বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের গর্ব ইউএস-বাংলা: এক যুগে আকাশপথে ২০ গন্তব্যের সফলতা

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই, ২০২৫
  • ৩৬ বার

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন | প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৫

এক যুগ আগে আকাশপথে যাত্রা শুরু করেছিল ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস। সময়ের প্রবাহে আজ সেই সংস্থা দেশের অন্যতম প্রধান বেসরকারি বিমান পরিবহন প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। যাত্রীসেবার মান, সময়ানুবর্তিতা ও নিরবচ্ছিন্ন ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে সংস্থাটি অর্জন করেছে যাত্রীদের আস্থা ও প্রশংসা। ২০১৪ সালের ১৭ জুলাই ঢাকা-যশোর রুটে একটি ড্যাশ ৮-কিউ৪০০ উড়োজাহাজ দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল ইউএস-বাংলা। আজ, ২০২৫ সালে এসে তাদের বহরে যুক্ত হয়েছে ২৪টি আধুনিক উড়োজাহাজ, যার মধ্যে রয়েছে ২টি এয়ারবাস ৩৩০-৩০০ ও ৯টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০।

বর্তমানে ইউএস-বাংলা অভ্যন্তরীণ রুটে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট, যশোর, সৈয়দপুর ও রাজশাহীতে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করছে। আন্তর্জাতিক রুটে প্রথম উড়ান পরিচালনা করে ২০১৬ সালের ১৫ মে, ঢাকা থেকে নেপালের কাঠমাণ্ডু। এরপর থেকে একে একে সংযুক্ত হয়েছে কলকাতা, চেন্নাই, মালে, মাস্কাট, দোহা, দুবাই, শারজাহ, আবুধাবি, জেদ্দা, রিয়াদ, কুয়ালালামপুর, সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক এবং চীনের গুয়াংজুর মতো গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যগুলো।

প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যেই স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম দেশীয় এয়ারলাইন হিসেবে চীন, চেন্নাই ও মালদ্বীপের মালে-তে সরাসরি ফ্লাইট চালু করে রেকর্ড গড়েছে। ইউএস-বাংলা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, খুব শিগগিরই তাদের বহরে আরও একটি এয়ারবাস ৩৩০-৩০০ যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। একইসঙ্গে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে ২০২৬ সালের মধ্যে লন্ডন ও রোম, এবং ২০২৮ সালের মধ্যে নিউ ইয়র্ক ও টরন্টোর মতো অভিজাত আন্তর্জাতিক গন্তব্যে সরাসরি ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ।

উন্নত যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে বরাবরই অগ্রণী ইউএস-বাংলা। সংস্থার মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) মো. কামরুল ইসলাম বলেন, “আমরা চাচ্ছি এমন একটি অভিজ্ঞতা দিতে, যেখানে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট অবতরণের পর যাত্রীকে লাগেজের জন্য অপেক্ষা করতে না হয়। বরং লাগেজ যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করবে—এই ধারণা প্রতিষ্ঠায় আমরা কাজ করছি।”

সংস্থাটির অন-টাইম ফ্লাইট পরিচালনার হার ৯০ শতাংশের বেশি বলে দাবি করা হয়েছে, যা এ অঞ্চলের এভিয়েশন খাতে বড় অর্জন হিসেবে বিবেচিত। এয়ারলাইনসটি তাদের যাত্রীসেবার মানের জন্য ২০১৫, ২০২২, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে ‘ডমেস্টিক এয়ারলাইনস’ পুরস্কার অর্জন করেছে। বর্তমানে ইউএস-বাংলায় দেশে ও বিদেশে প্রায় তিন হাজার কর্মকর্তা ও কর্মচারী কর্মরত।

একাদশ বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, “আমরা আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর উড়োজাহাজের মাধ্যমে যাত্রীদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অংশ নিতে পারা আমাদের জন্য গর্বের। আমরা সবসময় প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে নিজেদের প্রস্তুত রাখতে চাই।”

বিশ্বায়নের এই যুগে ইউএস-বাংলা যে শুধু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ যাতায়াত সহজ করেছে তা-ই নয়, বরং দেশের বাইরে আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতেও ভূমিকা রাখছে। দ্রুততার সঙ্গে গন্তব্যে পৌঁছানো, সময়ানুবর্তিতা এবং যাত্রীবান্ধব সেবার কারণে ইউএস-বাংলা আজ দেশের গর্ব—একটি অনন্য মাইলফলক।

একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত