চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চুরি করতে গিয়ে কিশোরের মৃত্যু

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬
  • ১১ বার
আনোয়ারায় চুরি কিশোর মৃত্যু ঘটনা

প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় চুরি করার চেষ্টা করার সময় একটি ছয়তলা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে মহিম (১৮) নামের এক কিশোরের মৃত্যু ঘটেছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকার হাসেম কমপ্লেক্স নামের ভবন থেকে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান, ঘটনাস্থলেই মহিমের মৃত্যু হয়।

নিহত মহিম কর্ণফুলী উপজেলার দৌলতপুর এলাকার মো. কামালের ছেলে। তবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে আনোয়ারা উপজেলার শোলকাটা মেডিকেল এলাকার পাশে নানাবাড়িতে বসবাস করতেন। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার গভীর রাতে ভবনটিতে অস্বাভাবিক শব্দ শুনে দারোয়ান বাইরে বের হলে একজন যুবক ভবনের ওপর থেকে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে অবহিত করা হয়। পুলিশ আহত অবস্থায় মহিমকে উদ্ধার করে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, মহিম ‘কিশোর গ্যাং’ হিসেবে পরিচিত ‘জ্ঞান সম্রাট’ নামের একটি গ্রুপের সদস্য ছিলেন। এ ছাড়া জানা যায়, এর আগে তিনি একাধিকবার চুরির সময় ধরা পড়েছেন। ঘটনার পর মঙ্গলবার সকালে কয়েকজন কিশোর স্থানীয় একটি মেডিকেল সেন্টারে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর চালায়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

তবে নিহতের পরিবারের দাবি, মহিমকে হয়তো পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তার খালা সানোয়ারা বেগম বলেন, “আমার বোনের ছেলেকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। সে ভবন থেকে পড়ে মারা যায়নি। আমরা চাই এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার হোক।” পরিবারের অভিযোগ এবং পুলিশের প্রাথমিক তথ্যের মধ্যে তফাৎ থাকার কারণে তদন্তে জোর দেওয়া হচ্ছে।

লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নেওয়ার সময়ও পুলিশ ও নিহতের স্বজনদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডার ঘটনা ঘটে। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। তিনি বলেন, “ঘটনাটির তদন্ত চলছে। তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, হাসেম কমপ্লেক্স এলাকার ছাদ ও ভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা অপর্যাপ্ত। তরুণদের নানান জটিল সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণে অপরাধের দিকে ঝোঁক তৈরি হচ্ছে। মহিমের মৃত্যুর ঘটনা পুরো এলাকায় শোক এবং আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। এলাকার শিশু-কিশোর ও তাদের পরিবারের সদস্যরা এই ধরনের ঘটনা থেকে সাবধান থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন।

এ ঘটনায় পুলিশ প্রশাসন তদন্তে দেরি না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ভবনের মালিক ও অন্যান্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত দিকগুলোও খতিয়ে দেখা হবে। এছাড়া, স্থানীয়ভাবে সামাজিক কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, মহিমের মতো কিশোরদের অপরাধের পথে ঠেলা সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা এবং পরিবারের সমর্থনের অভাবের ফল। তারা বলছেন, এই ধরনের ঘটনায় শুধু আইনগত ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়, বরং স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগও নিতে হবে।

চুরি করতে গিয়ে ভবন থেকে পড়ে মৃত্যু বা হত্যার সম্ভাবনা—এ ধরনের ঘটনা সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিশোর অপরাধীদের পুনর্বাসন, শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি এবং সামাজিক সহায়তা কার্যক্রমের মাধ্যমে ভবিষ্যতে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত