প্রকাশ: ১১ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে আজ বুধবার (১১ মার্চ) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজ জামিন মঞ্জুর করেছেন। আদালতের এই নির্দেশের ফলে তার বিরুদ্ধে থাকা দুটি মামলায় জামিন নিশ্চিত হয়েছে এবং আইনজীবী তাসলিমা জাহান পপি জানিয়েছেন, আনিস আলমগীরের কারামুক্তিতে আর কোনো বাধা নেই।
মামলার প্রেক্ষাপটে জানা গেছে, গত ১৫ জানুয়ারি দুদক সাংবাদিক আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং মানিলন্ডারিং সংক্রান্ত অভিযোগ দায়ের করে। এরপর ২৫ জানুয়ারি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও দুদকের সহকারী পরিচালক আখতারুজ্জামান আদালতে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। এর প্রেক্ষিতে ২৮ জানুয়ারি সাংবাদিককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, আনিস আলমগীরের নামে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ যথাক্রমে ২৫ লাখ এবং ৩ কোটি ৮৪ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮৯ টাকা, যা মিলিয়ে মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ কোটি ৯ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮৯ টাকা। পাশাপাশি তার পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা। এতে তার মোট অর্জিত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ কোটি ২৫ লাখ ৫৮ হাজার ৭৮৯ টাকা।
অন্যদিকে তার বৈধ আয়ের উৎস থেকে মোট আয় নির্ধারিত হয়েছে ৯৯ লাখ ৯ হাজার ৮৫১ টাকা। বৈধ আয়ের মধ্যে অতীত সঞ্চয় ৫৪ লাখ ৪৫ হাজার ৮২১ টাকা, টক শো ও কনসালটেন্সি থেকে আয় ১৯ লাখ ৩৯ হাজার ৯৭৭ টাকা, প্লট বিক্রি থেকে ২২ লাখ টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক সুদ বাবদ ৩ লাখ ২৪ হাজার ৫৩ টাকা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আদালতের হিসাব অনুযায়ী, ঘোষিত আয় ও গ্রহণযোগ্য আয়ের তুলনায় আনিস আলমগীরের সম্পদ ৩ কোটি ২৬ লাখ ৪৮ হাজার ৯৩৮ টাকা বেশি, যা মোট সম্পদের প্রায় ৭৭ শতাংশ। এই অংশকে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে একাধিক মামলার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ১৪ ডিসেম্বর মামলা দায়ের করা, যেখানে জুলাই রেভুলেশনারী এলায়েন্সের সংগঠক আরিয়ান আহমেদ উত্তরা পশ্চিম থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় গত ১৫ ডিসেম্বর আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন এবং ২০ ডিসেম্বর সাংবাদিককে কারাগারে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে ৫ মার্চ হাইকোর্ট তাকে জামিন দিয়েছেন।
সাংবাদিক আনিস আলমগীরের জামিন পাওয়ার পর তার আইনজীবী তাসলিমা জাহান পপি সাংবাদিককে নিয়ে বলেন, ‘আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী জামিন মঞ্জুর হওয়ায় এখন তার কারামুক্তিতে আর কোনো বাধা নেই। তিনি আইন অনুযায়ী নিজ দায়িত্বে চলাফেরা করতে পারবেন।’
আইন ও বিচার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই মামলার প্রক্রিয়া দেশের বিচারব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও আইন প্রয়োগে জনগণের আস্থা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ ধরনের মামলা ও তা সংক্রান্ত তদন্ত প্রক্রিয়া নিশ্চিত করে যে, উচিৎ ও অবৈধ সম্পদ অর্জন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
দুদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাংবাদিক আনিস আলমগীরের সম্পদ সম্পর্কিত অভিযোগ ও তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান থাকবে। আদালতের জামিন নির্দেশের পরও প্রয়োজনীয় নথি যাচাই এবং প্রমাণ সংগ্রহ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের অংশীদাররা এ জামিনের খবরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন। তারা মনে করছেন, বিষয়টি দেশের গণমাধ্যম এবং সাংবাদিকতার স্বাধীনতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া এটি বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা এবং প্রসিকিউশনের কার্যকারিতা প্রদর্শনের দিকেও ইঙ্গিত দেয়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সাংবাদিক আনিস আলমগীরের জামিন প্রাপ্তি দেশের বিচার ও আইন প্রয়োগ ব্যবস্থায় একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে ধরা হচ্ছে। আদালতের নির্দেশের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে নাগরিক ও সাংবাদিকরা তাদের স্বাধীনভাবে কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন এবং আইনগত প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা বজায় থাকবে।