প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগে এক যুবককে স্থানীয় জনতা গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে। বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে এলাকার মানুষ উত্তাল হয়ে ওঠে এবং ওই যুবকের ফাঁসির দাবিতে থানার সামনে বিক্ষোভ মিছিলও অনুষ্ঠিত হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত যুবকের নাম মিলন মিয়া। তিনি বড়খোলা গ্রামের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মিলন মিয়া সম্প্রতি পারিবারিক কলহের জেরে তার স্ত্রীকে তালাক দেন। সোমবার বিকেলে তিনি বড়খোলা জামে মসজিদের ইমামের কাছে যান এবং স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনার জন্য চাপ প্রয়োগ শুরু করেন। ইমাম এ বিষয়ে অপারগতা প্রকাশ করলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে অশালীন আচরণ শুরু করেন। এক পর্যায়ে তিনি মসজিদের ভেতরে থাকা পবিত্র কোরআন শরীফকে পায়ের নিচে রাখার পাশাপাশি অত্যন্ত আপত্তিকর মন্তব্য করেন।
কোরআন অবমাননার খবর দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তের মধ্যে শত শত মুসল্লি ও স্থানীয় মানুষ মসজিদের সামনে জড়ো হন। উত্তেজিত জনতা মিলন মিয়াকে ধরে গণধোলাই দেয়। খবর পেয়ে কমলগঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্তকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
এ ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে শতশত মানুষ বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে কমলগঞ্জ থানার প্রধান ফটকের সামনে গিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা যুবকের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করে। পুলিশের কঠোর নজরদারি ও উপস্থিতি সত্ত্বেও জনতার উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন ছিল।
পরিস্থিতি শান্ত রাখতে সহকারী পুলিশ সুপার মো. ওয়াহিদুজ্জামান রাজু ঘটনাস্থল ও থানার এলাকায় অবস্থান নেন। তিনি বিক্ষুব্ধ জনতাকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান এবং বলেন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। তিনি আরও বলেন, “আমরা ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি। আইনের মাধ্যমে অপরাধীর কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।” পুলিশের আশ্বাসে রাত গভীর হলে বিক্ষোভকারীরা মিছিল শেষ করে ও এলাকায় শান্তি ফিরতে শুরু করে।
কমলগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল আউয়াল সাংবাদিকদের জানান, যুবককে আটক করা হয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তিনি বলেন, “ঘটনার তদন্ত চলছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” পুলিশ জানায়, রাত ৩টার সময় পর্যন্ত থানায় নতুন কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি। তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই ঘটনায় অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্বসহকারে বিষয়টি দেখছে।
এ ঘটনার প্রেক্ষিতে এলাকার মানুষও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, ধর্মীয় অনুভূতি ও সংবেদনশীলতার সঙ্গে জড়িত বিষয়গুলোর প্রতি সবসময় সতর্ক থাকা প্রয়োজন। পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগ শুধু কমলগঞ্জ নয়, দেশের জন্যও একটি সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা এলাকায় পর্যাপ্ত নজরদারি চালাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে ব্যবস্থা নিচ্ছে।
স্থানীয় মুসল্লি ও জনসাধারণের মতে, জনতার তাড়াহুড়ো ও উত্তেজনা স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া ছিল। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এই ঘটনার মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের কাছে পাঠানো বার্তাও স্পষ্ট, ধর্মীয় মূল্যবোধে আঘাতের ঘটনা কোনভাবেই সহ্য করা হবে না।
পুলিশ ও স্থানীয় নেতাদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ঘটনার সঙ্গে যুক্ত সকল পক্ষকে আইনের আওতায় আনা হবে। এলাকার শান্তি ও সামাজিক সাম্য বজায় রাখার জন্য পুলিশের পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে। এই ঘটনার পর কমলগঞ্জ ও আশপাশের এলাকা যথেষ্ট সতর্ক রয়েছে। পুলিশ স্থানীয়দের সহায়তায় এবং সজাগ নজরদারির মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাজ করছে।