প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
জাতীয় ঐক্য বজায় রাখতে পারলে বাংলাদেশ আর কখনো পথ হারাবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশের মানুষের অধিকার, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের চেতনায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর মতে, ভবিষ্যতে যেন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী জনগণের অধিকার কেড়ে নিতে না পারে, সে জন্য জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরার পাশাপাশি বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং জনগণের অধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন সরকারপ্রধান।
তারেক রহমান বলেন, দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ থাকলে বাংলাদেশকে আর পথ হারাতে হবে না। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের জন্য একটি শক্তিশালী জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে বিশেষভাবে উঠে আসে জনগণের অধিকার রক্ষা, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মান ও সক্ষমতা বজায় রাখার বিষয়।
প্রধানমন্ত্রী ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহ স্মরণ করে বলেন, ওই দিন ছিল শত্রু-মিত্র চেনার দিন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সেই সময় দেশ ও রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতার প্রশ্নে সিপাহি-জনতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মধ্যে ঐতিহাসিক যোগসূত্র তুলে ধরেন।
তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের যুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের লড়াই, আর ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ছিল স্বাধীনতা রক্ষার লড়াই। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতা যেভাবে দেশের স্বাধীনতা রক্ষায় ভূমিকা রেখেছে, একইভাবে ১৯৭৫ সালে সিপাহি-জনতা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ভূমিকা পালন করেছিল। এসব ঐতিহাসিক ঘটনাকে তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে ৭ নভেম্বরের নায়ক হিসেবে দেশপ্রেমিক সিপাহি-জনতার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়। তিনি বলেন, দেশের প্রতি ভালোবাসা এবং স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার অঙ্গীকার থেকেই ওই সময় সিপাহি-জনতা ভূমিকা রেখেছিল। তাঁর বক্তব্যে জাতীয় ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে সাধারণ মানুষ ও রাষ্ট্রীয় বাহিনীর ভূমিকার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।
জিয়াউর রহমানের ভূমিকা প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনে যেভাবে তিনি দেশের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন, একইভাবে ৭ নভেম্বরেও বাংলাদেশের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক ভূমিকার প্রসঙ্গ উঠে আসে। ৭ নভেম্বরের ঘটনাকে তিনি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার ইতিহাসের সঙ্গে সম্পর্কিত করে ব্যাখ্যা করেন।
অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগও তোলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, যারা বাংলাদেশকে তাবেদারি রাষ্ট্রে পরিণত করতে চেয়েছিল এবং দেশের সশস্ত্র বাহিনীর গৌরবকে ভূলুণ্ঠিত করতে চেয়েছিল, তাদের ষড়যন্ত্র সিপাহি-জনতা রুখে দিয়েছিল। তবে তাঁর দাবি, সেই ষড়যন্ত্র পরবর্তী সময়েও থেমে থাকেনি।
তারেক রহমান আরও অভিযোগ করেন, পরবর্তী সময়ে মহাজোট গঠন করে পিলখানায় সেনা হত্যার ঘটনা ঘটানো হয়েছে এবং দেশে ফ্যাসিবাদ কায়েম করা হয়েছে। বক্তব্যে তিনি এসব ঘটনাকে দেশের স্বাধীনতা, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত করেন। তবে এসব বিষয়ে তাঁর বক্তব্য ও অভিযোগকে রাজনৈতিক অবস্থান হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন; সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলোর পূর্ণাঙ্গ ঐতিহাসিক ও আইনি মূল্যায়ন পৃথক বিষয়।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে তাঁর আহ্বান। তিনি মনে করেন, অতীতের মতো কোনো পরিস্থিতিতে যেন জনগণের অধিকার হরণ করা সম্ভব না হয়, সে জন্য দেশের মানুষের মধ্যে ঐক্য ও সংহতির ভিত্তি শক্তিশালী করতে হবে। রাষ্ট্র পরিচালনায় জনগণের অধিকার, স্বাধীনতার মর্যাদা এবং সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা তাঁর বক্তব্যে প্রতিফলিত হয়েছে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ৭ নভেম্বর একটি আলোচিত ও তাৎপর্যপূর্ণ দিন। ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতা, সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এবং সিপাহি-জনতার ভূমিকার কারণে দিনটি নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও পক্ষের ব্যাখ্যা রয়েছে। সময়ের পরিক্রমায় দিবসটির তাৎপর্য রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি জাতীয় ইতিহাসের আলোচনাতেও গুরুত্বপূর্ণ স্থান পেয়েছে। ফলে দিবসটি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে ইতিহাসের ব্যাখ্যা, জাতীয় ঐক্য এবং রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা সামনে এসেছে।
এদিকে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে এর আগে আর্মি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বর্ণাঢ্য ডিসপ্লে উপভোগ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী জুবাইদা রহমান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে তাঁরা ডিসপ্লের বিভিন্ন আয়োজন প্রত্যক্ষ করেন। দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে ঐতিহাসিক ঘটনাবলির স্মরণ এবং জাতীয় সংহতির বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে জাতীয় ঐক্যের যে আহ্বান উঠে এসেছে, তা বাংলাদেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক বাস্তবতায় গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয়। একটি দেশের স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন এবং গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার জন্য জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা, পারস্পরিক সহনশীলতা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও জাতীয় স্বার্থে ঐকমত্য গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা এ ধরনের দিবসের আলোচনায় বিশেষভাবে সামনে আসে।
বিশেষ করে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ এবং দায়িত্বশীল ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের ভোটাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, আইনের শাসন এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নিশ্চিত করা গেলে জাতীয় ঐক্যের ভিত্তি আরও শক্তিশালী হতে পারে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে সংঘাতের পরিবর্তে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্যে রাখাও একটি স্থিতিশীল রাষ্ট্র গঠনের জন্য জরুরি।
৭ নভেম্বরের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অতীতের ঐতিহাসিক ঘটনাগুলো স্মরণ করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য ঐক্যবদ্ধ থাকার বার্তা দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর ছিল—দেশের মানুষ একসঙ্গে থাকলে কোনো অপশক্তি জনগণের অধিকার ও রাষ্ট্রের স্বাধীনতাকে বিপন্ন করতে পারবে না। জাতীয় ঐক্য, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার এই আহ্বানকে সামনে রেখেই পালিত হচ্ছে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস।
স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত