স্বর্ণের দাম টানা দুই দফায় ৫ হাজারের বেশি বেড়েছে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬
  • ৩ বার
স্বর্ণের দাম দুই দফায় বাড়ল

প্রকাশ: ১১ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম টানা উত্থান অব্যাহত রেখেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) বুধবার (১১ মার্চ) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বৃদ্ধি ঘোষণা করেছে। এর আগে মঙ্গলবার (১০ মার্চ) এক দফায় ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা দাম বৃদ্ধি করা হয়েছিল। এভাবে সর্বশেষ দুই দফায় স্বর্ণের মূল্য মোট ৫ হাজার ৪৮২ টাকা বেড়েছে। নতুন সমন্বয় অনুযায়ী ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম এখন ২ লাখ ৭০ হাজার ৪৩০ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৫৮ হাজার ১২৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২১ হাজার ২৬৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৮০ হাজার ৬১৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

স্বর্ণের মূল্যের এই ধারাবাহিক উত্থান মূলত আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দর, ডলার বিনিময় হার এবং দেশীয় চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। বাজুসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়ে যাওয়ায় সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশের বাজারে চলতি বছর এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম ৪০ বার সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ২৬ দফা দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং ১৪ দফা কমানো হয়েছে।

এছাড়া স্বর্ণের সঙ্গে রুপার দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। ভরিতে ১৭৫ টাকা বাড়ানো হয়েছে, যার ফলে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৭০৭ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম এখন ৬ হাজার ৪১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ৪৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি ৪ হাজার ৮২ টাকা। চলতি বছর রুপার বাজারে ২৫ দফা সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৬ দফা দাম বৃদ্ধি এবং ৯ দফা কমানো হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, স্বর্ণ ও রুপার এই ধারাবাহিক মূল্য বৃদ্ধির ফলে বাজারে বিনিয়োগকারীদের মনোভাব প্রভাবিত হচ্ছে। বিশেষ করে রোজগারভিত্তিক সাধারণ মানুষ এবং ছোট ব্যবসায়ীরা স্বর্ণ ক্রয়-বিক্রয়ে এখন আরও সংযমী হচ্ছে। তবে, দীর্ঘমেয়াদে এটি বিনিয়োগ ও সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে নতুন দিক নির্দেশ করতে পারে।

দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় নিয়ে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে, আন্তর্জাতিক বাজারে চলমান অবস্থার সঙ্গে বাংলাদেশি মুদ্রার বিনিময় হার এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ও অন্যান্য কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। তাই ক্রেতা এবং বিনিয়োগকারীদেরকে বাজার পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

বাজারে স্বর্ণ ও রুপার এই উত্থান বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক দিককে প্রতিফলিত করছে। স্বর্ণের মূল্যের ধারাবাহিক বৃদ্ধি দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থানের সঙ্গে জড়িত। এ পরিস্থিতিতে বাজুসের প্রতি দায়িত্বশীল সমন্বয় বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত