সোনার বাজারে উষ্ণতা অব্যাহত: বছরজুড়ে বাড়তে পারে দাম, বলছে গোল্ড কাউন্সিল

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই, ২০২৫
  • ৩৯ বার

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৫

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বিশ্ববাজারে সোনার দাম বাড়তির ধারা নিয়ে আশাবাদী হয়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষকেরা। চলতি বছরের প্রথমার্ধে সোনার দাম যেভাবে বেড়েছে, তাতে বছরের বাকি সময়েও এর ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত থাকবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল (ডব্লিউজিসি)। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, প্রথম ছয় মাসে সোনার দাম বেড়েছে প্রায় ২৬ শতাংশ, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে অন্যতম উচ্চ প্রবৃদ্ধি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এ মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে ডলারের বিনিময় হার কমে যাওয়া, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার ক্রমবৃদ্ধি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ব্যাপক হারে সোনা কেনা এবং বিনিয়োগকারীদের আকস্মিক আগ্রহ। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে অর্থনৈতিক স্থবিরতা ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে সোনার চাহিদা জোরালো হয়েছে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, বছরের দ্বিতীয়ার্ধে সোনার দাম আরও ৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। কিন্তু বৈশ্বিক পরিস্থিতি আরও জটিল হলে এই বৃদ্ধির হার পৌঁছাতে পারে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত। তবে পরিস্থিতি যদি স্থিতিশীল হয়ে ওঠে, তাহলে দাম আবার কমতেও পারে। ডব্লিউজিসি জানিয়েছে, একটি বড় পরিসরের আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক সমঝোতা বা বাণিজ্যিক প্রবৃদ্ধির গতি ফিরে এলে সোনার দাম সর্বোচ্চ ১৭ শতাংশ কমে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম রয়েছে আউন্সপ্রতি ৩ হাজার ৩৪২ ডলার, আর রূপার দাম ৩৮ ডলার। এমন দামের মধ্যে বেচাকেনা কিছুটা স্থির থাকলেও বাজারে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে যে কোনো সময়, বিশেষ করে ট্রাম্পের সম্ভাব্য নতুন শুল্কনীতির কারণে। তবে বাজার এখনও পর্যন্ত এই হুমকিকে আমলে নিচ্ছে না। শেয়ারবাজারেও এই বিষয়ে বড় কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ কিংবা রাজনৈতিক উত্তেজনা থেকেও সোনার দামে তেমন বড়সড় পরিবর্তন হয়নি।

বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো বর্তমানে ডলারের বিকল্প হিসেবে সোনার প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে। ডিডলারাইজেশন প্রক্রিয়া যেভাবে গতি পেয়েছে, তাতে আরও অনেক দেশই রিজার্ভে সোনার অনুপাত বাড়াবে বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে সোনার প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের তালিকায় যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন নাম। এর ফলে ভবিষ্যতেও চাহিদা বাড়ার ইঙ্গিত মিলছে।

তবে মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ভোক্তাপর্যায়ের চাহিদা কিছুটা কমতে পারে। এতে করে ব্যক্তিগতভাবে সোনা পুনর্ব্যবহারের প্রবণতা বাড়বে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকেরা। অনেকে মনে করছেন, এটাই হতে পারে সোনার বাজারে একটি ভারসাম্যের সূচনাবিন্দু।

ডলারের সাম্প্রতিক দরপতনও এই সোনার চাহিদা বাড়ানোর পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে। গতকাল (বুধবার) আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের মান কমেছে দশমিক ১ শতাংশ। এর ফলে অন্যান্য মুদ্রা ব্যবহারকারী দেশগুলোর কাছে সোনা তুলনামূলকভাবে সস্তা হয়ে পড়ায় চাহিদা বাড়ছে।

বিশ্বের ইতিহাসে সোনা দীর্ঘকাল ধরে নিরাপদ এবং লাভজনক বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত। ডলারের মতো মুদ্রা কিংবা শেয়ারবাজারে যেখানে অস্থিরতা ও লোকসানের ঝুঁকি থাকে, সেখানে সোনা অনেকটাই ব্যতিক্রম। পঞ্চাশ বছর আগের বিনিয়োগও আজ বহুগুণে ফল দিয়েছে। তাই আজও সোনা মানুষের কাছে আস্থা ও নিরাপত্তার প্রতীক হয়ে রয়েছে।

এই প্রবণতা এবং ভবিষ্যতের বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় সোনা নিয়ে আগ্রহ যেমন বাড়ছে, তেমনি সংশয়ও আছে—বাজারে বড় কোনো ধাক্কা না এলে হয়তো এই ধাতুর দাম আরও কিছু সময় স্থিতিশীলই থাকবে। তবে ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলালে অথবা মন্দার ছায়া ঘনালে, আবারও চাহিদার ঝড় উঠতে পারে এই মূল্যবান ধাতুর বাজারে।

 

একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত