সংসদ যেন ফ্যাসিস্টদের প্রভাবমুক্ত থাকে: নাহিদ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬
  • ৩ বার
নাহিদ ইসলাম সংসদ আহ্বান

প্রকাশ: ১২ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন। তিনি আহ্বান জানান, সংসদ যেন ফ্যাসিস্টদের প্রভাবমুক্ত থাকে এবং কেউ সংসদকে কলুষিত করতে না পারে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহবায়ক ও সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম বলেন, “সবাই স্বীকার করেছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের কারণেই আমরা এই মহান সংসদে বসতে পেরেছি। আমরা ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ের সৈনিক। আপনার প্রতি আমার নিবেদন থাকবে, কোনো ফ্যাসিস্ট বা তার দোসর আজকের সংসদে বক্তব্য দিয়ে সংসদকে কলুষিত করতে পারবে না।” তিনি এই বক্তব্যের শেষাংশে উল্লিখিত করেন, “ইনকিলাব জিন্দাবাদ।”

নাহিদ ইসলামের এই আহ্বান শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, বরং দেশের সাংবিধানিক ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতিফলন। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, সংসদকে ফ্যাসিস্টমুক্ত ও তাদের দোসরমুক্ত রাখা বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত জরুরি। তার ভাষায়, একটি সুস্থ ও গণতান্ত্রিক সংসদ গঠনের জন্য সকল প্রকার শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং রাজনৈতিক উগ্রবাদের বিরুদ্ধেই কঠোর মনোভাব নেওয়া প্রয়োজন।

এছাড়া, নাহিদ ইসলাম জাতীয় সংসদে একটি শোক প্রস্তাবে শহীদদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেন। তার প্রস্তাবে শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদিসহ অন্যান্য শহীদদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ প্রস্তাব গ্রহণ করে এই নামগুলো শোক প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত দেন। প্রস্তাবিত আরও দুই নাম হলো বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ এবং সীমান্তে নিহত কিশোরী ফেলানী খাতুন। নাহিদ ইসলামের উদ্যোগে এই নামগুলো তালিকাভুক্ত হয়ে দেশের ইতিহাস ও শহীদদের স্মৃতিকে সংসদে সমানভাবে সম্মান জানানো সম্ভব হয়।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে এই ধরনের পদক্ষেপ রাজনৈতিক দায়িত্ববোধ এবং মানবিক নৈতিকতার প্রতিফলন। নাহিদ ইসলামের বক্তব্য ও প্রস্তাব দেশের জনগণকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সব সময় সতর্ক এবং স্বচ্ছ রাখাই জনগণের মৌলিক দায়িত্ব। ফ্যাসিবাদমুক্ত এবং ন্যায়পরায়ণ সংসদ গঠন করা বর্তমান সময়ে দেশ ও জনগণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নাহিদ ইসলামের এই আহ্বান এবং প্রস্তাব শুধু সংসদে রাজনৈতিক কার্যক্রমের অংশ নয়, এটি দেশের মানুষের সামনে একটি নৈতিক ও ঐতিহাসিক বার্তা। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, রাজনৈতিক অধিকার এবং গণতান্ত্রিক অধিষ্ঠান রক্ষা করতে সকল সদস্যের দায়িত্ব রয়েছে। ফ্যাসিবাদ ও অবৈধ রাজনৈতিক প্রভাব থেকে সংসদকে রক্ষা করা, শহীদদের স্বীকৃতি দেওয়া এবং দেশের সংবিধান ও নৈতিক মূল্যবোধকে বজায় রাখা সকলের জন্য অপরিহার্য।

এভাবে, নাহিদ ইসলামের সংসদে বক্তব্য এবং প্রস্তাব দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে। এটি প্রমাণ করে যে, বর্তমান প্রজন্মের নেতা শুধু রাজনৈতিক নয়, বরং নৈতিক দায়িত্ববোধ ও শহীদদের স্মৃতিকে যথাযথভাবে সম্মান জানাতে সক্ষম। দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী রাখা, ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্ত রাখা এবং মানুষের আস্থাকে সংসদে ফিরিয়ে আনা—এই উদ্দেশ্যেই নাহিদ ইসলামের নেতৃত্ব ও আহ্বান প্রাসঙ্গিক এবং সময়োপযোগী।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত