ঈদযাত্রায় মহাসড়কে যানজট এড়াতে সতর্কতা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬
  • ৫ বার
ঈদযাত্রা যানজট মহাসড়ক

প্রকাশ: ১২ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঈদের ছুটির সময় বাংলাদেশের মহাসড়কগুলোতে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ প্রতিবারের মতো এবারও ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে রাজধানী ত্যাগের পথে গাবতলী, টঙ্গী, সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী, কাঁচপুর এবং হানিফ ফ্লাইওভার এলাকায় দূরপাল্লার বাস ও ট্রাক প্রায়ই দীর্ঘ সময় আটকে থাকে। এতে যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন এবং যান চলাচল অনিয়মিত হয়। যানজট প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগ থাকা সত্ত্বেও অতিরিক্ত যানচাপ, সড়কের বেহাল অবস্থা এবং কাগজপত্র পরীক্ষা–নিরীক্ষার কারণে সমস্যা প্রায় প্রতিবার দেখা দেয়।

এবারও পরিস্থিতি অনেকটা অনুরূপ হতে পারে বলে যানচালকরা আশঙ্কা করছেন। চট্টগ্রাম, বরিশাল, যশোর, খুলনা ও বাগেরহাট রুটে যান চলাচল তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক থাকলেও সিলেট ও উত্তরের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা মানুষ প্রধানত ভোগান্তিতে পড়তে পারেন। যানজটের একটি বড় কারণ হিসেবে চালকরা পুলিশের চাঁদাবাজি, ফিটনেস পরীক্ষা ও ড্রাইভিং লাইসেন্স যাচাই প্রক্রিয়াকেও উল্লেখ করেছেন। যমুনা সেতু পার হওয়া, গোলচত্বর এবং এলেঙ্গার সাইডসহ বিভিন্ন স্থানে গাড়ি থামানো হয়, যা ধীরগতির কারণে যানজটকে আরও বাড়িয়ে দেয়।

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সড়কের উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা এবং পরিকল্পিতভাবে যান চলাচল পরিচালনা করা গেলে ঈদে যানজট অনেকটাই কমানো সম্ভব। অধ্যাপক ড. মো. শামসুল হক বলেন, নতুন যেসব জায়গায় বটলনেক হওয়ার সম্ভাবনা আছে, সেগুলো আগে থেকে চিহ্নিত করে উন্নতমানের মেইনটেনেবল রাস্তা তৈরি করা যেতে পারে। এ ধরনের পরিকল্পনা সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে ঈদযাত্রার সময় যানচাপের প্রভাব কমানো সম্ভব। অপরদিকে, অধ্যাপক ড. মো. হাদিউজ্জামান বলেন, শুধুমাত্র যানজট নিয়ন্ত্রণ নয়, নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জও মোকাবিলা করতে হবে। সরকার যদি কৌশলী হয় এবং ঈদের ছুটি কিছুটা বাড়ায়, তাহলে মানুষ ধাপে ধাপে গণপরিবহন ব্যবহার করতে পারবে এবং সড়কে চাপ স্বাভাবিক থাকবে।

সড়ক পরিবহন ও যোগাযোগ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, এবারও ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, চাঁদাবাজি বা অবৈধ কর্মকাণ্ডের সুযোগ নেই। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পরিবহন সেক্টরের সংশ্লিষ্টরা সবাই সতর্ক রয়েছেন। মন্ত্রণালয় থেকে মনিটরিং করা হচ্ছে, মোবাইল কোর্ট কার্যক্রম চলছে এবং হাইওয়ে পুলিশও তৎপর। এছাড়া পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের যাতায়াত সহজ করতে গাজীপুরসহ একাধিক এলাকায় বিআরটিসি বাসের ব্যবস্থা করা হবে।

চলতি বছরের ঈদযাত্রা প্রস্তুতি সাধারণ মানুষের সুরক্ষা এবং যানবাহনের সহজ প্রবাহ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সঠিক নির্দেশনা ও জনসচেতনতার মাধ্যমে সড়কে চাপ কমানো সম্ভব। তারা আরও বলেন, চালক এবং যাত্রী উভয়কে নিরাপদ ও ধীরগতিতে চলাফেরার বিষয়ে সচেতন হতে হবে। এছাড়া যানজট নিরসনের জন্য সময়মতো সিগন্যাল ব্যবস্থাপনা, রাস্তার মান উন্নয়ন এবং পুলিশের তদারকি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ঈদের সময় পরিকল্পিতভাবে যাত্রা করা। প্রাথমিক প্রস্তুতি, সঠিক সময়সূচি এবং নিরাপদ চলাচল ব্যবস্থা যাত্রাকে সহজ করবে। বিশেষজ্ঞরা আরও উল্লেখ করেন, সার্বিক পরিকল্পনা থাকলে সড়কে যানজটের কারণে দূর্ঘটনা, সময় ক্ষতি এবং মানসিক চাপ কমানো সম্ভব।

বাংলাদেশের প্রধান সড়কগুলোতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, যানজট পর্যবেক্ষণ এবং নিরাপদ যাত্রার জন্য প্রযুক্তিগত সহায়তা বৃদ্ধির প্রয়োজন। সরকার এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো যদি সঠিকভাবে সমন্বয় করে যানজট ও দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে নেন, তাহলে ঈদযাত্রার সময়ে যাত্রীরা তুলনামূলকভাবে নির্বিঘ্ন যাত্রার সুযোগ পাবেন। এই প্রস্তুতি এবং সচেতনতা যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত