ষেরও বেশি মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা জানিয়েছে। অনেক পরিবার তাদের বসতভিটা, জমিজমা এবং জীবিকার উৎস হারিয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে পড়েছে।

বিশেষ করে দক্ষিণ লেবাননের পাশাপাশি রাজধানী বৈরুতেও গত কয়েকদিন ধরে হামলার মাত্রা বেড়েছে। ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা হিজবুল্লাহর বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে। তবে মানবাধিকার সংস্থা ও স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, এসব হামলায় অনেক সময় বেসামরিক মানুষও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

সাম্প্রতিক হামলাগুলোতে লেবাননে কমপক্ষে ৩৯৪ জন নিহত হয়েছেন এবং এক হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে। আহতদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। হাসপাতালগুলোতে আহতদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে চিকিৎসা সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো মনে করছে, সংঘাত যত দীর্ঘায়িত হবে, ততই বেসামরিক মানুষের দুর্ভোগ বাড়বে। তাই দ্রুত সহিংসতা কমানো এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানানো হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধের সময়ও মানবিক নীতিমালা মেনে চলা জরুরি, কারণ সেগুলোই বেসামরিক মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা রক্ষার শেষ ভরসা।

সর্বশেষ প্রতিবেদনের মাধ্যমে Human Rights Watch আবারও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে যে, আধুনিক যুদ্ধে ব্যবহৃত অস্ত্র ও কৌশলের প্রভাব প্রায়ই সাধারণ মানুষের ওপর গিয়ে পড়ে। আর সেই কারণেই যুদ্ধের প্রতিটি পদক্ষেপে মানবিক আইন ও নৈতিকতার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে লেবাননের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেছে। প্রতিদিন নতুন হামলা, বাস্তুচ্যুতি এবং হতাহতের খবর তাদের জন্য ভয় ও উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো আশা করছে, আন্তর্জাতিক মহলের সক্রিয় উদ্যোগ এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে দ্রুত এই সংঘাতের অবসান ঘটানো সম্ভব হবে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কিছুটা হলেও কমবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত