ছাত্রদল নেতা কায়সার কামাল ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬
  • ৩ বার
ভূমি প্রতিমন্ত্রী কায়সার কামাল।

প্রকাশ: ১২ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুক্রবার (১২ মার্চ) অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে স্পিকারের চেয়ার শূন্য রেখেই অধিবেশন শুরু হয়। প্রথম অধিবেশনে প্রবীণ সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন সভাপতিত্ব করেন। এই অধিবেশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ছিল ডেপুটি স্পিকারের পদে নির্বাচনের ঘোষণায়, যেখানে ভূমি প্রতিমন্ত্রী কায়সার কামাল নির্বাচিত হন।

কায়সার কামাল পেশাগত জীবনে সুপ্রিম কোর্টের একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী। তিনি জাতীয়তাবাদী আইনজীবী সমিতির মহাসচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। রাজনৈতিক এবং আইনি ক্ষেত্রে তার অবদান দীর্ঘ, বিশেষ করে বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিভিন্ন মামলায় তিনি আইনজীবী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

১৯৭২ সালের ৩১ ডিসেম্বর নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা উপজেলার চত্রাংপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কায়সার কামাল। তার বাবা মোস্তফা কামাল মনছুর এবং মা বেগম যোবায়দা কামাল। শিক্ষা ও রাজনৈতিক সচেতনতার সঙ্গে কায়সার কামাল ছোটবেলা থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। ১৯৮৮ সালে তিনি ছাত্ররাজনীতিতে পদার্পণ করেন এবং ১৯৯৬ সালে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নির্বাহী সদস্য হন। এরপর ২০০৯ সালে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্যপদ লাভ করেন। ২০১৬ সাল থেকে তিনি দলের আইনবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি সর্বশেষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেত্রকোনা-১ আসন থেকে বিএনপির হয়ে জয়লাভ করেন এবং সরকারের ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী পদে দায়িত্ব পান। ডেপুটি স্পিকারের নির্বাচনে তার অভিজ্ঞতা, আইনি দক্ষতা এবং রাজনৈতিক প্রজ্ঞা মূল ভূমিকা রাখে। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে সংসদীয় কার্যক্রম সচল রাখার জন্য ডেপুটি স্পিকার গুরুত্বপূর্ণ পদ। কায়সার কামালের নির্বাচনের মাধ্যমে এটি নিশ্চিত হয়েছে যে নতুন সংসদে কার্যক্রম সুসংহতভাবে পরিচালিত হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, ছাত্রদল থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় কমিটি এবং সরকারের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে কায়সার কামালের অভিজ্ঞতা তাকে ডেপুটি স্পিকার হিসেবে দক্ষতা এবং ন্যায়পরায়ণতা প্রদর্শনের সুযোগ দেবে। তার নির্বাচনের ফলে সংসদের কার্যক্রমে সুষ্ঠু ও প্রাঞ্জল পরিবেশ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কায়সার কামাল নিজের নির্বাচিতি ও দায়িত্ব গ্রহণকে একটি বড় রাজনৈতিক অর্জন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক জীবনে ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এবং সরকারের পদে কাজ করা সবই তাকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে সাহায্য করেছে। ডেপুটি স্পিকারের পদে তিনি সাংবিধানিক নিয়ম মেনে সংসদের কার্যক্রমকে কার্যকর ও স্বচ্ছভাবে পরিচালনা করবেন বলে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন।

বিগত কয়েক দশকে কায়সার কামাল বিএনপির বিভিন্ন রাজনৈতিক ও আইনগত কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। তার নেতৃত্বে ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় দলের কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা, ন্যায়পরায়ণতা এবং রাজনৈতিক প্রজ্ঞার সমন্বয় ঘটেছে। ডেপুটি স্পিকারের পদে তার কার্যক্রমও এই ধারাবাহিকতাকে এগিয়ে নেবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

ডেপুটি স্পিকারের পদে নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে কায়সার কামাল এখন সংসদীয় কার্যক্রমে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন। স্পিকারের অনুপস্থিতিতে তিনি অধিবেশন পরিচালনা, নিয়মিত সাংসদদের প্রশ্ন ও আলোচনায় সমন্বয় এবং সংসদীয় সিদ্ধান্তের কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবেন। অভিজ্ঞতা, আইনগত দক্ষতা এবং রাজনৈতিক প্রজ্ঞার সমন্বয়ে তিনি নতুন সংসদকে গঠনমূলক ও ফলপ্রসূ করতে সক্ষম হবেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত