প্রকাশ: ১৪ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও সমন্বয় ঘটেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) শুক্রবার ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে নতুন সোনার দাম ঘোষণা করেছে। নতুন এই দাম কার্যকর হয়েছে গতকাল সকাল ১০টা থেকে এবং শনিবারও একই দামে বাজারে বিক্রি হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারের ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের জন্য এই পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে, কারণ স্বর্ণে দাম ওঠানামা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক প্রবণতা ও বিনিয়োগের ওপর প্রভাব ফেলে।
বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার বা পাকা সোনার দাম কমার প্রেক্ষাপটে ভরিতে সোনার দাম হ্রাস করা হয়েছে। ফলে, সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) বর্তমান বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬৪ হাজার ৯৪৮ টাকা। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার একই ভরির ২২ ক্যারেটের সোনার দাম ছিল ২ লাখ ৬৭ হাজার ১০৬ টাকা। অর্থাৎ একদিনে দাম কমেছে ২ হাজার ১৫৮ টাকা।
সোনার পাশাপাশি রুপার বাজারেও সামান্য সমন্বয় হয়েছে। ২২ ক্যারেটের রুপার প্রতি ভরি দাম কমে এখন ৬ হাজার ৩৫৭ টাকা, যা বৃহস্পতিবার ছিল ৬ হাজার ৩৫০ টাকা। বাজুস জানায়, চলতি বছর দেশের বাজারে এখন পর্যন্ত ৪২ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৬ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ১৬ বার দাম কমানো হয়েছে। অর্থাৎ বছরের শুরু থেকে স্বর্ণের বাজারে চাহিদা, আন্তর্জাতিক স্বর্ণের মূল্য এবং বৈদেশিক মুদ্রার ওঠানামার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিয়মিত সমন্বয় করা হচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, সোনার দাম হ্রাস করা মূলত আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দর কমার সঙ্গে সম্পর্কিত। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের মূল্য হ্রাস পেলে দেশের বাজারেও প্রভাব পড়ে। এছাড়া বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার এবং স্থানীয় চাহিদা–সরবরাহ পরিস্থিতিও দাম নির্ধারণে ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে বিনিয়োগকারীরা যখন স্বর্ণ ক্রয় বা বিক্রি করেন, তখন এই সমন্বয় তাদের বিনিয়োগ পরিকল্পনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা সরবরাহ করে।
স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ভরিতে ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি গ্রাহকের চাহিদা এখনও ভালো। বিশেষ করে বিবাহ, হালখাতা বা ঈদ উপলক্ষে ক্রেতারা স্বর্ণ কেনাকাটায় আগ্রহী। ঢাকার মৌলভীবাজার, নিউ মার্কেট, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের জুয়েলার্সরা নিয়মিত বাজারের দাম অনুযায়ী ক্রয়-বিক্রয় করছেন। ব্যবসায়ীরা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সোনার দাম ওঠানামা করলেও ক্রেতাদের স্বাভাবিক আগ্রহ কমেনি।
স্বর্ণের দাম হ্রাস হওয়ায় বিশেষ করে বিনিয়োগকারী ও ছোট ক্রেতাদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কিছু ক্রেতা ভাবছেন, এখন সময় স্বর্ণ কেনার জন্য অনুকূল, কারণ দাম কমেছে। অন্যদিকে, ব্যবসায়ীরা বলছেন, দাম কমার সঙ্গে সঙ্গে বিক্রির সংখ্যা কিছুটা বেড়ে যেতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার কারণে দাম আবারও পরিবর্তিত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ধরা হয়। তাই এর বাজারমূল্য এবং নিয়মিত সমন্বয় দেশের অর্থনীতি এবং বিনিয়োগকারীর মনোভাবের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। বিশেষ করে শীতকাল ও উৎসবের মরশুমে সোনার চাহিদা বৃদ্ধি পায়, ফলে ছোট-বড় ক্রেতারা বাজারের দামের ওঠানামা খুঁটিয়ে দেখেন।
বাজুসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা দেশের বাজারে স্বর্ণের সরবরাহ, আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা, এবং ক্রেতাদের চাহিদা পর্যবেক্ষণ করে নিয়মিত দাম সমন্বয় করছেন। ফলে বাজারে স্বচ্ছতা বজায় থাকে এবং ক্রেতা–বিক্রেতার মধ্যে বিশ্বাস জন্মায়। তারা আশা করছেন, সামনের দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক বাজারে কোনও বড় পরিবর্তন না হলে দেশের বাজারেও দাম স্থিতিশীল থাকবে।
অন্যদিকে, স্বর্ণ বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, ভরিতে দাম কমার পর এখন স্বর্ণ কেনার জন্য উপযুক্ত সময়। যেসব বিনিয়োগকারী দীর্ঘমেয়াদে সোনা রাখেন, তারা এই সময়ে ছোট পরিমাণে ক্রয় করতে আগ্রহী। এছাড়া বিবাহ, হালখাতা বা বাণিজ্যিক চাহিদা অনুযায়ী ব্যবসায়ীরা সোনার ক্রয়-বিক্রয়ে সচেতন রয়েছেন।
চলতি বছরের শুরু থেকে ৪২ বার সমন্বয় হওয়া সোনার দাম দেশের বাজারে বিনিয়োগকারীদের জন্য নির্দেশক হিসেবে কাজ করছে। এ বছর ২৬ বার দাম বাড়ানো হয়েছে, যা দেখাচ্ছে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দর তুলনামূলকভাবে বৃদ্ধি পায়। অন্যদিকে, ১৬ বার দাম কমানো হয়েছে, যা দেখাচ্ছে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের হ্রাস এবং স্থানীয় চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখা হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, স্বর্ণের বাজার দেশের মুদ্রা বিনিময় হার, আন্তর্জাতিক দর, আমদানি খরচ এবং ক্রেতাদের চাহিদার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। এই কারণে নিয়মিত সমন্বয় করা হচ্ছে। দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম স্থিতিশীল রাখার জন্য বাজুসের এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ।
বাজারে ক্রেতাদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে, কিছু ক্রেতা স্বল্প দামের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ক্রয় করছেন। তবে ব্যবসায়ীরা সতর্ক করে বলছেন, স্বর্ণের দাম মাঝে মাঝে আবারও ওঠানামা করতে পারে। তাই বিনিয়োগকারীদের সাবধানতার সঙ্গে ক্রয়-বিক্রয় করতে হবে।
সার্বিকভাবে, দেশের বাজারে সোনার দাম কমানোর খবর বিনিয়োগকারীদের জন্য ইতিবাচক এবং ক্রেতাদের জন্য সুবিধাজনক। এর ফলে ঈদ, বিবাহ বা অন্যান্য অনুষ্ঠান উপলক্ষে সোনা কেনার আগ্রহ বাড়ছে। দেশের বাজারে স্বর্ণের সঠিক মূল্যায়ন এবং নিয়মিত সমন্বয় বজায় রাখায় ক্রেতা–বিক্রেতাদের মধ্যে বিশ্বাস ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত হচ্ছে।