কিম জং উন: ইরানের ওপর হামলা শান্তি নষ্ট করছে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬
  • ৬৩ বার
কিম জং উন ইরানের সমর্থন প্রকাশ

প্রকাশ: ১১ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে সমর্থন জানিয়েছেন এবং একই সঙ্গে ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার তীব্র নিন্দা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। পিয়ংইয়ংয়ের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সির (কেসিএনএ) বুধবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের জনগণ তাদের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের অধিকার ব্যবহার করেছে এবং উত্তর কোরিয়া তা সম্মান করে।

কেসিএনএর বরাতে জানানো হয়, কিম জং উন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই আগ্রাসন মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি। তিনি বলেন, আঞ্চলিক শান্তি নষ্ট করা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অস্থিরতা সৃষ্টি করা গ্রহণযোগ্য নয়। দেশটির এই বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, কোনো দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা আন্তর্জাতিক নিয়ম ও ন্যায়ের পরিপন্থী।

উত্তর কোরিয়ার মুখপাত্র আরও বলেন, ১২ দিন আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের ওপর যুদ্ধে নেমে যাওয়ার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে তাদের কর্মকাণ্ড ‘গ্যাংস্টারসুলভ আচরণ’ হিসেবে নিন্দনীয়। তারা ইরানের ওপর এই বেআইনি হামলা চালিয়ে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিপন্ন করছে।

এদিকে কিম জং উন দেশটির সর্বাধুনিক ও বৃহত্তম রণতরি ‘চো হাইওন’ থেকে কৌশলগত ক্রুজ মিসাইল পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ পর্যবেক্ষণ করেছেন। এই পরীক্ষা ছিল কিমের উপস্থিতিতে দ্বিতীয়বারের মতো, যা তার কৌশলগত প্রতিরক্ষা সক্ষমতার জোরালো প্রদর্শন। কিমের বক্তব্যে বলা হয়, শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য পরমাণু অস্ত্র সক্ষমতা বজায় রাখা এবং সম্প্রসারণের কৌশলগত গুরুত্ব অপরিহার্য।

উত্তর কোরিয়া দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ এবং পারমাণবিক কর্মসূচি ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা মোকাবিলা করে আসছে। কিম জং উনের দৃষ্টিতে, এসব অস্ত্র তাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য। তিনি বারবার বলেছেন, দক্ষিণ কোরিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য আগ্রাসন রুখতে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু ক্ষমতা অপরিহার্য।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনার পুনরায় ইঙ্গিত দিয়েছে। কিম জং উন জানিয়েছেন, যদি ওয়াশিংটন পিয়ংইয়ংকে পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে মেনে নেয়, তবে দুই দেশ একযোগে চলতে পারে। এতে অঞ্চল এবং বিশ্ব পর্যায়ে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

এবারের মিসাইল উৎক্ষেপণ এবং কিম জং উনের অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে, উত্তর কোরিয়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের কৌশলগত সক্ষমতা দৃঢ়ভাবে প্রদর্শন করতে চায়। পাশাপাশি ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির প্রতি তাদের সমর্থন এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নিন্দা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে উত্তেজনা এবং শক্তি সমতার নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, কিম জং উনের এই সমর্থন এবং প্রতিরক্ষা প্রদর্শন মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এবং পারমাণবিক সক্ষমতার ব্যালান্সে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। ইরানের নতুন নেতৃত্বের প্রতি আন্তর্জাতিক সমর্থন এবং আগ্রাসন বিরোধী রোস্টার মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার দিকেও দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।

এভাবে উত্তর কোরিয়ার সমর্থন, কৌশলগত মিসাইল পরীক্ষা এবং ইরানের রাজনৈতিক নতুন নেতৃত্বকে স্বীকৃতি দেওয়া আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরান ও উত্তর কোরিয়ার এই অবস্থান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের নীতিমালার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com