প্রকাশ: ১২ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে অন্যতম সফল ওপেনার ও সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল ভবিষ্যতে দেশের ক্রিকেট প্রশাসনের সর্বোচ্চ পদে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। সম্প্রতি একটি পডকাস্টে অংশ নিয়ে তিনি জানান, সুযোগ পেলে তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড–এর সভাপতি হতে চান এবং দেশের ক্রিকেটের উন্নয়নে প্রশাসনিকভাবে ভূমিকা রাখতে আগ্রহী। তার এই বক্তব্য ক্রিকেট অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।
দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন এবং বাংলাদেশের ক্রিকেটকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তামিম ইকবাল। ব্যাট হাতে অসংখ্য সাফল্যের পাশাপাশি অধিনায়ক হিসেবেও তিনি দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এখন ক্রিকেট মাঠের বাইরেও দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবছেন বলে জানিয়েছেন এই তারকা ক্রিকেটার।
সম্প্রতি একটি পডকাস্ট অনুষ্ঠানে তাকে প্রশ্ন করা হয়, ভবিষ্যতে তিনি কি বিসিবির সভাপতি হতে চান। উত্তরে তামিম ইকবাল স্পষ্টভাবে বলেন, সুযোগ এলে তিনি অবশ্যই সেই দায়িত্ব নিতে আগ্রহী। তার মতে, একজন সাবেক ক্রিকেটার হিসেবে দেশের ক্রিকেটের ভেতরের বাস্তবতা, সমস্যাগুলো এবং সম্ভাবনাগুলো তিনি কাছ থেকে দেখেছেন। তাই সুযোগ পেলে তিনি প্রশাসনিক পর্যায়েও দেশের ক্রিকেটকে এগিয়ে নিতে কাজ করতে চান।
ক্রিকেট অঙ্গনে অনেক দিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে যে, ভবিষ্যতে সাবেক ক্রিকেটাররা প্রশাসনে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সাবেক খেলোয়াড়রা বোর্ড পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। তামিম ইকবালের বক্তব্য সেই আলোচনাকে আরও জোরালো করেছে।
উল্লেখ্য, বিসিবির সর্বশেষ নির্বাচনের সময়ও তামিম ইকবালের নাম আলোচনায় এসেছিল। সেই নির্বাচনে তিনি সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন—এমন গুঞ্জন ছিল ক্রিকেট অঙ্গনে। তবে পরে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। সে সময় তিনি সরকারি হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছিলেন বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা হয়েছিল। তার সঙ্গে ঢাকার বেশ কয়েকটি ক্লাবের সংগঠকরাও নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকেন বলে জানা যায়।
ক্রিকেট ক্যারিয়ারের দিক থেকে তামিম ইকবাল বাংলাদেশের অন্যতম সফল ব্যাটসম্যান। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি জাতীয় দলের হয়ে ওপেনিং ব্যাটসম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বহু রেকর্ড গড়েছেন এবং দলের গুরুত্বপূর্ণ অনেক জয়ে অবদান রেখেছেন। তার নেতৃত্বে জাতীয় দলও বিভিন্ন সময় উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে।
২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে হঠাৎ করেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন তামিম। সেই সিদ্ধান্ত ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। পরে পরিস্থিতির পরিবর্তনে তিনি আবার সেই সিদ্ধান্ত বদলান এবং জাতীয় দলে ফিরে একটি ওয়ানডে ম্যাচও খেলেন। তবে নানা জটিলতা ও পরিস্থিতির কারণে শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ দলে জায়গা হয়নি তার।
এরপর থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাকে খুব বেশি দেখা না গেলেও দেশের ক্লাব ক্রিকেট এবং ক্রিকেট সংগঠনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রয়েছেন তিনি। বিশেষ করে ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটে সংগঠক হিসেবে তার ভূমিকা অনেকের নজর কেড়েছে। ক্রিকেটারদের অধিকার, সংগঠন এবং প্রশাসনিক নানা বিষয়ে তিনি নিয়মিত মতামত দিয়ে আসছেন।
পডকাস্টে দেওয়া বক্তব্যে তামিম ইকবাল বলেন, তিনি মনে করেন তার মধ্যে বিসিবি পরিচালনার মতো সামর্থ্য রয়েছে। ক্রিকেটের ভেতরের অনেক বিষয় সম্পর্কে তার অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং ক্রিকেট অঙ্গনের মানুষ তার কাজ সম্পর্কে জানেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তার মতে, শুধু অভিজ্ঞতা বা বয়সই নেতৃত্বের একমাত্র মানদণ্ড নয়। বরং সৎ উদ্দেশ্য এবং কাজ করার ইচ্ছাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, অনেক অভিজ্ঞ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে বিসিবি পরিচালনা করেছেন। কিন্তু এত বছরের অভিজ্ঞতার পরও ক্রিকেট প্রশাসনে সবসময় কাঙ্ক্ষিত উন্নতি হয়েছে কি না—সেই প্রশ্নও রয়েছে।
এই প্রসঙ্গে তামিম ইকবাল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে যারা বিসিবির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাদের ওপর অনেকেই আস্থা রেখেছেন। তবে একবার নতুন প্রজন্মের ওপরও বিশ্বাস করে দেখা যেতে পারে। তার মতে, নতুন ধারণা এবং ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি অনেক সময় সংগঠনকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করে।
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, সাবেক ক্রিকেটাররা বোর্ড পরিচালনায় এলে খেলোয়াড়দের সমস্যাগুলো আরও ভালোভাবে বোঝা সম্ভব হয়। কারণ তারা নিজেরাই মাঠের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে উঠে এসেছেন। তামিম ইকবালের মতো একজন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার প্রশাসনে যুক্ত হলে দেশের ক্রিকেটের বিভিন্ন কাঠামোগত সমস্যার সমাধানে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি আসতে পারে বলেও অনেকের ধারণা।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড দেশের ক্রিকেট পরিচালনার সর্বোচ্চ সংস্থা। জাতীয় দল, ঘরোয়া ক্রিকেট, বয়সভিত্তিক দল এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এই সংস্থার মাধ্যমেই নেওয়া হয়। ফলে বোর্ডের নেতৃত্বে কে থাকবেন, তা দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যতের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।
তামিম ইকবালের এই মন্তব্যকে অনেকেই ভবিষ্যতের সম্ভাবনার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। যদিও এখনই বিসিবির সভাপতি হওয়ার বিষয়টি বাস্তব আলোচনার পর্যায়ে নয়, তবু তার এই আগ্রহ দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি করেছে। অনেকেই মনে করছেন, ক্রিকেট মাঠে যেমন নেতৃত্ব দিয়েছেন তামিম, ভবিষ্যতে প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও তিনি বড় ভূমিকা রাখতে পারেন।
সব মিলিয়ে তামিম ইকবালের বক্তব্য বাংলাদেশের ক্রিকেটে একটি নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। ক্রিকেটার থেকে প্রশাসকের ভূমিকায় তার সম্ভাব্য যাত্রা আদৌ বাস্তবে রূপ নেবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে। তবে দেশের ক্রিকেটের উন্নয়নে অবদান রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করে তিনি যে ভবিষ্যতের জন্য একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি সামনে এনেছেন, তা নিয়ে ইতোমধ্যেই ক্রিকেট অঙ্গনে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।