শৈলকুপায় মসজিদ কমিটি নিয়ে সংঘর্ষ, আহত অন্তত ১৫

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬
  • ৩ বার
শৈলকুপা মসজিদ কমিটি সংঘর্ষ

প্রকাশ: ১২ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় একটি মসজিদ কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকালে উপজেলার জালিয়াপাড়া গ্রামে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের কাছে এটি এক আতঙ্কময় সকাল হিসেবে ধরা দিয়েছে, যেখানে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক বিষয়কে কেন্দ্র করে হঠাৎ করেই পরিস্থিতি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জালিয়াপাড়া গ্রামের একটি মসজিদের নতুন কমিটি গঠন নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে এলাকায় আলোচনা চলছিল। বিশেষ করে সভাপতি ও সেক্রেটারি পদে কে দায়িত্ব নেবেন, তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়। স্থানীয় বিএনপি নেতা বাদশা এবং আশরাফুল ইসলামের সমর্থকদের মধ্যে এই মতবিরোধ ধীরে ধীরে উত্তেজনায় রূপ নেয়।

ঘটনার দিন সকালে বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে প্রথমে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। স্থানীয়রা জানান, তর্ক-বিতর্কের এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজন উত্তেজিত হয়ে ওঠেন এবং পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। কিছু সময়ের মধ্যেই তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালাতে শুরু করেন। ফলে শান্তিপূর্ণ গ্রামটি মুহূর্তের মধ্যে সংঘর্ষের ময়দানে পরিণত হয়।

সংঘর্ষ চলাকালে লাঠিসোটা ও ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এতে নারীসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে গুরুতর আহত কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ঘটনার পরপরই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেক মানুষ নিজেদের ঘরে অবস্থান নেন এবং পরিস্থিতি শান্ত না হওয়া পর্যন্ত বাইরে বের হতে ভয় পান। স্থানীয় প্রবীণরা জানান, একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে এমন সংঘর্ষ সত্যিই দুঃখজনক এবং এটি পুরো এলাকার সামাজিক পরিবেশকে অস্থির করে তুলেছে।

শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির মোল্লা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মসজিদ কমিটি গঠন নিয়ে বাক-বিতণ্ডার জের ধরেই এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে। তিনি জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে আর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, পরিস্থিতি এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সংঘর্ষে জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতিও চলছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি, তবে অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

স্থানীয়দের মতে, গ্রামাঞ্চলে মসজিদ কমিটি গঠন অনেক সময় সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাবের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। ফলে ছোটখাটো মতবিরোধও বড় সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে। এই ঘটনাও তার একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এলাকাবাসীর অনেকেই মনে করছেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা যদি আগেভাগেই উদ্যোগ নিতেন, তাহলে হয়তো এই সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হতো।

এদিকে আহতদের পরিবারগুলো গভীর উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। অনেকেই হাসপাতালের সামনে অপেক্ষা করছেন প্রিয়জনদের সুস্থতার খবর পাওয়ার আশায়। একজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, “একটি মসজিদ তো আমাদের ঐক্যের প্রতীক হওয়া উচিত। সেখানে কমিটি নিয়ে মারামারি হওয়া সত্যিই দুঃখজনক।”

সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা সামাজিক সম্প্রীতির জন্য বড় ধরনের হুমকি তৈরি করতে পারে। তাই এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সমাজের সচেতন নাগরিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা জরুরি।

শৈলকুপার এই সংঘর্ষ আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে যে, ছোট একটি প্রশাসনিক বা সংগঠনগত বিষয়ও যদি সময়মতো সমাধান না করা হয়, তাহলে তা বড় ধরনের সহিংসতায় রূপ নিতে পারে। এলাকাবাসী আশা করছেন, প্রশাসন দ্রুত পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এনে শান্তি ফিরিয়ে আনবে এবং ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে সে জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত