ঈদ কেনাকাটায় চাঙ্গা অর্থনীতি, রেকর্ড লেনদেনের প্রত্যাশা

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২৬
  • ৫ বার
ঈদ কেনাকাটায় অর্থনীতি

প্রকাশ: ২০ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঈদকে সামনে রেখে দেশের বাজারে ক্রেতাদের উপস্থিতি যেন উৎসবের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান থেকে শুরু করে বড় বড় বিপণিবিতান, সবখানেই কেনাকাটার ব্যস্ততা চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে পোশাক, জুতা, গহনা ও অন্যান্য বিনোদন সামগ্রী ক্রেতাদের প্রাধান্য পাচ্ছে, আর এর প্রভাবে ব্যবসায়ীরা স্বস্তি ও আশার আলো দেখছেন। উৎসবকে ঘিরে দেশের অর্থনীতি চাঙ্গা হয়ে উঠেছে, এমনটাই মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

বাংলাদেশ দোকান মালিক ব্যবসায়ী সমিতির হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর ঈদকে ঘিরে লেনদেনের পরিমাণ ২ লাখ কোটি টাকা ছাড়াতে পারে। এটি গত সাত বছরের তুলনায় অভূতপূর্ব রেকর্ড হবে। সমিতির সভাপতি মো. নাজমুল হাসান মাহমুদ জানান, “নির্বাচনের পর থেকে বেচাকেনার ধারা ভালোভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঈদকে ঘিরে তা আরও জোরদার হয়েছে। আশা করছি এবার ব্যবসায় নতুন রেকর্ড স্থাপন হবে।

শহরের বাজারগুলো ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতারা কাপড়ের রঙ, গুণমান ও সেলাইয়ের খুঁটিনাটি বিষয় খেয়াল করে পোশাক কিনছেন। নতুন পোশাক পরার আনন্দ, পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার আকাঙ্ক্ষা—সব মিলিয়ে কেনাকাটাকে আরও উৎসবমুখর করছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এ ধরনের উৎসাহ তাদের জন্যও স্বস্তির। বিশেষ করে ঈদকে সামনে রেখে বিক্রি আগের তুলনায় অনেক বেশি।

বড় বড় শপিং মলের ব্যবসায়ী এবং স্থানীয় দোকানিরা জানিয়েছেন, এ বছর বিক্রির ধারা ইতিমধ্যেই গত বছরের তুলনায় ভালো। ইনফিনিটি মেগা মলের ভাইস চেয়ারম্যান নাইমুল হক খান বলেন, “নির্বাচনের পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত হয়েছে। তবে যানজট ও মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির খাতে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা গেলে ব্যবসার ধারা আরও ভালো হবে।”

অর্থনীতিবিদরা মনে করিয়ে দেন, দেশের বাজারকে ব্যবসাবান্ধব রাখতে চাঁদাবাজি বন্ধ করা, জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবীর বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত না হলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি পেত এবং ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতাও আরও ভালো হতো। তবুও সামগ্রিকভাবে এবার ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয়েছে।”

এবারের ঈদে বাজারে দেখা যাচ্ছে মিশ্র চিত্র। একদিকে ক্রেতাদের ভিড় এবং ব্যবসায়ীদের উৎসাহ, অন্যদিকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে কিছু অস্থিরতা। তবে সবমিলিয়ে বাজারে গতিশীলতা এবং লেনদেনের পরিমাণ বৃদ্ধির ধারা সুস্পষ্ট। ২০২৫ সালে ঈদুল ফিতরকে ঘিরে লেনদেন হয়েছিল প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা। এবার সেই পরিমাণ ২ লাখ কোটি টাকার আশেপাশে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে, যা দেশের অর্থনীতিকে একটি শক্তিশালী প্রণোদনা দেবে।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধারা বজায় রাখার জন্য প্রয়োজন কার্যকর ব্যবসায়িক পরিবেশ, জ্বালানি সংকট নিরসন, এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা কমানো। ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা একযোগে উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারলে দেশের অর্থনীতি আরও প্রাণবন্ত ও চাঙ্গা হয়ে উঠবে।

এসব প্রতিক্রিয়ার মধ্যে স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে, ঈদ কেবল ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য এবং অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সময়। ক্রেতাদের উপস্থিতি এবং উৎসবমুখর কেনাকাটার ধারা দেশের অর্থনীতিকে নতুন রেকর্ডের পথে এগিয়ে নিতে পারে, যা ব্যবসায়ীদের জন্য আশার আলো।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত