প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য যুদ্ধের প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্পষ্ট। গত কয়েক দিন ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম অস্থিরতার মধ্যে ভাসছিল। বিশেষ করে সোমবার (৯ মার্চ) ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়, যা আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন শোরগোল সৃষ্টি করে। এক পর্যায়ে দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৯.৫০ ডলার পর্যন্ত ওঠে, যা ২০২২ সালের রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর প্রথমবারের মতো এই উচ্চতায় পৌঁছেছে।
তেলের এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধি সরাসরি প্রভাব ফেলে বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে। এশিয়া ও ইউরোপের প্রধান শেয়ারবাজারগুলোতে ব্যাপক বিক্রির চাপ তৈরি হয় এবং নিউ ইয়র্কের ওয়াল স্ট্রিটও দিনের শুরুতে চাপের মুখে পড়ে। বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি ও অস্থিরতার প্রভাবে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ বিক্রি করতে শুরু করেছেন।
এই অবস্থায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সিবিএস নিউজকে এক সাক্ষাৎকারে জানান, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ ‘প্রায় পুরোপুরি শেষের পথে’ রয়েছে। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে শান্তি ফেরার ইঙ্গিত দেখা যায়। সংবাদ প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম দ্রুত কমতে থাকে এবং দিনের শেষে ৯৮.৯৬ ডলারে নেমে আসে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, ট্রাম্পের মন্তব্য বাজারের মনোভাবকে সরাসরি প্রভাবিত করেছে। যুদ্ধের সম্ভাবনা কমার সঙ্গে সঙ্গে বিনিয়োগকারীরা নতুন করে আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছেন। এর ফলে তেলের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্য ফিরে এসেছে এবং দাম হ্রাস পেয়েছে।
তেলের বাজারে এমন দ্রুত ওঠা-নামার প্রভাব সরাসরি সাধারণ মানুষ এবং শিল্পখাতের ওপর পড়ে। তেলের দাম বাড়লে পরিবহন খরচ, শিল্প উৎপাদন ব্যয় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মূল্য বৃদ্ধি পায়। অপরদিকে, দাম কমলে বিপরীত প্রভাব দেখা যায়। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহিত তেলের দাম হ্রাস পেলে এশিয়া ও ইউরোপের জ্বালানি খাতের জন্য তা সহায়ক হতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম এবং geopolitical ইভেন্টগুলোর মধ্যে সম্পর্ক আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ট্রাম্পের মন্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে বাজারে যে অস্থিরতা কমেছে, তা প্রমাণ করছে যে রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্যও বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্লেষকরা আরও বলেছেন, এ ধরনের বাজার অস্থিরতা ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনা থাকায়। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের এখন আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। তাদের সিদ্ধান্ত বাজারের দামের ওঠানামার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
এছাড়াও মার্কিন ও ইসরাইলি নেতৃত্বের প্রতিক্রিয়া, মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেলের সরবরাহ এবং বৈশ্বিক চাহিদার পরিবর্তন—এই তিনটি ফ্যাক্টর ভবিষ্যতে তেলের দামের দিক নির্ধারণ করবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা অনেকাংশেই রাজনৈতিক এবং সামরিক ইভেন্টের উপর নির্ভরশীল।
বাংলাদেশের মতো তেলের আমদানিকর দেশগুলোর জন্যও এ ধরনের বাজার অস্থিরতা গুরুত্বপূর্ণ। বৈশ্বিক তেলের দাম হঠাৎ বৃদ্ধি পেলে দেশে তেলের মূল্যবৃদ্ধি হতে পারে। Conversely, দাম হ্রাস পেলে সাময়িকভাবে ভোক্তা ও শিল্পখাতের উপকার হয়। তাই দেশে জ্বালানি বাজারের পর্যবেক্ষণও ক্রমবর্ধমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সংক্ষেপে বলা যায়, ট্রাম্পের মন্তব্যের পর আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে যে হ্রাস দেখা গেছে তা প্রমাণ করছে যে রাজনৈতিক ইঙ্গিতও অর্থনৈতিক বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি মূল্য ওঠা-নামা এবং বৈশ্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবিষ্যতেও এমন অস্থিরতা বাজারের নিয়মিত অংশ হয়ে থাকবে।