প্রকাশ: ১১ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালীর অচল থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমায় অবস্থানরত ১৪টি জাহাজ থেকে একযোগে ৬০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল, ৪১ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি এবং ২ লাখ ৪৭ হাজার মেট্রিক টন এলএনজি খালাস করা হচ্ছে। বন্দরের কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের বিশেষ সহায়তা নেওয়া হচ্ছে।
চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গা উপকূলের ডলফিন জেটিতে সিঙ্গাপুর থেকে আগত এমটি লিয়ান হু বর্তমানে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল খালাস করছে। পাশের জেটিতে এমটি শিউ চি নামের জাহাজ ২৭ হাজার ২০৪ মেট্রিক টন ডিজেল খালাসের কাজ সম্পন্ন করছে। আগামী বৃহস্পতিবার থেকে শনিবারের মধ্যে আরও অন্তত তিনটি জাহাজ—এসপিটি থেমিস, র্যাফেলস সামুরাই এবং চ্যাং হ্যা হং টু—চট্টগ্রাম বন্দরে আসবে, প্রতিটিতে ৩০ হাজার মেট্রিক টনের বেশি ডিজেল আনবে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানিয়েছেন, জ্বালানি সরবরাহে কোনো বিঘ্ন না পড়তে দ্রুত বাংকারিং এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদেরও বিষয়টি জানানো হয়েছে, যাতে সাপ্লাই চেইন নিরবচ্ছিন্ন থাকে। বঙ্গোপসাগরের মহেশখালী ও কুতুবদিয়া এলাকায় দুটি জাহাজ মিলিয়ে ৪১ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন এলপিজি খালাস করছে। এছাড়া আল জোর ও আল জাসসিয়া নামের আরও দুটি জাহাজ ১ লাখ ২৬ হাজার মেট্রিক টন এলএনজি খালাস করছে। আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে লুসাইল এবং আল গালায়েল নামের জাহাজ দুটি বন্দরে পৌঁছাবে, যেখানে রয়েছে ১ লাখ ২৫ হাজার মেট্রিক টন এলএনজি।
চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের সহকারী কমিশনার শরীফ মো. আল আমিন জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট পরীক্ষণ ও অ্যাসেসমেন্ট গ্রুপকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যাতে ডকুমেন্ট সাবমিশনের পর দ্রুততম সময়ে জাহাজ খালাস করা যায় এবং কোনো ধরনের দেরি বা বিঘ্ন না ঘটে। বন্দরে বর্তমানে দুইটি অয়েল ট্যাংকার ৪০ হাজার মেট্রিক টন ফার্নেস অয়েল খালাসের অবস্থায় রয়েছে। পাশাপাশি ক্রুড অয়েলবাহী দুইটি জাহাজও বন্দরের জলসীমায় অবস্থান করছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আপদকালীন পরিস্থিতিতে এ ধরনের সরবরাহে জ্বালানি সংকট কিছুটা সামলানো গেলেও ভবিষ্যতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মজুত সক্ষমতা বাড়ানো অত্যাবশ্যক। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় তেল বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো যেমন পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা এবং অন্যান্য কোম্পানির ট্যাংকার ব্যবহার জরুরি।
ইস্টার্ন রিফাইনারীর সাবেক মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মনজারে খোরশেদ আলম জানান, দেশে বর্তমানে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। আনুমানিক এক মাসের মজুত থাকায় ভবিষ্যতেও সরবরাহ অব্যাহত রাখা সম্ভব। নতুন জাহাজে এলপিজি, এলএনজি এবং অপরিশোধিত তেল আসার কারণে মজুতের ক্ষতি হবে না। তিনি বলেন, বিভিন্ন তেল কোম্পানির ট্যাংকগুলো দক্ষভাবে ব্যবহার করা প্রয়োজন, যাতে আসা তেল সঠিকভাবে রাখা যায় এবং সাপ্লাই চেইন কার্যকরভাবে পরিচালিত হয়।
চট্টগ্রাম বন্দরের বর্হিনোঙ্গর, পতেঙ্গার গুপ্তখাল ও ডলফিন জেটিতে বিদেশ থেকে আমদানি হওয়া সব ধরনের জ্বালানি খালাস করা হয়। বন্দরের ৬৪ নটিকাল মাইল জলসীমার মধ্যে থাকা এলপিজি, এলএনজি এবং অন্যান্য জ্বালানিবাহী জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গুপ্তছড়াঘাট ও ডলফিন ঘাটে ভিড় করা জাহাজ থেকে দ্রুত তেল খালাস করে বাজারে সরবরাহের ব্যবস্থা করতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ স্টেকহোল্ডারদের নির্দেশ দিয়েছে।
এই কার্যক্রমের ফলে দেশের জ্বালানি সরবরাহে কোনো অপ্রত্যাশিত বাধা সৃষ্টি হবে না বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করাচ্ছেন, ভবিষ্যতের জন্য জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতেরও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন, যাতে দেশের সাপ্লাই চেইন স্থিতিশীল থাকে এবং সাধারণ জনগণের জ্বালানি চাহিদা নিরবচ্ছিন্নভাবে পূরণ করা যায়।