ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে প্রধান কার্যসূচি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬
  • ২ বার
ত্রয়োদশ সংসদ অধিবেশন কার্যসূচি

প্রকাশ: ১২ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় শুরু হচ্ছে। এক মাসেরও বেশি সময়ব্যাপী চলতে পারে এই অধিবেশন, যার প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে নতুন সংসদ ও সরকারের কার্যক্রম শুরু করা এবং গুরুত্বপূর্ণ আইন ও অধ্যাদেশ পর্যালোচনা করা। অধিবেশনের প্রথম দিনের কার্যক্রম ঘিরে ইতিমধ্যেই সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে সংসদ প্রশাসন।

প্রথম অধিবেশনটি পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে সূচনা হবে। এরপর স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার পদে কোনো একাধিক প্রার্থী না থাকলে কণ্ঠভোটের মাধ্যমে তাদের নির্বাচন সম্পন্ন হবে। নির্বাচনের পর প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিটের জন্য অধিবেশন মুলতবি করা হবে। এই বিরতিতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন নির্বাচিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন। এরপর নতুন স্পিকারের সভাপতিত্বে অধিবেশনের মূল কার্যক্রম শুরু হবে।

অধিবেশনে পাঁচ সদস্যের একটি সভাপতিমণ্ডলী গঠন করা হবে। পাশাপাশি শোক প্রস্তাব উত্থাপন ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। তবে এই অধিবেশনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো সরকার প্রদত্ত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৮ মাসের মেয়াদে জারি করা প্রায় ১৩০টি অধ্যাদেশ সংসদে উপস্থাপন করা। এসব অধ্যাদেশের সুষ্ঠু আলোচনা ও প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে।

প্রসঙ্গত, সংবিধানের ৭২(১) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী বছরের প্রথম অধিবেশন এবং নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন হিসেবে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেবেন। রাষ্ট্রপতির ভাষণই প্রথম দিনের অধিবেশন মুলতবির সংকেত হিসেবে গণ্য হবে। ভাষণে দেশের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট এবং সরকারের অগ্রাধিকারসূচি তুলে ধরার পাশাপাশি সাংবিধানিক ও জাতীয় ইস্যুগুলো আলোচিত হবে।

সংসদের প্রথম অধিবেশনের এই সূচি নতুন সরকারের কার্যক্রমের ভিত্তি স্থাপন করবে। শপথবাক্য গ্রহণের মাধ্যমে নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার সাংবিধানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। এর ফলে সংসদে সুষ্ঠু আলোচনার পরিবেশ তৈরি হবে এবং কার্যনির্বাহী ও আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত কাজগুলো সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হবে।

এই অধিবেশন দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মুহূর্তের প্রতিফলন। সংসদ সদস্যরা নতুন সরকারের নীতি, পরিকল্পনা এবং আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করবেন। এছাড়া প্রাথমিক আলোচনার মাধ্যমে দেশের সার্বিক উন্নয়ন, নাগরিক সেবা ও অর্থনৈতিক নীতি বাস্তবায়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

অধিবেশন চলাকালীন গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ এবং আইনগুলো সংরক্ষণ, সংশোধন ও প্রণয়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হবে। বিশেষ কমিটি অধ্যাদেশগুলো বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবনা সংসদে উপস্থাপন করবে। এছাড়া নতুন সরকারের পরিকল্পিত নীতি ও কার্যক্রম জনগণের কাছে তুলে ধরার জন্য রাষ্ট্রপতির ভাষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সংসদের প্রথম অধিবেশন দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমকে নতুন মাত্রা দেবে। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদে নেতৃত্ব কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হবে। বিশেষ কমিটির মাধ্যমে অধ্যাদেশ পর্যালোচনা ও প্রয়োজনীয় সংশোধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেশ ও সরকারের অগ্রাধিকারসূচি স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করবে।

সাধারণভাবে বলা যায়, ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সূচনার সঙ্গে যুক্ত। এটি নতুন সরকারের কার্যক্রম শুরু করার, আইন প্রণয়ন ও অধ্যাদেশ পর্যালোচনার, এবং সাংবিধানিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার জন্য নির্ধারিত। জনগণ এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অধিবেশনকে দেশের রাজনৈতিক গতিশীলতার প্রমাণ হিসেবে দেখবেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত