প্রকাশ: ১২ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
লম্বা সময় পর সাদা বলের ক্রিকেটে মাঠে ফিরেছেন নাহিদ রানা। বাংলাদেশের পেসার হিসেবে তার এই প্রত্যাবর্তন শুধু উচ্ছ্বাস নয়, বরং নিখুঁত পারফরম্যান্সের প্রমাণও বহন করছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে ২৪ রান দিয়ে ৫ উইকেট নিয়ে তিনি পুরো ব্যাটিং লাইনকে একাই গুঁড়িয়ে দেন। ৫০ ওভারের ম্যাচে মাত্র ১১৪ রানে পাকিস্তানকে অলআউট করা বাংলাদেশের জন্য নাহিদের এই বোলিং ছিল জয়রথের মূল ভিত্তি। পাকিস্তানের প্রথম পাঁচটি উইকেটই তার কণ্ঠেই বন্দী হয়ে যায়।
ম্যাচশেষ সংবাদ সম্মেলনে দলের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত হয়ে নাহিদ বলেন, তার সাফল্যের মূল কৌশল ছিল নিজের শক্তির ওপর পূর্ণ ভরসা রাখা। তিনি আরও জানান, পিচের আচরণ বুঝতে তাসকিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে মাঠে কথা বলেছেন এবং তাদের পরামর্শ অনুযায়ী বোলিং কৌশল প্রয়োগ করেছেন। ‘ফিজ ভাই এবং তাসকিন ভাই আমাকে বলেছিলেন, যদি নির্দিষ্ট লাইন-লেংথ মেইনটেইন করা হয় এবং কিছু স্পট হিট করা হয়, তবে ব্যাটসম্যানদের খেলা কঠিন হবে। আমি সেটাই প্রয়োগ করেছি,’ নাহিদ উল্লেখ করেন।
নাহিদ আরও বলেন, তিনি টানা সাত ওভার বোলিং করেছেন। দীর্ঘ সময় বোলিং করা সহজ নয়, তবে দলের প্রয়োজনে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। ‘দলের জন্য সর্বদা নিজেকে প্রস্তুত রাখি। উইকেট পাওয়ার মুহূর্তে বুঝতে পারলাম, ব্যাটসম্যানদের জন্য আমার বোলিং চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। তাই আমি সেই কৌশল দীর্ঘ সময় ধরে চালিয়ে যাই,’ তিনি জানান। এছাড়া ম্যাচের আগে তাকে দল থেকে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল, নিজের কৌশল অনুযায়ী বোলিং করতে হবে এবং যে দক্ষতা আছে সেটাই মাঠে প্রয়োগ করতে হবে।
নাহিদ পাকিস্তানের বিপক্ষে এর আগেও দারুণ বোলিং করেছেন। যদিও মাঝের সময়ে লাইন-লেংথের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে কিছুটা সমস্যা হয়েছিল, তবুও এবার পাকিস্তানের বিপক্ষে তিনি নিজেকে সম্পূর্ণভাবে প্রমাণ করেছেন। প্রশ্নের উত্তরে, নাহিদ বলেন, ‘কোনোদিন মনে হয় না এই দল দেখেই আমাকে পারফর্ম করতে হবে। সর্বদা চেষ্টা থাকে নিজের সেরাটা দিয়ে দলকে জিতানো।’
এছাড়া, তিনি বিএপিএলের সময় ওয়াকার ইউনিসের সঙ্গে কথোপকথন উল্লেখ করেন। ‘উনি বলেছিলেন, নিজের ফিটনেস বজায় রাখো এবং শক্তি হারানো যাবে না। ম্যাচ যতই খেলব, ততই শিখব। এখন যা বলি, হয়তো মনে হবে ঢোকার মতো নয়, কিন্তু নিজে করলে মনে থাকবে,’ নাহিদ বলেন।
বাংলাদেশের সাদা বলের ক্রিকেটে নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে নাহিদের এই জোয়ারবেগী বোলিং। পাকিস্তানের বিপক্ষে তার কৌশল এবং আত্মবিশ্বাস ম্যাচের ফলাফলে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। দলের প্রয়োজনে নিজের সীমা অতিক্রম করে দায়িত্ব পালন, পিচের প্রভাব বোঝা এবং সিনিয়র খেলোয়াড়দের পরামর্শ গ্রহণ—এই সব মিলিয়ে নাহিদের ম্যাচ জেতানোর মন্ত্রই ছিল।
নাহিদ রানা যে শুধু নিজের ক্ষমতা নয়, পুরো দলের প্রয়োজনে খেলার মানসিকতা নিয়েই মাঠে নেমেছেন, তা তার বক্তব্যে স্পষ্ট। পেসার হিসেবে তার ধারাবাহিকতা, আত্মবিশ্বাস এবং টিমের লক্ষ্য অনুযায়ী খেলার মানসিকতা তাকে বাংলাদেশের ক্রিকেটে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। বাংলাদেশের ক্রিকেট ভক্তরা আগামী দিনগুলোতে তার আরও উজ্জ্বল পারফরম্যান্স প্রত্যাশা করতে পারেন।