প্রকাশ: ১২ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সংসদের কার্যক্রম নির্বিঘ্নভাবে পরিচালনার জন্য পাঁচ সদস্যের সভাপতিমণ্ডলী বা প্যানেল স্পিকার মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বৃহস্পতিবার অধিবেশনে এই পাঁচ সদস্যের নাম ঘোষণা করেন। সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে এই প্যানেল স্পিকাররা পর্যায়ক্রমে সংসদের অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন এবং সংসদের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
সংসদের প্রথম দিনের অধিবেশন ছিল নানা দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সংসদের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। এর পরপরই সংসদের নিয়ম অনুযায়ী সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হয়। সংসদ পরিচালনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এই প্রক্রিয়াটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ও সংসদীয় রীতি হিসেবে বিবেচিত।
মনোনীত সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, মোহাম্মদ মনিরুল হক চৌধুরী এবং এটিএম আজহারুল ইসলাম। সংসদে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও অঞ্চল থেকে নির্বাচিত এই সদস্যদের মধ্য থেকেই প্যানেল স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
স্পিকার অধিবেশনে জানান, সংসদীয় কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে প্যানেল স্পিকারদের মধ্যে যার নাম তালিকার শীর্ষে থাকবে, তিনি অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন। এভাবে পর্যায়ক্রমে অন্য সদস্যরাও প্রয়োজন অনুযায়ী সভাপতির দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।
সংসদের কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে সভাপতিমণ্ডলীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংসদের নিয়ম অনুযায়ী স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার যদি কোনো কারণে অধিবেশনে উপস্থিত না থাকেন, তখন সংসদের কার্যক্রম যেন থেমে না যায়, সেই উদ্দেশ্যেই প্যানেল স্পিকার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এই প্যানেল থেকে একজন সদস্য স্পিকারের আসনে বসে অধিবেশন পরিচালনা করেন এবং সংসদীয় কার্যপ্রণালী অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও আলোচনা পরিচালনা করেন।
বাংলাদেশের সংসদীয় ব্যবস্থায় এই প্রথা দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত। প্রতিটি নতুন অধিবেশনের শুরুতেই সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মনোনয়ন দেওয়া হয়। এর ফলে সংসদের ভেতরে একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি হয়, যার মাধ্যমে প্রয়োজন অনুযায়ী দায়িত্ব বণ্টন করা সম্ভব হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্যানেল স্পিকার নির্বাচন সংসদের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদক্ষেপ। কারণ সংসদ পরিচালনার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং সংসদীয় নিয়ম সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন। মনোনীত সদস্যদের বেশিরভাগই দীর্ঘদিন ধরে দেশের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং সংসদীয় কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা রয়েছে।
সংসদের প্রথম দিনের কার্যসূচি ছিল বেশ ব্যস্ত। নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের পর তাদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এরপর সংসদের নিয়ম অনুযায়ী সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের মনোনয়ন দেওয়া হয়। এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সংসদের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম আরও সুসংগঠিতভাবে এগিয়ে নেওয়ার ভিত্তি তৈরি হয়।
বিশেষ করে নতুন সংসদের শুরুতে এমন সাংগঠনিক সিদ্ধান্তগুলো সংসদের কার্যক্রমকে গতিশীল করতে সহায়ক ভূমিকা রাখে বলে মনে করা হয়। প্যানেল স্পিকাররা সংসদের আলোচনায় সভাপতিত্ব করার সময় সংসদীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা, সদস্যদের বক্তব্য প্রদানের সুযোগ দেওয়া এবং কার্যসূচি অনুযায়ী অধিবেশন পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবেন।
সংসদ বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি কার্যকর সংসদ পরিচালনার জন্য কেবল স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারই যথেষ্ট নয়। বরং একটি সুসংগঠিত সভাপতিমণ্ডলী থাকা প্রয়োজন, যারা প্রয়োজন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে পারেন। এই প্যানেল স্পিকার ব্যবস্থার মাধ্যমে সংসদের কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম দিনের অধিবেশনে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মনোনয়নের মাধ্যমে সেই প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোই আরও সুদৃঢ় করা হয়েছে। এর ফলে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতেও সংসদের কার্যক্রম নির্বিঘ্নভাবে চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
নতুন সংসদের যাত্রার শুরুতেই এমন সাংগঠনিক পদক্ষেপকে অনেকেই ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। সংসদের কার্যক্রম যেন নিয়মতান্ত্রিকভাবে এগিয়ে যায় এবং গণতান্ত্রিক আলোচনার পরিবেশ বজায় থাকে, সেই লক্ষ্যেই এই ধরনের পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে মনে করা হচ্ছে।