প্রকাশ: ২০ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ঈদকে ঘিরে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রপ্রেমীদের আগ্রহ প্রতি বছরই নতুন উচ্চতায় পৌঁছায়। সেই ধারাবাহিকতায় এবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘দম’। পোস্টার আর টিজারের পর অবশেষে প্রকাশ পেয়েছে সিনেমাটির অফিশিয়াল ট্রেলার, যা মুক্তির পর থেকেই দর্শকদের মধ্যে তৈরি করেছে কৌতূহল, উত্তেজনা এবং নতুন প্রত্যাশার ঢেউ।
ট্রেলারের সময়কাল মাত্র এক মিনিট বায়ান্ন সেকেন্ড হলেও এর ভিজ্যুয়াল, সংলাপ, আবহ এবং নির্মাণশৈলী এক ভিন্ন মাত্রার সিনেমার আভাস দিয়েছে। শুরুতেই প্রধান চরিত্রের ভয়েস ওভার, তারপর ধীরে ধীরে গল্পের বিস্তার—দেশ থেকে বিদেশে ছড়িয়ে থাকা এক সংগ্রামী জীবনের টানাপোড়েন—সব মিলিয়ে ট্রেলারটি দর্শকদের মনে গভীর ছাপ ফেলেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রেলার প্রকাশের পরপরই নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ বলছেন এটি হতে যাচ্ছে বছরের অন্যতম সেরা নির্মাণ, আবার কেউ নিশোর অভিনয়ের নতুন রূপ দেখে বিস্ময় প্রকাশ করছেন। দীর্ঘদিন ধরে ছোট পর্দায় জনপ্রিয়তা অর্জনের পর বড় পর্দায় নিজের অবস্থান শক্ত করার যে যাত্রা তিনি শুরু করেছেন, ‘দম’ যেন সেই যাত্রার আরও এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
এই সিনেমার সবচেয়ে বড় আকর্ষণগুলোর একটি হলো এর গল্প। নির্মাতা জানিয়েছেন, এটি একটি সত্য ঘটনার অনুপ্রেরণায় নির্মিত। বাস্তবতার সঙ্গে সিনেমাটিক কল্পনার মিশেলে তৈরি এই গল্পে উঠে এসেছে মানুষের টিকে থাকার লড়াই, অভিবাসন জীবনের কঠিন বাস্তবতা এবং মানবিক সম্পর্কের সূক্ষ্ম টানাপোড়েন।
গল্পের গভীরতা নিয়ে নির্মাতা যে মন্তব্য করেছেন, তা থেকেই বোঝা যায় এটি শুধু বিনোদনের জন্য নির্মিত কোনো সাধারণ সিনেমা নয়। বরং এটি এমন এক চলচ্চিত্র, যা দর্শকদের ভাবাবে, নাড়া দেবে এবং কিছু প্রশ্ন রেখে যাবে। তিনি বিশ্বাস করেন, বড় বাজেট বা তারকার সমাবেশ নয়, বরং গল্পের শক্তি আর নির্মাণের আন্তরিকতাই একটি সিনেমাকে সত্যিকার অর্থে সফল করে তোলে।
নিশোর চরিত্রটি নিয়ে ইতোমধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ট্রেলারে দেখা গেছে, তিনি এক ভিন্ন লুকে হাজির হয়েছেন। তার অভিব্যক্তি, সংলাপ বলার ধরন এবং শারীরিক ভাষা—সবকিছুতেই একটি পরিবর্তনের ইঙ্গিত স্পষ্ট। এটি প্রমাণ করে, তিনি নিজেকে বারবার ভেঙে নতুনভাবে গড়ে তুলতে আগ্রহী।
এর আগে তার অভিনীত কয়েকটি সিনেমায় দর্শক ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে তাকে দেখেছেন। কখনো তিনি ছিলেন গ্রামীণ প্রেক্ষাপটের সাধারণ যুবক, আবার কখনো অপরাধজগতে জড়িয়ে পড়া এক জটিল চরিত্র। ‘দম’-এ তিনি যেন আরও পরিণত, আরও গভীর এবং আরও বাস্তব এক চরিত্রে রূপ নিয়েছেন।
নায়িকা হিসেবে পূজা চেরীর উপস্থিতিও সিনেমাটিকে বাড়তি মাত্রা দিয়েছে। ট্রেলারে তার চরিত্রের ঝলক খুব বেশি না থাকলেও যে অল্প অংশ দেখা গেছে, তাতেই বোঝা যায় তার চরিত্রটি গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিনি নিজেও জানিয়েছেন, দর্শকদের প্রত্যাশা পূরণ করতে তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন।
সিনেমাটির আরেকটি বিশেষ দিক হলো এর নির্মাণমান। ট্রেলারের দৃশ্যধারণ, আলোকসজ্জা, লোকেশন নির্বাচন এবং সম্পাদনা—সবকিছুতেই একটি আন্তর্জাতিক মানের ছাপ রয়েছে। বিশেষ করে বিদেশের লোকেশনগুলোতে ধারণ করা দৃশ্যগুলো গল্পের পরিসরকে আরও বড় করে তুলেছে।
সংগীতও এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সিনেমাটিতে কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পীর একটি পুরোনো গান নতুনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা দর্শকদের মধ্যে একধরনের নস্টালজিয়া তৈরি করবে। পাশাপাশি নতুন গানগুলোও গল্পের আবহের সঙ্গে মানানসইভাবে তৈরি করা হয়েছে।
প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে জানানো হয়েছে, পাইরেসি রোধে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মুক্তির প্রথম কয়েক সপ্তাহ শুধুমাত্র সিনেপ্লেক্স ও মাল্টিপ্লেক্সে সিনেমাটি প্রদর্শনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত কিছুটা ব্যতিক্রমী হলেও বর্তমান বাস্তবতায় এটি একটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পে গত কয়েক বছরে যে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে, ‘দম’ সেই পরিবর্তনেরই একটি প্রতিফলন। গল্পনির্ভর সিনেমা, নতুন নির্মাণধারা এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রযুক্তির ব্যবহার—সব মিলিয়ে একটি নতুন যুগের সূচনা ঘটছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
দর্শকদের প্রত্যাশাও এখন অনেক বেশি। তারা শুধু বিনোদন নয়, বরং অর্থবহ গল্প দেখতে চান। ‘দম’ সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে। তবে ট্রেলার দেখে যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে, তা নিঃসন্দেহে সিনেমাটির জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ‘দম’ শুধুমাত্র একটি সিনেমা নয়, বরং এটি একটি অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে। যেখানে থাকবে সংগ্রাম, আবেগ, বাস্তবতা এবং জীবনের নানা রঙ। ঈদে মুক্তির অপেক্ষায় থাকা এই সিনেমাটি ইতোমধ্যেই দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছে। এখন শুধু অপেক্ষা বড় পর্দায় সেই গল্প দেখার।