ত্রয়োদশ সংসদে স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত মেজর (অব.) হাফিজ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬
  • ৩ বার
ত্রয়োদশ সংসদে স্পিকার নির্বাচিত হাফিজ

প্রকাশ: ১২ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার পদে নির্বাচিত হয়েছেন মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে এই ঘোষণা আসে। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই অধিবেশনে নতুন সংসদের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো।

বৃহস্পতিবার সকালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। সরকারপ্রধান তারেক রহমান স্পিকারের জন্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের নাম প্রস্তাব করেন। পরে প্রধান বিরোধী দলের পক্ষ থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম দলীয় সমর্থন দেন। বিরোধী দলের আরও একজন নেতা আব্দুল্লাহ মো. তাহেরও এই প্রস্তাবের সমর্থন জানান। এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সংসদের প্রথম বৈঠক আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের গঠনকেই গুরুত্ব দিয়ে বলা যায়, এটি দ্বাদশ সংসদের অবসানের পর দীর্ঘ দেড় বছরের ব্যবধানে অনুষ্ঠিত নির্বাচন ও নতুন সরকারের সূচনা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর ভেঙে দেওয়া হয়েছিল দ্বাদশ জাতীয় সংসদ। এরপর গত ১২ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সরকারপ্রধান বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজয়ী হয়। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোট ৭৭টি আসন পেয়ে সংসদের প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায় থাকে। অন্যদিকে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করায় তারা সংসদে কোনো প্রতিনিধিত্ব পাননি।

সংবিধান অনুযায়ী সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে সংসদ অধিবেশন আহ্বান করা বাধ্যতামূলক। সেই বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ১২ মার্চ ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেন। অধিবেশনের শুরুতেই কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয় এবং স্পিকার পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের নির্বাচন শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি নতুন সংসদের স্থিতিশীলতা ও কার্যকারিতার প্রতীক হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। তিনি সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হলেও রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জ্ঞান ও অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ। নতুন স্পিকার হিসেবে তার দায়িত্বশীল নেতৃত্ব সংসদে কার্যকরী ও গঠনমূলক সংলাপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিন সংসদের কার্যক্রমে প্রধানত নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের নির্বাচন সম্পন্ন করার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহের প্রারম্ভিক আলোচনা করা হয়েছে। ডেপুটি স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। শপথ গ্রহণের মাধ্যমে উভয় কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ত্রয়োদশ সংসদের এই প্রথম অধিবেশন বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। সরকারি দলের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও বিরোধী দলের শক্ত উপস্থিতি এবং সমালোচনামূলক ভূমিকা সংসদের কার্যক্রমকে আরও সমন্বিত ও গঠনমূলক করতে সহায়ক হবে। এছাড়া, নতুন স্পিকারের নেতৃত্বে সংসদে সংলাপের সংস্কৃতি বৃদ্ধির পাশাপাশি রাজনৈতিক উত্তেজনা ও মতবিরোধের সমাধানও সম্ভব হবে।

অধিবেশন চলাকালীন সময়ে সংসদ সচিবালয় ও উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা নির্দেশিত প্রণালী অনুসারে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। স্পিকার নির্বাচনের পরে সংসদে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা এবং বিভিন্ন সংসদীয় কমিটি গঠন প্রক্রিয়া শুরু হবে। বিশেষ করে নতুন স্পিকারের নেতৃত্বে আইন, নীতি নির্ধারণ ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের বিষয়ে সংলাপ হবে।

এই নতুন সংসদে জনগণের আশা ও আস্থা প্রতিফলিত হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, নতুন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের নেতৃত্বে সংসদ কার্যকর, স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীলভাবে চলতে পারে, যা দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

নতুন সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে সমন্বয় ও সংলাপ বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক উন্নয়নে কার্যকরী ভূমিকা পালন করা সম্ভব হবে। স্পিকারের নেতৃত্বে রাষ্ট্রীয় নীতি ও আইন প্রণয়নে সহমত গড়ে তোলা এবং জাতীয় স্বার্থে গঠনমূলক সমালোচনা ও পরামর্শ প্রদান করা এই সংসদের প্রধান লক্ষ্য হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত