বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১১৫ ডলার ছাড়ালো, গ্যাসের দামও আকাশছোঁয়া

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২৬
  • ৪ বার
বিশ্ববাজারে তেলের দাম

প্রকাশ: ২০ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ইরান-ইস্রায়েল সংঘাতের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে একের পর এক হামলার খবর আসার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম তাড়াহুড়োয় ঊর্ধ্বমুখী। বৃহস্পতিবার ভোরে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৫ ডলার ছাড়িয়েছে, যা এক সপ্তাহেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্য। একই সঙ্গে গ্যাসের আন্তর্জাতিক মূল্যও প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়ে গেছে, যা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি খাতের জন্য নতুন সতর্ক সংকেত হিসেবে ধরা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, তেহরানের চলমান প্রতিশোধমূলক হামলার কারণে হরমুজ প্রণালিতে তেল পরিবহনের বিপত্তি থাকলে তেলের দাম আরও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেতে পারে। মধ্যপ্রাচ্য বিশ্বের প্রধান তেল ও গ্যাস উৎপাদন এলাকা হিসেবে বিশ্ববাজারে সরবরাহ কমে গেলে এ ধরনের দাম বৃদ্ধির প্রভাব অবশ্যম্ভাবী।

ভান্ডা ইনসাইটসের প্রতিষ্ঠাতা বন্দনা হারি সাংবাদিকদের বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের মানদণ্ডে তেলের দাম ইতিমধ্যেই উমার ও দুবাই ক্রুডে ১৫০ ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে। এর ফলে ব্রেন্ট ও ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুড ২০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছানোও এখন আর দূরের বিষয় নয়।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, “বর্তমান পরিস্থিতি পুরোপুরি হরমুজ প্রণালির ওপেন বা ক্লোজ থাকার ওপর নির্ভর করছে। যদি প্রণালি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত আরো বেড়ে যেতে পারে।

বিশ্ববাজারের এ ধরনের অস্থিরতা বিশেষ করে তেল ও গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল দেশগুলোকে সরাসরি প্রভাবিত করছে। এ অবস্থায় এশিয়া, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে তেলের খুচরা মূল্যও ঊর্ধ্বমুখী হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিচ্ছেন, তেলের এমন দাম বৃদ্ধির কারণে পরিবহণ খাত, শিল্প উৎপাদন ও সাধারণ ভোক্তার জীবনযাত্রার ওপর চাপ আরও বেড়ে যাবে।

তেলের বাজারে এই উল্লম্ফন মূলত ইরান ও ইস্রায়েলের মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘর্ষের কারণে। ইরানের সাউথ পারস গ্যাসক্ষেত্রে ইস্রায়েল হামলা চালায়, এবং এরপর তেহরান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু করে। এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে এবং বিশ্ববাজারে ভীতি ও অস্থিরতার সৃষ্টি করছে।

বিশ্ববাজারে সরবরাহ শৃঙ্খল অক্ষত রাখতে হরমুজ প্রণালির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রণালি বিশ্বের ক্রুড তেলের এক প্রধান রুট, যা সৌদি আরব, ইরান, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে বিশ্বের বিভিন্ন অংশে তেল পৌঁছে দেয়। প্রণালি বন্ধ থাকলে সরবরাহ কমে যাবে এবং তেলের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পাবে।

বাজার বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, এই অস্থিরতা চলতে থাকলে শুধুমাত্র তেলের দাম নয়, গ্যাস, বিদ্যুৎ এবং শিল্প খাতের খরচও অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাবে। তেল ও গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল দেশের জন্য এ পরিস্থিতি একটি অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে কাজ করতে পারে।

বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে এখন আতঙ্ক এবং আগ্রাসনের প্রভাব স্পষ্ট। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরবরাহ শৃঙ্খল ঠিক রাখতে এবং দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা প্রয়োজন। এর পাশাপাশি খুচরা ও শিল্প খাতকে সম্ভাব্য মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিতে হবে।

এই অবস্থায় বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারের ওপর নজর রাখা এবং দ্রুত পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হরমুজ প্রণালির অবস্থা, মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা—এই তিনটি বিষয় এখন তেলের দাম ও গ্যাসের বাজারকে নির্ধারণ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত