খালেদা জিয়াসহ বিশিষ্টজনদের মৃত্যুতে সংসদের শোক

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬
  • ৪ বার
খালেদা জিয়া সংসদ শোকপ্রস্তাব

প্রকাশ: ১২ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়েছে এক গম্ভীর ও আবেগঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে। অধিবেশনের শুরুতেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মৃত্যুতে শোকপ্রস্তাব উত্থাপন ও গ্রহণ করা হয়। সংসদের পক্ষ থেকে প্রয়াতদের স্মরণ করে তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয় এবং দেশের রাজনীতি, সমাজ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের অবদানের কথা তুলে ধরা হয়।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনের শুরুতে সংসদের পক্ষ থেকে এই শোকপ্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। শোকপ্রস্তাবে বলা হয়, ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর বাংলাদেশ হারিয়েছে তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং দেশের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে। তিনি শুধু দেশের রাজনীতিতেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পরিচিত ছিলেন একজন দৃঢ়চেতা ও আপসহীন গণতান্ত্রিক নেত্রী হিসেবে। মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে তিনি ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান করে নিয়েছেন।

শোকপ্রস্তাবে আরও উল্লেখ করা হয়, জাতীয় সংসদের সাবেক বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে গণতন্ত্রের পক্ষে তার অবস্থান ও রাজনৈতিক সংগ্রাম দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। সংসদ তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করে এবং দেশের রাজনীতিতে তার অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়।

বাংলাদেশি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা হয়েছে সংসদে। এ তালিকায় রয়েছেন ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের প্রধান ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তাদের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতৃত্ব আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছিল বলে শোকপ্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়।

অধিবেশনে আরও জানানো হয়, বাংলাদেশের রাজনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা বেশ কয়েকজন বরেণ্য ব্যক্তিত্বের মৃত্যুতেও সংসদ গভীর শোক প্রকাশ করছে। তাদের মধ্যে সাবেক রাষ্ট্রপতি এবং বিকল্পধারা বাংলাদেশের সাবেক সভাপতি ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী উল্লেখযোগ্য। দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তিনি একজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময়ও তিনি নীতিনিষ্ঠ নেতৃত্বের জন্য পরিচিত ছিলেন।

এছাড়াও মোট ৩১ জন সাবেক সংসদ সদস্যের মৃত্যুতে সংসদে শোকপ্রস্তাব আনা হয়। এসব ব্যক্তিত্বের জীবন ও কর্ম নিয়ে সংক্ষিপ্ত জীবনবৃত্তান্ত সংসদে পাঠ করা হয়। তাদের রাজনৈতিক জীবন, জনসেবামূলক কর্মকাণ্ড এবং দেশের উন্নয়নে অবদানের কথা স্মরণ করা হয়।

শোকপ্রস্তাবে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন সাবেক সংসদ উপনেতা মতিয়া চৌধুরী, মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানী ও দেশের প্রথম সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল (অব.) কে এম সফিউল্লাহ, সাবেক মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমান, প্রবীণ রাজনীতিবিদ মোস্তফা মোহসীন মন্টু, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক মন্ত্রী আব্দুল করিম খন্দকার এবং প্রবীণ রাজনৈতিক নেতা রমেশ চন্দ্র সেন। দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনে তাদের অবদান সংসদে স্মরণ করা হয় গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে।

শোকপ্রস্তাব পাঠের সময় সংসদ কক্ষে এক আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়। প্রয়াত ব্যক্তিদের স্মরণে তাদের জীবন ও কর্মের সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা হলে অনেক সংসদ সদস্য গভীর মনোযোগ দিয়ে তা শোনেন। সংসদের এই আনুষ্ঠানিকতা দেশের গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়, যেখানে প্রয়াত নেতাদের অবদান স্মরণ করা হয় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায়।

শোকপ্রস্তাব উত্থাপনের পর সংসদ সদস্যরা দাঁড়িয়ে প্রয়াতদের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। এই নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে সংসদ তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শন করে। এরপর শোকপ্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় সংসদের অধিবেশনের শুরুতে এ ধরনের শোকপ্রস্তাব গ্রহণ দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। এটি শুধু প্রয়াত নেতাদের স্মরণ করার একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান জানানোরও একটি মাধ্যম।

বিশেষ করে বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ সংসদের জন্য একটি তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। কারণ তিনি দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন এবং বিভিন্ন সময় সরকারের পাশাপাশি বিরোধী দলের নেত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

সংসদের এই শোকপ্রস্তাবের মধ্য দিয়ে দেশি-বিদেশি বরেণ্য ব্যক্তিত্বদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের পাশাপাশি তাদের অবদানকে স্মরণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এটি দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনে তাদের অবদানের প্রতি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে রইল।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত