ঈদ বাজারে মাংস-মসলার দাম বাড়ছে, সবজি ও ডিমে স্বস্তি

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২৬
  • ৩ বার
ঈদ বাজারে দাম বাড়ছে

প্রকাশ: ২০ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানীর বাজারে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে। রমজান মাসের শেষ দিকে সেমাই, চিনি, মসলা, মুরগি ও গরুর মাংস কেনাকাটায় নগরবাসী ব্যস্ত। এই চাহিদার চাপের কারণে কিছু পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী, আবার অন্য কিছু পণ্যের দাম কমেছে। এভাবে বাজারে তৈরি হয়েছে মিশ্র চিত্র, যা ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের জন্যই চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

সরেজমিনে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে দেখা গেছে, সেমাই, চিনি, পোলাও চাল, ভোজ্যতেল, মুরগি, গরুর মাংস এবং মসলার চাহিদা বেড়ে গেছে। কারওয়ান বাজারের মায়ের দোয়া স্টোরের ইমাম উদ্দিন বাবলু জানিয়েছেন, সেমাই ও চিনির দাম আগের মতোই স্থিতিশীল রয়েছে। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ২০০ গ্রাম সেমাই বিক্রি হচ্ছে ৪০-৪৫ টাকায়, ৮০০ গ্রাম বোম্বাই সেমাই ২৮০ টাকা এবং ৫০০ গ্রাম আলাউদ্দিন সুইটের সেমাই ১৫০ থেকে ২৫০ টাকার মধ্যে। খোলা লম্বা সেমাই কেজিপ্রতি ৯০ টাকা, লাচ্চা সেমাই ১৮০ টাকা। চিনি কেজিপ্রতি ১০০-১০৫ টাকা এবং দেশি চিনি ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কারওয়ান বাজারের মিজান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মিজানুর রহমান বলেন, ঈদ ঘিরে শুকনো ফল ও কিছু মসলার দাম বেড়েছে। কিশমিশ, আলুবোখারা, কাজুবাদাম, কাঠবাদাম ও পেস্তাবাদামের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। পোলাও চালের কেজি ১৪০ থেকে ১৭০ টাকায় পৌঁছেছে। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের মসলা দুইশ থেকে আটশ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।

তবে সবজি ও ডিমের বাজারে স্বস্তি ফিরে এসেছে। টিসিবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের তুলনায় চিনির দাম কিছুটা কমেছে। পেঁয়াজ, দেশি ও আমদানি করা রসুন, আদা, দারুচিনি, লেবু, কাঁচামরিচ, বেগুন ও শসার দামও কমেছে। ফলে ক্রেতারা কিছুটা স্বস্তি অনুভব করছেন।

মুরগি ও মাংসের বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ২২০-২৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যেখানে সপ্তাহখানেক আগে দাম ছিল ১৭০-১৮০ টাকা। সোনালি মুরগি ৩৫০-৩৭০ টাকা, লেয়ার মুরগি ৩১০-৩২০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। নূরজাহান চিকেন ব্রয়লার হাউসের নজরুল ইসলাম বলেন, চাহিদা বেশি ও সরবরাহ সীমিত থাকায় দাম বেড়েছে। তবে ঈদের ৩-৪ দিন পর দাম আবার কমতে পারে। গরুর মাংসের দাম কেজিপ্রতি ৫০-১০০ টাকা বেড়ে বর্তমানে ৮০০-৮৫০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে, কিন্তু খাসির মাংসের দাম স্থিতিশীল রয়েছে, যা ১,২৫০ থেকে ১,৩০০ টাকার মধ্যে।

ডিমের বাজারে ঈদে চাহিদা কমার কারণে স্বস্তি এসেছে। মুরগির ডিম ডজনপ্রতি ৯০-১০০ টাকা এবং হাঁসের ডিম ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা জানান, ঈদকে সামনে রেখে ডিমের চাহিদা কমে যাওয়ায় দাম স্থিতিশীল রয়েছে এবং আরও দেড় সপ্তাহ দাম বাড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।

মাছের বাজারেও সরবরাহ কমে দাম বেড়েছে। বিভিন্ন প্রজাতির মাছ কেজিপ্রতি ২০-৩০ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। সানু মিয়া নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, সরবরাহের সীমিততা ও চাহিদার চাপের কারণে দাম বেড়েছে।

সবজির বাজারে চাহিদা কমায় স্বস্তি এসেছে। পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ৩০-৪০ টাকা, আলু ১৫-১৮ টাকা, টমেটো ৩০-৪০ টাকা, শসা ৩৫-৫০ টাকা এবং বেগুন ৫০-৬০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। লেবুর দামও ২৫ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। অন্য সবজির মধ্যে করলা ৭০-৮০ টাকা, কাঁচামরিচ ৫০-৬০ টাকা, ফুলকপি ৩০-৪০ টাকা, বাঁধাকপি ৩০ টাকা, সিম ৪০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ৩০-৩৫ টাকা এবং গাজর ৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তবে বোতলজাত সয়াবিন তেলের বাজারে সরবরাহ সীমিত থাকার কারণে কিছুটা সংকট দেখা দিয়েছে। খুচরা বিক্রেতারা জানিয়েছেন, কোম্পানিগুলো চাহিদার তুলনায় কম সরবরাহ করছে, ফলে ক্রেতারা বড় বোতল কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।

বাজার পরিদর্শনকারীরা জানান, ঈদ উপলক্ষে ক্রেতাদের চাহিদার প্রভাবে মাংস, মসলা ও শুকনো ফলের দাম বেড়ে গেলেও সবজি ও ডিমের বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় থাকায় ক্রেতারা কিছুটা স্বস্তি অনুভব করছেন। এতে নগরবাসীর জন্য ঈদের কেনাকাটা আরও পরিচালনাযোগ্য হয়ে উঠেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত